বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

ছুটি নেননি, কর্মস্থলেও অনুপস্থিত

কচুয়ায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দম্ভোক্তি ‘যা ইচ্ছা লিখেন, কী করতে পারেন দেখি’

মোঃ রাছেল, কচুয়া প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৮ পিএম
কচুয়ায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দম্ভোক্তি ‘যা ইচ্ছা লিখেন, কী করতে পারেন দেখি’

কচুয়া সদর ৭নং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র। ইনসেটে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা মোঃ সেলিম আল মামুনের ফাইল ফটো।

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার ৭ নম্বর সদর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা মো. সেলিম আল মামুনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ উঠেছে। ছুটিতে থাকার কথা জানানো হলেও তিনি বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এদিকে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে না পেয়ে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় এক বছর ধরে তিনি নিয়মিতভাবে নিজ কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন না। তবে সপ্তাহের বুধবার ও বৃহস্পতিবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালন করেন বলে জানা গেছে। অন্য কর্মদিবসগুলোতে ৭ নম্বর সদর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে তার উপস্থিতি না থাকার অভিযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে গত ১০ থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তার উপস্থিতি যাচাইয়ের চেষ্টা করা হয়। এ সময় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। উপস্থিতি রেজিস্টারেও তার স্বাক্ষর পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদকের পর্যবেক্ষণে জানা গেছে।

স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অফিস সহায়ক জসিম উদ্দিন জানান, সেলিম আল মামুন ছুটিতে রয়েছেন এবং অসুস্থতার কারণে ঢাকায় অবস্থান করছেন। তবে তার ছুটির আবেদনপত্র দেখতে চাইলে অফিস সহায়ক তা দেখাতে পারেননি। এ ছাড়া অফিস সহায়ককে দিয়ে নিজের চেম্বারের কার্যক্রম পরিচালনা করানোর অভিযোগও রয়েছে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

Model Hospital

স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী জানান, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিতে এসে অনেক সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে পাওয়া যায় না। ফলে তাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের চিকিৎসার জন্য দূরের কোনো প্রতিষ্ঠানে যেতে হলে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হয়।

এদিকে, অফিস সহায়ক জসিম উদ্দিনের মাধ্যমে সেলিম আল মামুনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানান। তবে ঘটনার দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

কর্মস্থলে অনুপস্থিতি ও ছুটির বিষয়ে জানতে চাইলে সেলিম আল মামুন বক্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, “আপনাদের যা ইচ্ছা তাই লিখেন দেখি আমার কী করতে পারেন।” এ ছাড়া সাংবাদিকদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পরে অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

এ বিষয়ে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সোহেল রানা বলেন, উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা সেলিম আল মামুন কোনো ছুটি নেননি। সদর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তিন দিন অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ জাতীয়করণে ডিও লেটার দিয়েছি, হোস্টেল ও নতুন ভবনও হবে: এমপি মমিনুল হক

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪১ পিএম
হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ জাতীয়করণে ডিও লেটার দিয়েছি, হোস্টেল ও নতুন ভবনও হবে: এমপি মমিনুল হক

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজকে জাতীয়করণ করতে ইতোমধ্যে ডিও লেটার দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মো. মমিনুল হক। একই সঙ্গে কলেজে ছাত্র ও ছাত্রীদের জন্য পৃথক হোস্টেল, নতুন একাডেমিক ভবন এবং বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া কলেজের হীরকজয়ন্তী উদ্‌যাপনেও সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দেন এই সংসদ সদস্য।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর ২০২৬) হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ইঞ্জিনিয়ার মো. মমিনুল হক বলেন, “হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের পরিবেশ এত সুন্দর, এখানে না এলে তা জানতেই পারতাম না। কলেজের পরিবেশ দেখে আমি সত্যিই অভিভূত। এ কলেজকে জাতীয়করণ করতে ইতোমধ্যে ডিও লেটার দিয়েছি। শিক্ষার্থীদের আবাসন, নতুন একাডেমিক ভবন ও বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী চাঁদপুরে আসার সময় হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজকে জাতীয়করণের বিষয়ে কথা বলার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। পরে প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শক্রমে কলেজটি জাতীয়করণের জন্য ডিও লেটার দেন।

Model Hospital

কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মোযাম্মেল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনে আল জাহেদ হোসেন, উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব এমএ রহিম পাটওয়ারী এবং পৌর বিএনপির সদস্যসচিব মো. খোরশেদ আলম ভুট্টো।

উপাধ্যক্ষ আনোয়ার উল্যাহ, সহকারী অধ্যাপক তৌহিদা আক্তার ও সেলিম পাটোয়ারীর যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন শিক্ষক প্রতিনিধি সহকারী অধ্যাপক মো. মাকসুদুর রহমান, বিদ্যোৎসাহী সদস্য মো. এমরান হোসেন, হাজীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সাহাব উদ্দিন সাবু, দাতা সদস্য মো. মোস্তফা মজুমদার সুমন এবং শিক্ষার্থীদের পক্ষে ইশা তাহমিনা ঐশি ও নূরজাহান আক্তার।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ হাসান মিয়াজী, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মো. আবুল খায়ের মজুমদার, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সরোয়ার হোসেন ভুলো মুন্সী, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক টিটু ও মো. বিল্লাল হোসেন পাটওয়ারীসহ যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দল ও ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের জাতীয়করণ, শিক্ষার্থীদের আবাসন সুবিধা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের আশ্বাসকে ঘিরে নবীনবরণ অনুষ্ঠানটি শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের কাছে নতুন প্রত্যাশার বার্তা নিয়ে আসে।