শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

জেনে নিন শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের সকল ওয়ার্ডের ভোটার তথ্য সংগ্রহকারীদের নাম ও নম্বর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ৫:৩৫ পিএম
জেনে নিন শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের সকল ওয়ার্ডের ভোটার তথ্য সংগ্রহকারীদের নাম ও নম্বর
মাসুদ হোসেন : চাঁদপুর সদর উপজেলায় ভোটার তালিকা হালনাগাদ করতে বাড়ি বাড়ি গননা কার্যক্রম শুরু হচ্ছে আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে। তারই ধারাবাহিকতায় ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নেও চলবে এ কার্যক্রম। ভোটার তালিকা হালনাগাদ-২০২২ কার্যক্রম আগামী ৪ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রেজিষ্ট্রেশন অফিসার মোঃ জামশেদুল ইসলাম সিকদার।
পরে ৭ অক্টোবর হতে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত নির্দিষ্ট রেজিষ্ট্রেশন সেন্টারে ছবি তোলা হবে বলে জানান তিনি।
২০০৭ এর জানুয়ারি বা তার পূর্বে যাদের জন্ম তাদের তথ্য তালিকাভূক্ত করা হবে। চাঁদপুর সদর উপজেলার এ ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে ২ জন সুপারভাইজার ও ১১ জন তথ্য সংগ্রহকারী বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের নাম তালিকাভূক্ত করবেন বলে জানিয়েছেন চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা। শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নে ৭.৫% হারে সম্ভাব্য নতুন ভোটার সংখ্যা এক হাজার ৭৪৮ জন।
শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড কৃষ্ণপুর ও দমকের গাঁও গ্রামে ভোটার তালিকার তথ্য সংগ্রহ করবেন পাইকদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তাহমিনা আক্তার (০১৮৩৩৮৫৪৯৬৯)। ২নং ওয়ার্ড কুমারঢুগী ও ভড়ঙ্গারচর গ্রামে ভোটার তালিকার তথ্য সংগ্রহ করবেন উত্তর সাহাতলী যোবাইদা বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তাহমিনা খানম (০১৭২৭৪৫৪১২৭)। ৩নং ওয়ার্ড আলুমুড়া ও কেতুয়া গ্রামে ভোটার তালিকার তথ্য সংগ্রহ করবেন আলুমুড়া নূরীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ আবে কাউসার (০১৯১৬৩৩৩৭৯৫)। ৪নং ওয়ার্ড ছোট শাহাতলী গ্রামে ভোটার তালিকার তথ্য সংগ্রহ করবেন মধ্য শাহতলী কাদেরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নজরুল ইসলাম (০১৭৩৭০৮৯০০৩) ও বড় শাহাতলী গ্রামে ভোটার তালিকার তথ্য সংগ্রহ করবেন উত্তর শাহাতলী যোবাইদা বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক দিদার হোসেন (০১৮১৮৭৬১৪৩৪)। ৫নং ওয়ার্ড পাইকদী গ্রামে ভোটার তালিকার তথ্য সংগ্রহ করবেন পাইকদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোস্তফা কামাল (০১৮১২২৭৪১৮০)। এদের জন্য সুপারভাইজারের দায়িত্ব পালন করবেন উত্তর শাহাতলী যোবাইদা বালক সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আবুল কালাম আজাদ (০১৭১৫১২১০৪৭)।
এছাড়াও ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড কর্দ্দি পাঁচ গাঁও ও ভাটেরগাঁও গ্রামে ভোটার তালিকার তথ্য সংগ্রহ করবেন পশ্চিম ভাটেরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক গৌতম চন্দ্র শীল (০১৮১৬৪৭৮৬৯৭)। ৭নং ওয়ার্ড লোধেরগাঁও গ্রামে ভোটার তালিকার তথ্য সংগ্রহ করবেন লোধেরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আনোয়ার হোসেন (০১৮২৭২০৫৬৪৭) ও পশ্চিম ভাটেরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ এমরান (০১৮৪৯৭৫৩৪৯০)। ৮নং ওয়ার্ড টাহরখিল ও মান্দারী গ্রামে ভোটার তালিকার তথ্য সংগ্রহ করবেন লোধেরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাছির উদ্দিন (০১৯১৮২৭৯১৭০)। এবং ৯নং ওয়ার্ড দাসেরগাঁও, বিমলের গাঁও ও রনবলিয়া গ্রামে ভোটার তালিকার তথ্য সংগ্রহ করবেন মহামায়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ হেলাল উদ্দিন (০১৮১৮৫১৬৯৮৩)। এদের জন্য সুপারভাইজারের দায়িত্ব পালন করবেন মান্দারী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এমেলী খান (০১৭১৬৫৯১২১৯)।
উপরোক্ত সকল সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারীরা ৭ সেপ্টেম্বর, বুধবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত চাঁদপুর গভর্নমেন্ট টেকনিক্যাল হাইস্কুলের তিনতলা দক্ষিণমুখী ভবনের নিচতলায় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন এবং ১১ সেপ্টেম্বর তাদের মাঝে ফরম বিতরণ করা হলে ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে তথ্য সংগ্রহ করবেন।
এ নিয়ে মঙ্গলবার (৬ সেপ্টেম্বর) চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনলাইন জন্ম নিবন্ধনের ফটোকপি, পিতা ও মাতার আইডি (NID) ফটোকপি, স্বামী/স্ত্রীর আইডি  ফটোকপি, শিক্ষা সনদের ফটোকপি (যদি থাকে), রক্তের গ্রুপ পরিক্ষার সার্টিফিকেট, হোল্ডিং টেক্স রশিদের ফটোকপি ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কর্তৃক নাগরিক সনদপত্র ইত্যাদি দিয়ে ভোটার হওয়ার জন্য তথ্য সংগ্রহকারীকে সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ করা হয়। ভোটার তালিকায় নাম লিপিবদ্ধ করতে উপরোক্ত প্রয়োজনীয় কাগজাদি সংগ্রহ করে রাখার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মাসুদুর রহমান নান্টু পাটওয়ারী।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’