সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

হাইমচর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানীসহ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৭ আগস্ট, ২০২২, ১০:৪৬ এম
হাইমচর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানীসহ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
মোঃ সাজ্জাদ হোসেন রনি : হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. বেলায়েত হোসেন এর বিরুদ্ধে নার্স এবং নার্সের মেয়েকে যৌন হয়ারানী করার অভিযোগসহ নার্সদের টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে নানা রকম দূর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।
গত ৩ আগষ্ট বুধবার সিনিয়র নার্স  ও সহকারী আরেক নার্স এর মেয়ে চাঁদপুর সিভিল সার্জন অফিসার বরাবর যৌন হয়রানী ও নার্সদের টাকা আত্মসাৎ করার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সিনিয়র নার্স গীতা রানীর মেয়ে কলেজ শিক্ষার্থী পূজা (১৭) এর সাথে হাইমচর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকতা ডা. মোঃ বেলায়েত হোসেনের পরিচয় হওয়ার পর তার ফোন নাম্বার চায়। এতে পূজা নাম্বার দিতে নারাজ হলে এক পর্যায়ে তিনি জোরপূর্বক পূজার মোবাইল নাম্বার নেন। মোবাইল নাম্বার নেয়ার পর থেকে তিনি হোয়াটসঅ্যাপ ও ম্যাসেঞ্জারে ফোন দিয়ে অশ্লীল কুরুচিপূর্ন কথা বার্তা বলেন। তিনি অসংখ্যবার ভিডিও কল দিয়ে নগ্ম অবস্থায় অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করেন এবং পূজাকে নগ্ম হতে বলেন। এমনকি ভিডিও কলে শারীরিক সম্পর্কও স্থাপন করতেও বলেন তিনি। পূজা তার কথামত অশ্লীল কাজ করতে না চাইলে তিনি তার বাসায় যেতে বলেন। পঃপঃ কর্মকর্তার স্ত্রী বাসায় না থাকলেই তিনি পূজাকে বাসায় যেতে জোর করেন। তার কোন কথায় রাজি না হওয়ায় পঃপঃ কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন পূজাকে হুমকি দিয়ে বলেন, সে যদি এসকল কথা কারো কাছে বলে এবং তার ডাকে সারা না দেয়, তার বাসায় না যায় তাহলে তার মাতা সিনিয়র নার্স গীতা রানীকে অন্যত্র বদলী করে দেওয়ার হুমকি দেন।
হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পঃপঃ কর্মকর্তা ডা. মো. বেলায়েত হোসেনের যৌনহয়রানীতে পূজা মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তিনি পঃপঃ কর্মকর্তা ডা. মো. বেলায়েত হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য অনুরোধ জানান। এছাড়াও সিনিয়র নার্স উম্মে হাবিবা সিভিল সার্জন বরাবর অভিযোগ করেন
সে অভিযোগে জানা যায়, ২০১৬ সালে নিয়াগকৃত একজন সিনিয়র স্টাফ নার্স তিনি। তিনি অভিযোগে বলেন, ফাইজার ভ্যাকসিন দেওয়ার কারনে সরকার ৮জন নার্সকে ২৪ হাজার টাকা করে মোট ১লাখ ৯২ হাজার টাকা প্রদান করেন। ৮ জন নার্সকে বেলায়েত হোসেন ৪৮ হাজার টাকা দিয়ে বাকি টাকা অফিস খরচ বাবদ কেটে রাখেন। এছাড়া তিনি ফেসবুক, ম্যাসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে কুরুচিপূর্ন কথা বলে বিভ্রত করেন। অফিস অথবা ওয়ার্ডের কাজে বা তার অফিসে গেলে তার দৃষ্টিভঙ্গি আপত্তিকর কথা বার্তা শুনতে হয়। যার ফলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সকল নার্সরা স্যারের অফিস রুমে যেতে ভয় পায়। পঃ পঃ কর্মকর্তার যৌনহয়রানীর কারনে নার্সরা হাসপাতালে মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে পারছে না।
অভিযোগকারি পূজা বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএস বেলায়েত হোসেন এ হাসপাতালে আসার পর থেকেই তিনি আমাকে বিভিন্ন ভাবে বিরক্ত করতেন। একদিন জোর করে আমার থেকে আমার মোবাইল নাম্বার নিয়ে আমাকে কুরুচিপূর্ন কথা বলতেন। আমি ওনার সাথে কথা বলতে না চাইলে তিনি আমার মাকে অন্যকোথাও বদলি করে দিবেন বলে আমাকে ভয় দেখাতেন। তার ভয়ে আমি তার সকল প্রকার যৌন হয়রানি মুখ সহ্য করেছি। কিন্তু এখন এমন পর্যায়ে গিয়ে দাড়িয়েছে তিনি প্রতিদিন আমাকে তার বাসায় যেতে বলেন, বাসায় না গেলে তিনি ভিডিও কল দিয়ে তার জামাকাপড় খুলে আমাকে দেখান এবং আমার শরীরের জামাকাপড় খুলে তাকে দেখাতে বলেন। আমি তার অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে সবাইকে জানাতে বাধ্য হয়েছি। এ বিষয়ে আমি গত বুধবার চাঁদপুর জেলা সিভিল সার্জন অফিসে গিয়ে লিখিত ও ভিডিও বক্তব্য সহ অভিযোগ দিয়ে এসেছি।
অভিযোগকারি নার্স উম্মে হাবিবা বলেন, পঃপঃ কর্মকর্তা ডা. মো. বেলায়েত হোসেন আমার ফেসবুকের বিভিন্ন পোস্টে কুরুচিপূর্ন মন্তব্য করেন। যার ফলে আমার পরিবারে অশান্তি সৃস্টি হয়েছে। আমি ফেসবুকে কোন পোস্ট করলেই তিনি বাজে মন্তব্য করায় পোস্ট গুলো ডিলেট করতে বাধ্য হই। তাছাড়া তিনি সরসরি আমাকে দেখলেও অশ্লীন ভাষায় মন্তব্য করেন। তিনি আমাদের নার্সদের ভ্যাকসিন দেওয়ার টাকা অফিস খরচ দেখিয়ে নিজে তা আত্মসাৎ করেছেন। এসকল বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে আমি চাঁদপুর জেলা সিভিল সার্জনের নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।
এ বিষয়ে ডা. বেলায়েত হোসেন বলেন- আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ হয়েছে সেটা আমি জানি না। কিছুক্ষণ আগে সিভিল সার্জন অফিস থেকে এসেছি, উর্ধতন কর্তৃপক্ষ আমাকে এ বিষয়ে কিছুই বলে নাই। হাসপাতালে এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডে আমি জড়িত নয়।
চাঁদপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা.শাহাদাত হোসেন এর নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, আমার দপ্তরে হাইমচর থেকে দুটি অভিযোগ এসেছে। অভিযোগের বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কি ব্যবস্থা নেন সে বিষয়ে আমরা অপেক্ষায় আছি।

