সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

ইবাদত ও খেলাফতের মধ্যেই মুসলমানদের শ্রেষ্ঠত্ব নিহিত; পীর সাহেব চরমোনাই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ আগস্ট, ২০২২, ২:১৭ পিএম
ইবাদত ও খেলাফতের মধ্যেই মুসলমানদের শ্রেষ্ঠত্ব নিহিত; পীর সাহেব চরমোনাই
মোঃ সাজ্জাদ হোসেন রনি : ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর ও চরমোনাইর পীর মুফতি সৈয়দ মোঃ রেজাউল করিম এর আগমন উপলক্ষে হাইমচরে ওয়াজ মাহফিল ও হালকায়ে জিকিরের আয়োজন করা হয়েছে।
মাহফিল প্রধান অতিথি হিসেবে আলোচনা ও আখেরি মোনাজাতে দেশবাসীসহ মুসলিম উম্মাহর জন্য বিশেষভাবে দোয়া করা হয় করেন তিনি। প্রধান অতিথির বক্তব্যে চরমোনাই পীর বলেন, ইবাদত ও খেলাফতের মধ্যেই মুসলমানদের শ্রেষ্ঠত্ব নিহিত রয়েছে।
তিনি বলেন, সারা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহ আজ নানা সংকটে নিপতিত। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মুসলমানদের উপর নির্যাতন নিপীড়নের সংবাদ আসছে প্রতিনিয়ত। মুসলমানদের নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার জন্য চলছে নানামুখী ষড়যন্ত্র। এই পরিস্থিতিতে মুসলিম উম্মাহর অস্তিত্ব রক্ষা ও ষড়যন্ত্রকারীদের মোকাবেলা করে টিকে থাকতে হলে মুসলমানদের ঐক্যের বিকল্প নেই।
বিশেষ করে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশে সকল দুর্নীতি, দুঃশাসন ও কায়েমী স্বার্থবাদের মূলোৎপাটন করে ইসলামকে বিজয়ী করতে হলে মুসলিম নেতৃবৃন্দকে আন্তরিকভাবে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
তিনি শিক্ষা মন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, পাঠ্যপুস্তকে বিবর্তন বাদের পরিবর্তন আনতে হবে। পাঠ্যপুস্তকে বিবর্তনবাদ রেখে আগামী প্রজন্মকে ইসলাম থেকে দূরে সরিয়ে রাখবেন না। নবী রাসুলগণ এসেছেন মানুষকে ঈমানদার, খোদার হুকুম পালনকারী ইবাদাতগুজার বান্দা বানানোর জন্য। তারা মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করেছেন।
দ্রব্যমূল্যের নিয়ন্ত্রনে সরকারের ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের আন্তরিকতার অভাব রয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম দিগুণ থেকে তিনগুণেরও বেশি। বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেনা সরকার। এতে চলমান সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। দ্রব্যমূল্য গন মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখার আহ্বান জানান তিনি।
১৭ আগষ্ট ২০২২ বুধবার হাইমচর উপজেলা সদর আলগী বাজার দুর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটি হাইমচর উপজেলা শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ মাহফিলে চাঁদপুর জেলা মুজাহিদ কমিটির সদর আলহাজ্ব মাওলানা নুরুল আমীন এর সভাপতিত্বে ও আল কারীম ইসলামিয়া হাফিজিয়া মাদরাসার মুহতামীম হাফেজ গাজী জহিরুল ইসলাম এর সঞ্চালনায় সমসাময়ীক বিষয়ে আলোচনা পেশ করেন মাওলানা বেলাল হোসাইন রাজি, চাঁদপুর বাইতুল আমীন রেলওয়ে জামে মসজিদের খতীব মাওলানা বোরহান উদ্দিন সিদ্দিকী, এলাহি জামে মসজিদের খতীব মাওলানা গাজী মোঃ হানিফ, তাহফিজুল উম্মাহ ইসলামিয়া মাদরাসার পরিচালক মুফতি মোশাররফ হোসাইন কারিমী প্রমূখ।
মাহফিলে সঙ্গীত পরিবেশনায় ছিলেন নূরের খোঁজে শিল্পীগোষ্ঠীর নির্বাহী পরিচালক জনপ্রিয় কন্ঠ শিল্পী ইমরান হোসেন সাকি, সঙ্গীত পরিচালক কামরুল হাসান সিয়াম সহ শিশু শিল্পীবৃন্দ।
হাইমচরে সর্ববৃহৎ পরিসরে আয়োজিত এ মাহফিলের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত মানুষের উপস্থিতি ছিল অবাক করার মতো। সুবিশাল মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে তিল ধারণের ঠাই ছিলো না। হাইমচর উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল, পাশ্ববর্তী উপজেলা ফরিদগঞ্জ, রায়পুর সহ বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার মানুষ মাহফিল মাঠে সমবেত হন। অনেকে আসেন কাফেলা সহকারে। সন্ধার পর থেকে আস্তে আস্তে মাঠ পরিপূর্ণ হতে থাকে বয়ান শোনার জন্য। প্রায় ১ মাস আগ থেকে প্রস্তুতি নেওয়া এই মাহফিল। মাহফিলে আগত মুসল্লিদের সুবিধার্থে গ্রহণ করা হয়েছে ব্যাপক উদ্যোগ। তৈরি করা হয়েছে অস্থায়ী টয়লেট ও অজুখানা। এছাড়াও বিদ্যমান ছিল স্বেচ্ছাসেবক ক্যাম্প, নিরাপত্তা সেল ও মেডিকেল টিম।
সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে মাহফিল সম্পন্ন হওয়ায় শুকরিয়া জ্ঞাপন করে মাহফিল বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব জানান, স্থানীয় লোকজন, পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা সার্বিকভাবে সহযোগিতা পেয়েছি। আমরা ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই হাইমচরের প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কে যাদের সার্বিক সহযোগিতায় মাহফিলের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

