শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে ডিসি অফিস এলাকায় ইউপি চেয়ারম্যান স্বপন মাহমুদের উপর হামলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২১, ৩:০৭ পিএম
চাঁদপুরে ডিসি অফিস এলাকায় ইউপি চেয়ারম্যান স্বপন মাহমুদের উপর হামলা
স্টাফ রিপোর্টার : রাজনৈতিক মামলার আসামী হিসেবে আদালতে হাজিরা দিতে এসে সন্তাসী হামলার শিকার হলেন চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের জনবান্ধব চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি স্বপন মাহমুদ।
ঘটনাটি ঘটেছে বৃহষ্পতিবার (১৮ নভেম্বর) দুপুরে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সন্মুখ রাস্তায়।
জানা যায়, বেশ কয়েক বছর পূর্বে রাজনৈতিক সহিংসতার নামীয় এজাহার ভুক্ত আসামী হিসেবে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উক্ত ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি স্বপন মাহমুদ নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী দলের জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও নেতাকর্মীরাসহ চাঁদপুর আদালতে হাজিরা দিতে আসেন।
আদালতে হাজিরা শেষে বাড়িতে যাওয়ার জন্য সিএনজি উঠবে এমন সময় কোনো কিছু বুজে উঠার আগেই বেশকজন যুবক দেশীয় অস্ত্র সস্ত্র নিয়ে উক্ত ইউপি চেয়ারম্যান স্বপন মাহমুদের উপর অর্তকিত হামলা চালালে তিনি আহত হন। তাৎক্ষণিক সাথে থাকা দলীয় নেতা-কর্মীদের বাঁধার মুখে তিনি বড় ধরনের আঘাত থেকে কিছুটা রক্ষা পান। ঘটনার পর পরই তিনি প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে চলে যান। এদিকে চেয়ারম্যান স্বপন মাহমুদের উপর হামলার খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়ার পর এক নজর দেখার জন্য দলীয় নেতৃবৃন্দসহ শত শত জনসাধারণ তার বাড়িতে ভিড় জমান।
খবর পেয়ে চাঁদপুর জেলা বিএনপির আহবায়ক শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, যুগ্ম আহবায়ক দেওয়ান মোঃ শফিকুজ্জান, পৌর বিএনপির সভাপতি আক্তার হোসেন মাঝি, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব ইব্রাহিম কাজী জুয়েল, উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজালাল মিশন, সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. জাহাঙ্গীর খান, সহ সভাপতি আবু তাহের খোকা, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক এমদাদুল হক মিলন, জেলা যুবদলের সভাপতি মানিকুর রহমান মানিক, সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. নুরুল আমিন খান আকাশ, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক সরোয়ার গাজী, যুগ্ম আহবায়ক নজরুল ইসলাম নজু, শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামাল মিজি, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ শফিক কবিরাজ, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন পাটওয়ারী, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ স্বপন মাহমুদের বাড়িতে যান।
আহত ইউপি চেয়ারম্যান স্বপন মাহমুদ হামলার বিষয়ে বলেন, গত ১১ নভেম্বর সমাপ্ত হওয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আমি স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে টেলিফোন প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করি। উক্ত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সরকারী দলের চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষে চাঁদপুর শহর থেকে একদল যুবক গেলে তাঁদের সাথে একটি কেন্দ্রের সন্মুখে  কথা কাটাকাটি হয়। ঐ ঘটনা কে কেন্দ্র করে তাঁরা আমার উপর ন্যাক্কারজনক ভাবে হামলা চালায়।
তিনি বলেন, আমি  একজন জনপ্রতিনিধি এখনো আছি। গেজেট প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত আমি চেয়ারম্যান এর দ্বায়িত্ব থাকবো। তিনি আরো বলেন, আমি উক্ত ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা এড়াতে এবং আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়ায় চাঁদপুর সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করি। কিন্তু এই নির্বাচনে এবং নির্বাচন পরবর্তী সময়ে মডেল থানার কোন ভূমিকা দেখছি না। এই নির্বাচনের সূত্র ধরে আমাকে বিভিন্ন লোকজন বিভিন্নভাবে হুমকি ধমকি দিয়ে আসছে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’