শাহতলীতে মিনি ফুটবল টুর্ণামেন্টের উদ্বোধন

যুবসমাজকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই : সোহেল রুশদী

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:২০ পিএম
যুবসমাজকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই : সোহেল রুশদী

বিকেলে শাহতলী এক্সপ্রেস ক্লাবের আয়োজনে মিনি ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী।

চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের শাহতলী এক্সপ্রেস ক্লাবের আয়োজনে মিনি ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করা হয়েছে।
৪অক্টোবর (সোমবার) বিকেল ৪টায় শাহতলী জিলানী চিশতী কলেজ মাঠে বেলুন উড়িয়ে মিনি ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন ও প্রধান অতিথি’র বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও জিলানী চিশতী কলেজ গভনিং বডির সভাপতি সোহেল রুশদী।
তিনি বক্তব্যে বলেন, আজকের ফুটবল টুর্ণামেন্ট খেলায় ৩২টিম রয়েছে। খেলা যাতে সুন্দরভাবে-সু-শৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে তোমরা একটা শৃঙ্খলা কমিটি করতে পার। ফুটবল খেলায় রেফারির ভূমিকা অনেক৷ রেফারি যে সিদ্ধান্ত দিবে তা মেনে নিতে হবে৷ খেলায় হার জিৎ থাকবে।
তিনি বলেন, আমাদের মাদক বিরোধী অভিযান চলমান রয়েছে। যেখানেই মাদক ব্যবসায়ী ধরা হচ্ছে, আমরা সেখানে পুলিশ পাঠাচ্ছি। মাদকের বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্স। মাদক থেকে যুব সমাজকে সঠিক পথে আনার মাধ্যম হচ্ছে খেলাধূলা। খেলাধূলার শরীর ও মন ভালো থাকে। মাদক সেবী ও ব্যবসায়ীদের ধরতে হবে, পাশাপাশি তাদের পুনবার্সন করতে হবে। আমরা সবাই চাই শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নকে মাদক মুক্ত করতে। আমরা সকলে মিলে একটি সুন্দর ইউনিয়ন গড়ব৷
তিনি আরো বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটে এবং তারা বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকে। যুবসমাজকে সুস্থ ও সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই।
৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি মো: মোশারফ কারীর পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন  চাঁদপুর  সদর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি বাকের খন্দকার, ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান স্বপন মাহমুদ, জিলানী চিশতী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: মোহসীন উদ্দিন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবলু, দেলোয়ার হোসেন দুলু, ২৯নং উত্তর শাহতলী যোবাইদা বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো: দিদার হোসেন মিজি, ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আজিজ মিজি, ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সভাপতি জহিরুল ইসলাম বেপারী, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো: মজিব কারী, চাঁদপুর সদর উপজেলা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক মো: শান্ত গাজী, ভাটেরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ ইব্রাহীম খলিলসহ স্থানীয় বিএনপি, যুবদল,ছাত্রদল ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী দিনে ছয়টি দল অংশগ্রহণ করে। দিনটিতে মোট তিনটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম ম্যাচে মিজি এফসি ও চাঁদপুর এফসি, দ্বিতীয় ম্যাচে চৌধুরী এফসি ও দুরন্ত বাবুরহাট এবং তৃতীয় ম্যাচে একতা স্পোর্টিং ও বাবুরহাট পরস্পরের মুখোমুখি হয়।
স্থানীয় যুবসমাজকে খেলাধুলামুখী করা এবং মাদক ও বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ থেকে দূরে রাখার লক্ষ্যেই এ ধরনের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান আয়োজকরা।
এছাড়াও শাহতলী ফুটবল টুর্নামেন্টের খেলোড়ারদের জন্য একটা ফুটবল তুলে দেন চাঁদপুর প্রেস ক্লাব সভাপতি ও জিলানী চিশতী কলেজ গভনিং বডির সভাপতি সোহেল রুশদী।