বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

শাহরাস্তি ইউথ ফোরামের ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ

শাহরাস্তি থানা মাদক ও অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে : ওসি মীর মাহবুবুর রহমান

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২৫ এম
শাহরাস্তি থানা মাদক ও অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে : ওসি মীর মাহবুবুর রহমান

‘সুস্থ দেহে সুন্দর মন, গড়ে তোলে ক্রীড়াঙ্গন’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে তরুণ ও যুবসমাজকে মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করেছে শাহরাস্তি ইউথ ফোরাম।

উপজেলার কুলশী বটতলায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় তরুণ ও যুবকদের হাতে বিভিন্ন ধরনের ক্রীড়া সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। শাহরাস্তি ইউথ ফোরামের বাস্তবায়নে এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মোঃ নুরুজ্জামান ভূঁইয়া প্রিন্সের সহযোগিতায় এ আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শাহরাস্তি ইউথ ফোরামের সভাপতি ইঞ্জিঃ মোঃ ইমতিয়াজ সিদ্দিকী তোহা। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন স্বপনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান।

তিনি তার বক্তব্য বলেন, প্রধান অতিথির বক্তব্যে শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, মাদক একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে ধ্বংস করে দেয়। তরুণদের মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত খেলাধুলা করলে শরীর ও মন সুস্থ থাকে, শৃঙ্খলাবোধ তৈরি হয় এবং নেতৃত্বের গুণাবলি বিকশিত হয়।

Model Hospital

অভিভাবক, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করতে আরও সক্রিয় হতে হবে। শাহরাস্তি থানা মাদক ও অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। পাশাপাশি তরুণদের জন্য ইতিবাচক ও সৃজনশীল পরিবেশ তৈরিতে এ ধরনের উদ্যোগকে আমরা সবসময় উৎসাহিত করব।বক্তারা বলেন, তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের বিকল্প নাই।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শাহরাস্তি মডেল থানার তদন্ত ওসি রফিকুল ইসলাম, শাহরাস্তি পৌরসভা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ বেলায়েত হোসেন সেলিম, শাহরাস্তি প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ মাসুদ রানা, শাহরাস্তি পৌরসভা যুবদলের আহ্বায়ক জাকির হোসেন নয়ন, টামটা দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ, শাহরাস্তি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নোমান হোসেন আখন্দ ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুব হাসান বাবলু।

আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাহরাস্তি ইউথ ফোরামের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন পাটওয়ারী, টামটা দক্ষিণ ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুল মোমেন শিকদার এবং মেহের ডিগ্রি কলেজের সাবেক প্রভাষক আরিফুর রহমান।

এ সময় শাহরাস্তি ইউথ ফোরামের সহ-সভাপতি মোঃ বোরহান উদ্দিন মিয়াজি, মাওলানা কামরুল হাসান বাবু, ফিরোজ আহমদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল মোহন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ শরিফুল ইসলাম, ক্রীড়া সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক আরফিন রবিন, কার্যকরী সদস্য শাখাওয়াত হোসেন হৃদয় ও রিশাদ ইসলামসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। নিয়মিত খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি তাদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতার মানসিকতা তৈরি হয়। এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার ওপরও তারা গুরুত্বারোপ করেন।

সেজেছে প্রতিমা, কচুয়ায় ৩৯ পূজামণ্ডপে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

আবু সাঈদ, কচুয়া প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৮ পিএম
সেজেছে প্রতিমা, কচুয়ায় ৩৯ পূজামণ্ডপে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

কচুয়ার কোয়া পোদ্দার বাড়ির দুর্গাপ্রতিমার মাটির কাজ শেষে রং-তুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে দেবীর অপরূপ রূপ।

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় ৩৯টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে অধিকাংশ মণ্ডপে প্রতিমা নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। এখন রঙের শেষ আঁচড়ে দেবী দুর্গাসহ অন্যান্য প্রতিমাকে সাজিয়ে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিল্পীরা।
মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীপক্ষের সূচনা হয়েছে। দুর্গোৎসবের ক্ষণ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে ভক্তদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা। প্রতিমার সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে দিন-রাত পরিশ্রম করছেন প্রতিমাশিল্পীরা। মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা ও পূজার আনুষঙ্গিক প্রস্তুতি।
পূজার নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীতে দেবীর বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে মূল আনুষ্ঠানিকতা। এরপর ১৭ ও ১৮ অক্টোবর মহাসপ্তমী, ১৯ অক্টোবর মহাষ্টমী, ২০ অক্টোবর মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের দুর্গোৎসব। প্রচলিত পঞ্জিকা অনুযায়ী, এ বছর দেবীর আগমন ঘোটকে এবং গমন নৌকায়।
পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, কচুয়া উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় মোট ৩৯টি পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসব উদযাপিত হবে। এসব মণ্ডপের মধ্যে উপজেলা পরিষদসংলগ্ন কোয়া পোদ্দার বাড়ির সর্বজনীন দুর্গাপূজা মণ্ডপ অন্যতম প্রাচীন। এ বছর এ মণ্ডপে ১৪৬তম শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনের প্রস্তুতি চলছে।
প্রতিমাশিল্পী কালু গোস্বামী ও বাবুল কারিগর জানান, প্রতিমা নির্মাণের মূল কাজ শেষ করে এখন রঙের মাধ্যমে দেবীকে নান্দনিক রূপ দেওয়ার কাজ চলছে। শেষ মুহূর্তে কাজের চাপ বেশি থাকলেও প্রতিমার সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন তাঁরা। তাঁদের ভাষায়, দেবীকে সুন্দরভাবে সাজিয়ে তুলতে পারলেই শিল্পী হিসেবে মনের মধ্যে প্রশান্তি আসে।
পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি ফণিভূষণ মজুমদার তাপু ও সাধারণ সম্পাদক বিকাশ সাহা বলেন, উপজেলার ৩৯টি পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসব উদযাপনের প্রস্তুতি চলছে। প্রতিমাশিল্পীরা শেষ মুহূর্তের রং-তুলির কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে। সবার সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপন করা সম্ভব হবে বলে তাঁরা আশা প্রকাশ করেন।
কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত রায় বলেন, প্রতিটি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হবে। পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর টহল থাকবে। ঝুঁকিপূর্ণ পূজামণ্ডপগুলোতে বিশেষ নজরদারি রাখা হবে, যাতে নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপন করা যায়।
কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল ইসলাম বলেন, উপজেলার ৩৯টি পূজামণ্ডপে সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নে দুর্গোৎসব উদযাপন নিশ্চিত করতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও সর্বজনীন উৎসব নিশ্চিত করতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।