শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে লাইসেন্স ফি আরো কমাতে মালিক শ্রমিকের স্বারক লিপি প্রদান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২১ নভেম্বর, ২০২১, ১:৫৪ পিএম
ফরিদগঞ্জে লাইসেন্স ফি আরো কমাতে মালিক শ্রমিকের স্বারক লিপি প্রদান
এস. এম ইকবাল : চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের পাটওয়ারী পৌর এলাকায় ব্যাটারী চালিত রিক্সা, ভ্যান ও ইজিবাইকের মালিক শ্রমিকের দাবিতে সাড়া দিয়ে পূর্ব নির্ধারিত লাইসেন্স ফি ১৪ হাজার ৪শ টাকা থেকে কমিয়ে ৯ হাজার ৮ শ টাকার ঘোষনা দিয়েছেন মাইকিং করে।
২১ নভেম্বর রোববার এমন ঘোষনায় সন্তুুষ্ট না হয়ে  আবারো ন্যায় সঙ্গত টাকায় লাইসেন্স ফি নির্ধারনের দাবিতে মেয়র বরাবরে স্বারকলিপি দিয়েছে মালিক শ্রমিকরা।
এ সময় মেয়র না থাকায় স্বারকলিপি প্যানেল মেয়র আবদুল মান্নান পরানের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে।
ব্যাটারী চালিত রিক্সা ভ্যান ও ইজিবাইক শ্রমিক অধিকার রক্ষা কমিটির উদ্যেগে স্বারক লিপি প্রদানের সময় উপস্থিত ছিলেন বাসদের (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় নেতা ও জেলার আহবায়ক কমরেড আলমগীর হোসেন দুলাল, কমরেড বাদশা সংগঠনটির আহবায়ক জাহাঙ্গীর হোসেন ও যুগ্ম আহবায়ক সাইফুল ইসলাম।
যানবাহনের মালিক শ্রমিকরা জানায়, দেশের সকল মানুষই জানে ব্যাটারী চালিত রিক্সা, ভ্যান ও ইজিবাইকগুলো মালিক বা শ্রমিক কেউই তৈরী বা আমদানী করে না। স্বল্প পূঁজি খাটিয়ে মধ্যবিত্ত কিংবা নিম্ম শ্রেনীর মানুষ ধারদেনা করে ওইসব যানবাহন ক্রয় করে জীবন জীবিকার তাগিয়ে রোদ বৃষ্টি উপেক্ষা করে রাস্তায় শ্রম দিতে বাধ্য হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ফরিদগঞ্জ পৌর কর্তৃপক্ষ  প্রতি বছরের জন্য ১৪ হাজার ৪ টাকা নির্ধারন করে।
এ নিয়ে মালিক শ্রমিকদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করতে থাকে। প্রতিবাদে মালিক শ্রমিকরা নানা কর্মসূচী পালন করে। এক পর্যায়ে লাইসেন্সন ফি বাবৎ মেয়র ১৪ হাজার ৪ টাকা থেকে কমিয়ে ৯ হাজার ৮শ টাকা নির্ধারন করে গত শনিবার মাইকিং করে। কিন্তু তাতেও সন্তুুষ্ট না হয়ে পৌরসভা কার্যালয়ে মালিক শ্রমিকরা হাজির হয়ে মেয়র বরাবরে স্বারকলিপি প্রদান করে।
স্বারকলিপি দেয়া শেষে বাসদের ফরিদগঞ্জ উপজেলা শাখার আহবায়ক কমরেড বাদশা জানান, উক্ত বিষয়টি নিয়ে মেয়রের সাথে কথা বলেছেন আমাদের নেতা কমরেড আলমগীর হোসেন দুলাল। মেয়র আশস্ত করেছেন এই বিষয়টি নিয়ে মালিক শ্রমিকদের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে আশস্ত করেছেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’