শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

‘জাগ্রত’৯৬ ব্যাচ মতলব উত্তরের উদ্যোগে বন্ধুদের মিলনমেলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ জুলাই, ২০২২, ৪:২১ পিএম
‘জাগ্রত’৯৬ ব্যাচ মতলব উত্তরের উদ্যোগে বন্ধুদের মিলনমেলা

মনিরুল ইসলাম মনির : জাগ্রত’৯৬ ব্যাচ মতলব উত্তর, চাঁদপুর এর উদ্যোগে গত ১৫জুলাই, ২০২২ইং তারিখ রোজ শুক্রবার এখলাসপুর বকুল তলায় বেলা ১১.০০ হইতে মতলব ৯৬ ব্যাচের বন্ধুদের জাঁকজমকপূর্ণ এক মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত মিলনমেলায় জনাব মোঃ ইঞ্জিনিয়ার আনিছুর রহমানের কোরআন তেলোয়াতের মাধ্যমে এবং জনাব মোঃ শফিকুল ইসলাম শিপুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু করা হয় ।

উক্ত অনুষ্ঠানে মতলবের ৯৬ ব্যাচের প্রায় শতাধিক সহপাঠীরা অংশগ্রহণ করে। অনুষ্ঠানে জাগ্রত’৯৬ ব্যাচ মতলব উত্তরের সকল বন্ধুদের মধ্যে পরিচয় পর্ব করা হয় এবং সদস্য ফরম বিতরণ ও পূরণ করা হয়। জাগ্রত’৯৬ এর অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা জনাব মোঃ আনিসুর রহমান খান এবং নাসির উদ্দিন এর সদস্য ফরম জমা গ্রহনের মাধ্যমে সংগঠনের সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করা হয়।

এ সময় তারা বিভিন্ন খেলাধুলা, হাসি-আনন্দ এবং সাঁতার প্রতিযোগিতা মেতে উঠে। জুম্মার নামাজ এবং মধ্যাহ্নভোজের পর নৌ ভ্রমণে সংগঠনের অন্যতম উদ্যোক্তা জনাব মোঃ রাসেদ সরকার ও মোঃ রাসেল মাহমুদের যৌথ সঞ্চালনায় একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত আলোচনা সভায় গঠনতন্ত্র প্রনয়ণ কমিটির পক্ষ থেকে সংগঠনের অন্যতম উদ্যোক্তা জনাব মোঃ নাসির উদ্দীন সকলের মতামতের জন্য গঠন্তন্ত্রের একটি পূর্ণাঙ্গ কপি প্রকাশ করেন।

Model Hospital

অনুষ্ঠানের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য , গঠনতন্ত্র এবং বিভিন্ন বিষয়ে দিক নির্দেশনা মূলক বক্তব্য রাখেন জাগ্রত ‘৯৬ ব্যাচ মতলব উত্তরের অন্যতম সংগঠক মোঃ আনিসুর রহমান খান, মোঃ নাসির উদ্দীন, মোঃ রাশেদ সরকার, মোঃ আলমগীর হোসেন দীপু, ইন্জিনিয়ার মোঃ জামাল হোসেন নাহিদ, এ্যাডভোকেট ইসমাঈল হোসেন, মোঃ আল মামুন ও মোঃ নজীবুল্লাহ লিংকন, জালাল উদ্দিন ভূঁইয়া, এসে এম রাসেল বাবু, নাজমুল হক সুমন, ইসমাইল খান টিটু, মহসিন মাস্টার, আল মামুন, ফয়সাল আহমেদ সোহেল, ইন্জিনিয়ার আনিছুর রহমান, সমীর চন্দ্র দেবনাথ, মোঃ রহিম দেওয়ান সহ আরো অনেক বক্তারা এসময় বক্তব্য তুলে ধরেন। জাগ্রত ‘৯৬ ব্যাচ মতলব উত্তরের বন্ধুদের সুখে-দুঃখে , সেবায়, কল্যানে সারা জীবন পাশে থেকে কাজ করে মহান আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন করাই হলো সংগঠনের একমাত্র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং এই সংগঠনটি হবে সম্পূর্ণরুপে একটি অরাজনৈতিক, অসম্প্রদায়িক ও ধর্ম-নিরপেক্ষ একটি সংগঠন। এই সংগঠনের বন্ধুত্বের মধ্যে কোনো ধরনের মত-পার্থ্ক্য, বৈষম্য থাকবেনা এবং বন্ধুত্বের বন্ধন যাতে অটুট থাকে আজীবন । এসময় ১৯৯৬ ব্যাচের চাঁদপুর থেকে আগত মোঃ আনোয়ার ইমাদ, মোঃ শামীম, এবং ঢাকা থেকে আগত মোঃ টিপু সুলতান ও মামুন সহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জাগ্রত ‘৯৬ ব্যাচের বন্ধুদের সুখে-দুঃখে , সেবায়, কল্যানে সারা জীবন পাশে থেকে কাজ করে মহান আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন করাই হলো সংগঠনের একমাত্র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মর্মে সংগঠনের সকল বন্ধুরা সর্বোচ্চ ত্যাগ,ভালবাসা ও সহমর্মিতার সপথ নিয়ে প্রত্যয় ব্যাক্ত করেন এবং সভায় সবার সম্মতিতে সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুমোদন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোঃ শফিকুল ইসলাম শিপু, অনুষ্ঠান আয়োজনে এখলাছপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের যেসকল বন্ধুরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন তাদেরকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সভার মূলতবি ঘোষনা করেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’