মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রথম দিনেই ২১ রোগীর অস্ত্রোপচারের উদ্যোগ, থাকছে ফলোআপ ও স্পিচ থেরাপি

শাহরাস্তির মেডিল্যাব হাসপাতালে মানবিকতার দৃষ্টান্ত, ঠোঁটকাটা-তালুকাটার অপারেশনসহ সব সেবা বিনামূল্যে

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৯ পিএম
শাহরাস্তির মেডিল্যাব হাসপাতালে মানবিকতার দৃষ্টান্ত, ঠোঁটকাটা-তালুকাটার অপারেশনসহ সব সেবা বিনামূল্যে
জন্মগত ঠোঁটকাটা ও তালুকাটা সমস্যার কারণে কোনো শিশু বা রোগী যেন অর্থাভাবে চিকিৎসাবঞ্চিত না হন, সে লক্ষ্য নিয়ে  শাহরাস্তিতে শুরু হয়েছে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার কর্মসূচি। প্রথম দিনেই ২১ জন রোগীর অস্ত্রোপচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অস্ত্রোপচারের পাশাপাশি রোগীদের থাকা-খাওয়া, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধ, পরবর্তী ফলোআপ ও স্পিচ থেরাপির সুবিধাও দেওয়া হবে। দেশের যেকোনো প্রান্তের রোগীদের জন্য উন্মুক্ত এ মানবিক উদ্যোগটি নিয়মিত চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে আয়োজক প্রতিষ্ঠান।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ১০টায় শাহরাস্তি উপজেলার উয়ারুক বাজারে অবস্থিত মেডিল্যাব হাসপাতাল অ্যান্ড ট্রমা সেন্টার প্রাঙ্গণে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন করেন শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আবু নাছের শাকিল এবং হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহমেদ তানভীর হাসান।
অস্ত্রোপচার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন প্লাস্টিক ও কসমেটিক সার্জন অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ কামরুজ্জামান (এফসিপিএস, এমএস)। কর্মসূচির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় রয়েছেন হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. আরিফ উল হাসান।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, জন্মগত ঠোঁটকাটা ও তালুকাটা সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য অনেক পরিবারকে আর্থিক সংকটের মুখে পড়তে হয়। এ বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে অস্ত্রোপচারসহ চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় সেবাগুলো বিনামূল্যে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অস্ত্রোপচারের পর রোগীদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, ফলোআপ এবং কথা বলার সমস্যা কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজন অনুযায়ী স্পিচ থেরাপির ব্যবস্থাও থাকবে।
এটি এককালীন কোনো চিকিৎসা ক্যাম্প নয় উল্লেখ করে কর্তৃপক্ষ জানায়, কর্মসূচিটি নিয়মিত ও চলমান সেবামূলক কার্যক্রম হিসেবে পরিচালিত হবে। প্রতি তিন মাস অন্তর অথবা ১০ জন রোগী নিবন্ধিত হলে পরবর্তী অস্ত্রোপচার সেশন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। দেশের যেকোনো এলাকার আগ্রহী রোগীরা এ কর্মসূচির আওতায় চিকিৎসা নিতে নিবন্ধন করতে পারবেন।
শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আবু নাছের শাকিল বলেন, জন্মগত ঠোঁটকাটা ও তালুকাটা সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের এ উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অর্থের অভাবে যেন কোনো রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন, সে জন্য এ ধরনের মানবিক উদ্যোগের বিকল্প নেই। চিকিৎসাসেবাকে সাধারণ মানুষের আরও কাছে পৌঁছে দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়। এ কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে অনেক অসচ্ছল রোগী উপকৃত হবেন। হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. আরিফ উল হাসান বলেন, “জন্মগত ঠোঁটকাটা ও তালুকাটা সমস্যায় আক্রান্ত শিশু ও রোগীরা শারীরিক জটিলতার পাশাপাশি মানসিক ও সামাজিক নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হন।
অনেক পরিবারের পক্ষে ব্যয়বহুল অস্ত্রোপচারের খরচ বহন করা সম্ভব হয় না। এসব মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যেই আমরা বিনামূল্যে এ কর্মসূচি চালু করেছি। দেশের যেকোনো প্রান্তের রোগীরা এখানে নিবন্ধনের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা নিতে পারবেন। অস্ত্রোপচারের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধ, ফলোআপ ও স্পিচ থেরাপির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। প্রতি তিন মাস অন্তর অথবা ১০ জন রোগী নিবন্ধিত হলে পরবর্তী সেশন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ কার্যক্রম নিয়মিত চালিয়ে যেতে সবার সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করছি।
প্রসঙ্গত, মেডিল্যাব হাসপাতাল অ্যান্ড ট্রমা সেন্টারের চেয়ারম্যান ডা. আরিফ উল হাসান বড় আকারের টিউমার অপসারণের বিভিন্ন অস্ত্রোপচারের ঘটনায় আগেও আলোচনায় আসেন। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে এক নারীর পেট থেকে ৮ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের টিউমার এবং জুন মাসে আরেক নারীর পেট থেকে প্রায় ৩ কেজি ওজনের টিউমার অপসারণ করেন তিনি।
সর্বশেষ ৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে শাহরাস্তির একই হাসপাতালে ৩৬ বছর বয়সী এক নারীর পেট থেকে ৪ কেজি ৮০০ গ্রাম ওজনের টিউমার অপসারণ করেন। ওই নারীর পেটে এটি ছিল পঞ্চম অস্ত্রোপচার। এ ছাড়া ২০২৪ সালে এক রোগীর পায়ুপথে আটকে থাকা একটি ডাব অস্ত্রোপচার ছাড়াই বের করার ঘটনাতেও আলোচনায় আসেন ডা. আরিফ উল হাসান।

