সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

হাইমচরে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানীর অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৭ আগস্ট, ২০২২, ১:০৭ পিএম
হাইমচরে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানীর অভিযোগ
মোঃ সাজ্জাদ হোসেন রনি : হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. বেলায়েত হোসেন এর বিরুদ্ধে নার্স এবং নার্সের মেয়েকে যৌন হয়ারানী করার অভিযোগসহ নার্সদের টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে নানা রকম দূর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।
গত ৩ আগষ্ট বুধবার সিনিয়র নার্স ও সহকারী আরেক নার্স এর মেয়ে চাঁদপুর সিভিল সার্জন অফিসার বরাবর যৌন হয়রানী ও নার্সদের টাকা আত্মসাৎ করার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সিনিয়র নার্স গীতা রানীর মেয়ে কলেজ শিক্ষার্থী পূজা (১৭) এর সাথে হাইমচর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকতা ডা. মোঃ বেলায়েত হোসেনের পরিচয় হওয়ার পর তার ফোন নাম্বার চায়। এতে পূজা নাম্বার দিতে নারাজ হলে এক পর্যায়ে তিনি জোরপূর্বক পূজার মোবাইল নাম্বার নেন। মোবাইল নাম্বার নেয়ার পর থেকে তিনি হোয়াটসঅ্যাপ ও ম্যাসেঞ্জারে ফোন দিয়ে অশ্লীল কুরুচিপূর্ন কথা বার্তা বলেন। তিনি অসংখ্যবার ভিডিও কল দিয়ে নগ্ম অবস্থায় অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করেন এবং পূজাকে নগ্ম হতে বলেন। এমনকি ভিডিও কলে ভার্চুয়াল কাজ করতেও বলেন তিনি। পূজা তার কথামত অশ্লীল কাজ করতে না চাইলে তিনি তার বাসায় যেতে বলেন। পঃপঃ কর্মকর্তার স্ত্রী বাসায় না থাকলেই তিনি পূজাকে বাসায় যেতে জোর করেন। তার কোন কথায় রাজি না হওয়ায় পঃপঃ কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন পূজাকে হুমকি দিয়ে বলেন, সে যদি এসকল কথা কারো কাছে বলে এবং তার ডাকে সারা না দেয়, তার বাসায় না যায় তাহলে তার মাতা সিনিয়র নার্স গীতা রানীকে অন্যত্র বদলী করে দেওয়ার হুমকি দেন।
হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পঃপঃ কর্মকর্তা ডা. মো. বেলায়েত হোসেনের যৌন হয়রানীতে পূজা মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তিনি পঃপঃ কর্মকর্তা ডা. মু বেলায়েত হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য অনুরোধ জানান। এছাড়াও সিনিয়র নার্স উম্মে হাবিবা সিভিল সার্জন বরাবর অভিযোগ করেন।
সে অভিযোগে জানা যায়, ২০১৬ সালে নিয়াগকৃত একজন সিনিয়র স্টাফ নার্স তিনি। তিনি অভিযোগে বলেন, ফাইজার ভ্যাকসিন দেওয়ার কারনে সরকার ৮জন নার্সকে ২৪ হাজার টাকা করে মোট ১লাখ ৯২ হাজার টাকা প্রদান করেন। ৮ জন নার্সকে বেলায়েত হোসেন ৪৮ হাজার টাকা দিয়ে বাকি টাকা অফিস খরচ বাবদ কেটে রাখেন। এছাড়া তিনি ফেসবুক, ম্যাসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে কুরুচিপূর্ন কথা বলে বিভ্রত করেন। অফিস অথবা ওয়ার্ডের কাজে বা তার অফিসে গেলে তার দৃষ্টিভঙ্গি আপত্তিকর কথা বার্তা শুনতে হয়। যার ফলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সকল নার্সরা স্যারের অফিস রুমে যেতে ভয় পায়। পঃ পঃ কর্মকর্তার যৌনহয়রানীর কারনে নার্সরা হাসপাতালে মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে পারছে না।
চাঁদপুর জেলা সিভিল সার্জন অফিসে গিয়ে লিখিত ও ভিডিও বক্তব্য সহ অভিযোগ দিয়ে এসেছি।
অভিযোগকারি নার্স উম্মে হাবিবা বলেন, পঃপঃ কর্মকর্তা ডা. মো. বেলায়েত হোসেন আমার ফেসবুকের বিভিন্ন পোস্টে কুরুচিপূর্ন মন্তব্য করেন। যার ফলে আমার পরিবারে অশান্তি সৃস্টি হয়েছে। আমি ফেসবুকে কোন পোস্ট করলেই তিনি বাজে মন্তব্য করায় পোস্ট গুলো ডিলেট করতে বাধ্য হই। তাছাড়া তিনি সরসরি আমাকে দেখলেও অশ্লীল ভাষায় মন্তব্য করেন। তিনি আমাদের নার্সদের ভ্যাকসিন দেওয়ার টাকা অফিস খরচ দেখিয়ে নিজে তা আত্মসাৎ করেছেন। এসকল বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে আমি চাঁদপুর জেলা সিভিল সার্জনের নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।
এ বিষয়ে ডা. বেলায়েত হোসেন বলেন- আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ হয়েছে সেটা আমি জানি না। কিছুক্ষণ আগে সিভিল সার্জন অফিস থেকে এসেছি, উর্ধতন কর্তৃপক্ষ আমাকে এ বিষয়ে কিছুই বলে নাই। হাসপাতালে এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডে আমি জড়িত নয়, এ ব্যাপারে চাঁদপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা.শাহাদাত হোসেন এর নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, আমার দপ্তরে হাইমচর থেকে দুটি অভিযোগ এসেছে।
অভিযোগের বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কি ব্যবস্থা নেন সে বিষয়ে আমরা অপেক্ষায় আছি।

