বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

মতলব উত্তরে পৈতৃক সম্পত্তি থেকে ছোট ভাইকে বঞ্চিত করার অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১০ আগস্ট, ২০২২, ২:১২ পিএম
মতলব উত্তরে পৈতৃক সম্পত্তি থেকে ছোট ভাইকে বঞ্চিত করার অভিযোগ

মতলব উত্তর ব্যুরো : মতলব উত্তর উপজেলার দক্ষিণ গাজীপুর গ্রামে মৃত ছৈয়দ হোসেন মোল্লার বড় ছেলে শফিকুল ইসলাম মোল্লা তার আপন ছোট ভাইকে পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয় ছোট ভাই তার সম্পত্তি বুজিয়ে দিতে বললে তাকে মারধর ও হামলা মামলা দিয়ে হয়রানি করে।

এ নিয়ে এলাকার চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং সম্পত্তি বঞ্চিত মো. ফারুক মোল্লার পরিবারে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ আর হতাশা।
মঙ্গলবার (৯ আগস্ট) সরেজমিনে জানা যায়, গাজীপুর মৌজায় ১৮৪১, ১৯৬১, ১৯৮৯, ১৯৯৯, ২০০০, ২০০১, ২০০২, ২০০৪, ২১৪১ দাগে মরহুম ছৈয়দ হোসেন মোল্লা ১ একর ১৭ শতাংশ ভূমির মালিক। তার ২ ছেলে শফিকুল ইসলাম মোল্লা, মোঃ ফারুক মোল্লা, তিন মেয়ে মিনারা বেগম, রেখা বেগম, সাজেদা বেগম এই ৫ সন্তান ওই সম্পত্তির ওয়ারিশ। কিন্তু ছেলে শফিকুল ইসলাম মোল্লা তার অন্যান্য ভাই বোনদের সম্পত্তি না দিয়ে নিজেই সব ভোগদখল করছেন। সম্পত্তির ধারে কাছে গেলে মামলা হামলা দিয়ে বড় ধরনের ক্ষতি করবে বলে হুমকি দেয় এবং প্রতিনিয়ত ছোট ভাই ফারুককের পরিবারের উপর অত্যাচার নির্যাতন করে আসছে। বিষয়টি এলাকায় একাধিক বার শালীস বৈঠক বসলে শফিকুল ইসলাম মোল্লা তার ভাই বোনদের সম্পত্তি বুজিয়ে দিবেন বলে কথা দিলেও পরবর্তীতে আর তাদের সম্পত্তির ধারে কাছে যেতে দেয় না।

মো. ফারুক মোল্লা বলেন, আমি দীর্ঘ ১৫ বছর যাবৎ প্রবাসে থাকি। এই সুযোগে আমার ভাই শফিকুল ইসলাম মোল্লা আমার সকল সম্পত্তি দখল করে আছে। সম্পত্তির হিসাব বুজিয়ে দিচ্ছে না। প্রতিনিয়ত আমার স্ত্রী ও পরিবারের উপর অত্যাচার নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, শফিকুল ইসলাম মোল্লা আমার বাবার নামে প্রতারণা করে অসিয়তনামার মাধ্যমে তার নামে ২২ শতক সম্পত্তির দলিল করেছে। ওই সম্পত্তি তার স্ত্রীর নামে লিখে দিছে ও খারিজ করেছে। খারিজ বাতিলের জন্য আবেদন করেছি। এরমধ্যে আমার উপর মারধর করে উল্টা থানায় গিয়ে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে।

ফারুক মোল্লার স্ত্রী বলেন, আমার স্বামী বিদেশে থাকে। আমার সন্তান নিয়ে অনেক কস্টে থাকি। ঘর থেকে বের হতে পারি না। শুধু ঘরের জায়গাটুকুতে দিনাতিপাত করছি। বিভিন্ন ভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে ও একাধিক বার ভাসুর হয়ে আমাকে মারধর করেছে। আমি দেশবাসীর কাছে সুষ্ঠু বিচার চাই।

