রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

মহানবী (সা.)কে নিয়ে ক/টূ/ক্তি/কা’রী’র শা’স্তি’র দা’বি’তে চাঁদপুরে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের মানববন্ধন ও স্মারকলিপি

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৬ পিএম
মহানবী (সা.)কে নিয়ে ক/টূ/ক্তি/কা’রী’র শা’স্তি’র দা’বি’তে চাঁদপুরে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের মানববন্ধন ও স্মারকলিপি

মতলব উত্তরের সাদুল্যাহপুর ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামের মো. হাসেম নামের এক ব্যক্তি মহানবী হযরত মোহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিয়ে জঘন্য ভাষায় কটূক্তি করে তার নিজস্ব ফেসবুক আইডি থেকে পোস্ট করে। এর প্রতিবাদে স্থানীয় মুসল্লিসহ মতলব উত্তরবাসী বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। একপর্যায়ে পুলিশ তাকে আটক করে জেলহাজতে পাঠায়। কিন্তু যেসব মুসল্লি এবং মসজিদের ইমাম অভিযুক্ত হাসেমের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে সোপর্দ করেছে, এখন উল্টো তাদেরকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে হয়রানির অপচেষ্টা করছে অভিযুক্ত হাসেম গং। এসব ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে মতলব উত্তরে প্রতিবাদ বিক্ষোভ অব্যাহত আছে।

এরই ধারাবাহিকতায় রোববার (১৮ অক্টোবর ২০২৬) চাঁদপুরে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের উদ্যোগে মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি দেয়া হয়। রোববার সকালে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে চাঁদপুর-কুমিল্লা সড়কের পাশে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি প্রদান করেন নেতৃবৃন্দ। স্মারকলিপিতে অভিযুক্ত হাসেমের দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মুসলমানদের ঈমানের মূল হচ্ছেন প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তাঁকে মুসলমানরা নিজের জীবনের চেয়েও ভালোবাসেন। সেই মহানবীর আকাশচুম্বী শান ও মানের উপর কেহ সামান্যতম আঘাত করলে মুসলিম উম্মাহ তা সহ্য করবে না। আল্লাহ নিজেই তাঁর হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার পূতপবিত্র চরিত্রের মহানত্বকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। তাই আজকের এই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ থেকে অভিযুক্ত হাসেমের দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য মাওলানা এএইচএম আহসান উল্লাহ, পীরজাদা মাওলানা খাজা জোবায়ের, দক্ষিণ দাসদী গাউসিয়া বোরহানিয়া দরবার শরীফের প্রতিনিধি মাওলানা রবিউল হোসাইন, জমঈয়াতে হিযবুল্লাহ চাঁদপুর শহর শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুর রহমান গাজী, মাওলানা আমিনুল হক, হাফেজ মাওলানা শাহজাহান চাঁদপুরী, মাওলানা মোতালেব নবাবপুরী, মাওলানা তাফসির হোসাইন, মাওলানা কাউসার হোসাইন, মাওলানা বায়েজিদ, মাওলানা আল-আমিন, মাওলানা মোশারফ হোসাইন প্রমুখ।

Model Hospital

বক্তব্য শেষে মুনাজাত পরিচালনা করেন পীরজাদা মাওলানা খাজা জোবায়ের। মানববন্ধন শেষে নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি প্রদান করেন।

জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখছেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য মাওলানা এএইচএম আহসান উল্লাহ।

চাঁদপুরে মা-ছেলের ই’সলা’ম ধ/র্ম গ্র’হ’ণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৬ এম
চাঁদপুরে মা-ছেলের ই’সলা’ম ধ/র্ম গ্র’হ’ণ

সনাতন ধর্ম ত্যাগ করে স্বেচ্ছায় ও সজ্ঞানে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন মতলব দক্ষিণ উপজেলার এক মা ও তার ছেলে। ধর্ম পরিবর্তনের পর ইসলামি নাম ধারণ করে তারা জীবনের এক নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন। সম্প্রতি খায়রুন নাহার নামের ওই নারী তার নতুন ধর্মান্তরিত ছেলেকে নিয়ে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে সুন্নতে খতনা করাতে আসেন। এ সময় তাদের সামাজিক ও আর্থিক সহায়তায় এগিয়ে আসেন মাসুদ বেপারী নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি।

জানা গেছে, ইসলাম গ্রহণের আগে ওই নারীর নাম ছিলো সুমি সরকার এবং তার ছেলের নাম ছিলো রবিন সরকার। ধর্মান্তরের পর এফিডেভিটের (হলফনামা) মাধ্যমে মায়ের নাম রাখা হয়েছে খায়রুন নাহার এবং ছেলের নাম আব্দুল্লাহ। খায়রুন নাহার জানান, আগে তারা পরিবারের সঙ্গে ঢাকার ডেমরা এলাকায় বসবাস করতেন। তাদের স্থায়ী ঠিকানা মতলব দক্ষিণ উপজেলার খাদেরগাঁও গ্রামের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে। বর্তমানে স্বামী থেকে আলাদা হয়ে তিনি সন্তানকে নিয়ে চাঁদপুরে বসবাস করছেন।

নিজের অনুভূতির কথা প্রকাশ করে খায়রুন নাহার বলেন, “ইসলামের আদর্শ, শৃঙ্খলা ও পবিত্রতার প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকেই আমি স্বেচ্ছায় এই ধর্ম গ্রহণ করেছি। আমার ছেলেও নিজের ইচ্ছায় আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইসলাম গ্রহণ করেছে।” নতুন পরিচয়ে সন্তানকে নিয়ে স্বাভাবিক ও নিরাপদ জীবনযাপনের জন্য তিনি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।

এদিকে নতুন জীবন শুরু করা এই মা-ছেলের পাশে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় সমাজসেবী মাসুদ বেপারী। তিনি আব্দুল্লাহর চিকিৎসার খরচ বহনসহ সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আব্দুল্লাহকে আমি নিজের ভাইয়ের মতো এবং খায়রুন নাহারকে মায়ের মতো সম্মান করি। বিপদের দিনে তাদের পাশে থাকতে পেরে আমি আনন্দিত।”

Model Hospital

ধর্মান্তরের পর সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা, আবাসন ও আর্থিক অসচ্ছলতাজনিত নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন এই মা-ছেলে। একটি নতুন ও অনিশ্চিত সামাজিক প্রেক্ষাপটে তাদের স্বাভাবিক ও নিরাপদ জীবনযাপন নিশ্চিত করতে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও সামাজিক সহযোগিতা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।