চাঁদপুরে আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক 

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৫ এম
চাঁদপুরে আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক 

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা তামজিদ মৃধা

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে পুলিশের অভিযানে আটক হওয়া নিষিদ্ধঘোষিত ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতিকে ছাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদসহ ইউনিয়ন বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে। এঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ এলাকাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বইছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আশ্বিনপুর মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ছাড়িয়ে নেওয়া নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ওই নেতার নাম তামজিদ হাসান মৃধা (৩২)। তিনি মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি। তামজিদ মৃধা ওই ইউনিয়নের আশ্বিনপুর গ্রামের মৃত আবদুল আউয়াল বাচ্চু মৃধার ছেলে। তার দুই ভাই বিএনপির রাজনীতির সাথে জরিত। এক ভাই তোফায়েল মৃধা উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং আরেক ভাই আলম মৃধা ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক।
তামজিদ মৃধার বিরুদ্ধে মতলব দক্ষিণ থানায় ২০২৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে।
​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আশ্বিনপুর মাদ্রাসার সামনে থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন শাখার সভাপতি তামজিদ হাসান মৃধাকে আটক করে পুলিশ। খবর পেয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শরীফ পাটোয়ারী, উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং আটক তামজিদ মৃধার বড় ভাই তোফায়েল মৃধা, আরেক ভাই ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক আলম মৃধাসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে তাঁরা পুলিশকে চাপ দিয়ে আটক ছাত্রলীগ সভাপতিকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। এ ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীসহ এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় বইছে।
​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিএনপির নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী জানান, আটক তামজিদ মৃধার কাছ থেকে মাদক উদ্ধার করা হলেও সবকিছু জেনে শুনে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তাঁকে ছাড়িয়ে নেন বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদ। এর ফলে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এলাকাবাসীর দাবি, গত ৫ আগস্টের পর থেকে এই বিএনপি নেতা সরকারি গাছ বিক্রি, সরকারি চাল আত্মসাৎসহ নানা ধরনের অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন। মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দের কাছে বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্ত করে অবিলম্বে আবুল কালাম আজাদসহ তার সহযোগীদের দল থেকে বহিষ্কারের জোর দাবি জানান তারা।
​ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে মতলব দক্ষিণ থানা এসআই দেলোয়ার হোসেন জানায়, অভিযান চালানোর সময় তানজিদ মৃধাকে আটক করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ এসে তাঁকে নিয়ে যান। তবে তাৎক্ষণিক তামজিদ মৃধা যে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আমরা তা শনাক্ত করতে পারেনি। পরে বিষয়টি জানা গেছে সে ছাত্রলীগ নেতা।
​অভিযোগের বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, তামজিদ মৃধাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার সময় আমি ছিলাম না। তার ভাই তোফায়েল মৃধা ও আলম মৃধা তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিয়েছে। আমি পরে গিয়ে জানতে পেরেছি পুলিশ তাকে ছেড়ে দিয়েছে।