Model Hospital

ফারুক মোল্লার চাচা মনির মোল্লা বলেন, তাদের দুই ভাইয়ের মধ্যে সম্পত্তিগত বিরোধ সমাধানের জন্য একাধিক বার শালীস বৈঠক করেছি। শফিকুল ইসলাম আমার গায়েও হাত তুলেছে। তার আচরণ খুবই খারাপ।

গাজীপুর গ্রামের আওলাদ হোসেন মোল্লা, আল-আমিন সহ আরো কয়েকজন বলেন, শফিকুল ইসলাম একজন প্রতারক প্রকৃতির লোক। তিনি বিভিন্ন পায়তারা করে ভাই বোনদের সম্পত্তি জবরদখল করেছে। যা আমাদের সমাজ ও গ্রামের কুলসিত করেছে।

জাতীয় সাপ্তাহিক দূর্নীতি রিপোর্ট পত্রিকার সিনিয়র ষ্টাফ রিপোর্টার এসএম আল-আমিন বলেন, গাজীপুরে আমার বাড়ি। তাদের একটি পারিবারিক কলোহের জেড়ে আমাকে শফিক মোল্লার বেয়াই নাছির ওই বাড়িতে ডেকে নেয়। আমি একজন সাংবাদিক তাদের আত্মীয়ের ডাকে গিয়েছি, যাওয়ার সাথে সাথে আমাকে গালমন্দ ও উশৃংখল আচরণ করেছে শফিকুল ও তার স্ত্রী সন্তান। তারা খুবই খারাপ প্রকৃতির লোক। এখন আবার তার ভাইয়ের সম্পত্তি আত্মসাৎ করার পায়তারা করছে।

এদিকে শফিকুল ইসলাম মোল্লাকে বাড়িতে খোঁজ করলে তাকে পাওয়া যায় নি। তবে তার স্ত্রী জানান, শফিকুল ইসলাম মোল্লার পিতা তাকে ওসিয়ত করে ২২ শতক সম্পত্তি দিয়ে গেছেন।

ফরিদগঞ্জে রহস্যজনক আগুনে প্রবাসীর বসতঘর পুড়ে ছাই

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪০ পিএম
ফরিদগঞ্জে রহস্যজনক আগুনে প্রবাসীর বসতঘর পুড়ে ছাই

ফরিদগঞ্জে রহস্যজনক আগুনে পুড়ে যাওয়া বসতঘরের ভগ্নাবশেষ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা।

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে এক রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডে একটি নিরীহ পরিবারের বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। গভীর রাতে ঘটা এই আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ বা সূত্রপাত কোথায় থেকে হয়েছে, তা কেউ বলতে না পারায় পুরো এলাকায় গভীর রহস্য ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (২৭শে অক্টোবর) দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের পশ্চিম শ্রীকালিয়া গ্রামের জবর আলি বেপারী বাড়ির প্রবাসী মো. মাসুদ আলমের বাড়িতে।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান পাটোয়ারী ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দেওয়া বিবরণ অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতের খাবার খেয়ে সবাই নিজ নিজ ঘরে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। এর মাত্র কিছুক্ষণ পর, আনুমানিক রাত ১টার দিকে হঠাৎ করে বসতঘরে আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। এ সময় তাঁদের আর্তচিৎকারে আশপাশের প্রতিবেশীরা দ্রুত ছুটে আসেন এবং দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে এর আগেই মুহূর্তের মধ্যে ঘরের ভেতর থাকা আসবাবপত্র, নগদ অর্থ, পরিধেয় বস্ত্রসহ সমস্ত মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘরে অগ্নিকাণ্ড ঘটার মতো রান্নার চুল্লি, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কেট বা অন্য কোনো দাহ্য পদার্থের কোনো সংযোগ বা উপস্থিতি ছিল না। ফলে এত বড় অগ্নিকাণ্ড কীভাবে ঘটল, তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। কেউ কেউ এটি পরিকল্পিত নাশকতা হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ এরশাদ উল্যাহ বলেন, অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিকভাবে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।