চাঁদপুরে আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক 

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৫ এম
চাঁদপুরে আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক 

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা তামজিদ মৃধা

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে পুলিশের অভিযানে আটক হওয়া নিষিদ্ধঘোষিত ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতিকে ছাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদসহ ইউনিয়ন বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে। এঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ এলাকাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বইছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আশ্বিনপুর মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ছাড়িয়ে নেওয়া নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ওই নেতার নাম তামজিদ হাসান মৃধা (৩২)। তিনি মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি। তামজিদ মৃধা ওই ইউনিয়নের আশ্বিনপুর গ্রামের মৃত আবদুল আউয়াল বাচ্চু মৃধার ছেলে। তার দুই ভাই বিএনপির রাজনীতির সাথে জরিত। এক ভাই তোফায়েল মৃধা উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং আরেক ভাই আলম মৃধা ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক।
তামজিদ মৃধার বিরুদ্ধে মতলব দক্ষিণ থানায় ২০২৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে।
​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আশ্বিনপুর মাদ্রাসার সামনে থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন শাখার সভাপতি তামজিদ হাসান মৃধাকে আটক করে পুলিশ। খবর পেয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শরীফ পাটোয়ারী, উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং আটক তামজিদ মৃধার বড় ভাই তোফায়েল মৃধা, আরেক ভাই ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক আলম মৃধাসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে তাঁরা পুলিশকে চাপ দিয়ে আটক ছাত্রলীগ সভাপতিকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। এ ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীসহ এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় বইছে।
​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিএনপির নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী জানান, আটক তামজিদ মৃধার কাছ থেকে মাদক উদ্ধার করা হলেও সবকিছু জেনে শুনে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তাঁকে ছাড়িয়ে নেন বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদ। এর ফলে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এলাকাবাসীর দাবি, গত ৫ আগস্টের পর থেকে এই বিএনপি নেতা সরকারি গাছ বিক্রি, সরকারি চাল আত্মসাৎসহ নানা ধরনের অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন। মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দের কাছে বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্ত করে অবিলম্বে আবুল কালাম আজাদসহ তার সহযোগীদের দল থেকে বহিষ্কারের জোর দাবি জানান তারা।
​ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে মতলব দক্ষিণ থানা এসআই দেলোয়ার হোসেন জানায়, অভিযান চালানোর সময় তানজিদ মৃধাকে আটক করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ এসে তাঁকে নিয়ে যান। তবে তাৎক্ষণিক তামজিদ মৃধা যে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আমরা তা শনাক্ত করতে পারেনি। পরে বিষয়টি জানা গেছে সে ছাত্রলীগ নেতা।
​অভিযোগের বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, তামজিদ মৃধাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার সময় আমি ছিলাম না। তার ভাই তোফায়েল মৃধা ও আলম মৃধা তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিয়েছে। আমি পরে গিয়ে জানতে পেরেছি পুলিশ তাকে ছেড়ে দিয়েছে।