শাহরাস্তিতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত,শোভাযাত্রা, মহড়া ও আলোচনা সভায়

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২১ পিএম
শাহরাস্তিতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত,শোভাযাত্রা, মহড়া ও আলোচনা সভায়
ঘর থেকেই শুরু করি, দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ি” এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শাহরাস্তিতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে ১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, দুর্যোগকালীন মহড়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মনিরা খাতুন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম পাটোয়ারী লিটন।
আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আওরঙ্গজেব, উপজেলা প্রকৌশলী মাইনুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ড. সাজ্জাদুর রহমান, প্রোগ্রামার মোহাম্মদ শাহজাহান, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাকসুদ আলম, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রেজাউল হাসান, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. মোতালেব হোসেন, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা গোবিন্দ দাস এবং ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার নাসিম রেজা নিলু প্রমুখ।
সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে শোভাযাত্রা বের হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, ফায়ার সার্ভিস ও আনসার-ভিডিপির সদস্য, শিক্ষার্থী এবং সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও মনিরা খাতুন বলেন, বাংলাদেশ ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, নদীভাঙন, খরা, ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ড প্রায় প্রতিবছরই মানুষের জীবন ও জীবিকায় আঘাত হানে। তবু সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ এবং ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) স্বেচ্ছাসেবকদের নিরলস কাজের ফলে প্রাণহানি আজ অনেক কমেছে। দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশ এখন বিশ্বে দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত।
তিনি বলেন, জাতিসংঘ ১৯৮৯ সালে দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। এর উদ্দেশ্য দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে বিশ্বজুড়ে সচেতনতা তৈরি করা। জাতিসংঘ গৃহীত সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক (২০১৫–২০৩০) অনুযায়ী দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি কমানোর মূল কথা হলো আগাম প্রস্তুতি। তাই দুর্যোগের পর ত্রাণ দেওয়ার পাশাপাশি আগে থেকেই ঝুঁকি কমানোর ওপর জোর দিতে হবে।ইউএনও বলেন, এবারের প্রতিপাদ্য আমাদের মনে করিয়ে দেয়, প্রস্তুতি শুরু হয় প্রত্যেকের নিজের ঘর ও পরিবার থেকে। রান্নার গ্যাস ব্যবহারে সতর্কতা, বৈদ্যুতিক লাইনের নিরাপত্তা, পরিবারের সবাইকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও আগুন নেভানোর প্রাথমিক ধারণা দেওয়া, জরুরি প্রয়োজনে করণীয় ঠিক করে রাখা এবং আগাম সতর্কসংকেত বোঝা এসব ছোট ছোট উদ্যোগই বড় ক্ষতি ঠেকাতে পারে। শিশু, নারী, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিশেষ নিরাপত্তার কথা মাথায় রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও কলকারখানার মালিকদের নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে এবং অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম সচল রাখতে হবে। এ ধরনের মহড়া মানুষকে বাস্তব পরিস্থিতিতে করণীয় শেখায়। তিনি সবাইকে স্থানীয় পর্যায়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার এবং সম্মিলিত উদ্যোগে নিরাপদ শাহরাস্তি গড়ার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম পাটোয়ারী লিটন দুর্যোগ প্রস্তুতিতে প্রশাসনের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সচেতন নাগরিকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দুর্যোগে সবার আগে স্থানীয় মানুষই একে অপরের পাশে দাঁড়ায়, তাই সবাইকে সচেতন ও প্রস্তুত থাকতে হবে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বক্তব্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আওরঙ্গজেব বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কোনো একক প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়, এটি সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। উপজেলা প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ একসঙ্গে কাজ করলেই দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। তিনি বলেন, দুর্যোগের আগে প্রস্তুতি, সময়ে দ্রুত সাড়া এবং পরে পুনর্বাসন এই তিন ধাপেই সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি। এ জন্য স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক তৈরি, আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা ও গুজব এড়িয়ে সরকারি সতর্কবার্তা অনুসরণের ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
আলোচনা সভার আগে ও পরে দুর্যোগকালীন মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। এতে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারে আগুন লাগলে তা নিয়ন্ত্রণের কৌশল দেখানো হয়। এ ছাড়া ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও কলকারখানায় গ্যাস ব্যবহারের নিয়মকানুন মহড়ার মাধ্যমে জনসাধারণের সামনে তুলে ধরা হয়। উপস্থিত দর্শনার্থীরা মহড়াটি আগ্রহ নিয়ে উপভোগ করেন। এতে অংশগ্রহণ করেন বিয়াম (BIAM) ল্যাবরেটরি স্কুলের  একদল শিক্ষার্থী।