শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

১১ জন দিয়ে চলছে ছেংগারচর পৌরসভা; পদ শূন্য ১৪৪টি- সেবা বঞ্চিত নাগরিক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১২ অক্টোবর, ২০২২, ১২:২৯ পিএম
১১ জন দিয়ে চলছে ছেংগারচর পৌরসভা; পদ শূন্য ১৪৪টি- সেবা বঞ্চিত নাগরিক

মনিরুল ইসলাম মনির : চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর পৌরসভা গঠনের দুই যুগ পার হলেও জনবলের অভাবে পৌরবাসী নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ছেংগারচর ইউনিয়ন থেকে ১৯৯৮ সালে পৌরসভায় গঠন করা হলেও প্রয়োজনীয় সংখ্যক জনবল নিয়োগ দেয়া হয়নি। ফলে একদিকে যেমন কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, মানুষ অন্যদিকে পৌর এলাকার উন্নয়নের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

জানা যায়, পৌরসভা আইন অনুযায়ী প্রথম শ্রেণির পৌরসভার সাংগঠনিক কাঠামোতে প্রকৌশলী বিভাগ, প্রশাসনিক বিভাগ ও স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পানা বিভাগের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ১৫৫টি পদে জনবল নিয়োগ দেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু ছেংগারচর পৌরসভা গঠনের ২৪ বছর অতিবাহিত হলেও স্থায়ী ১১ জন কর্মকর্তার, কর্মচারী দিয়ে চালানো হচ্ছে পৌরসভার কার্যক্রম। এরই মধ্য ১৫ জনকে দৈনিক মজুরি হিসেবে বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।

পৌর অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রথম শ্রেণির এই পৌরসভায় সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী প্রকৌশল বিভাগে ৬৮টি পদের বিপরীতে শূন্য পদ আছে ৫২টি, প্রশাসনিক বিভাগে ৫৪টি পদের বিপরীতে শূন্য পদ ৪৯টি এবং স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের ৩৩টি পদের ৩৩টি পদই শূন্য।

প্রথম শ্রেণির পৌরসভার নাগরিকরা ১০ থেকে ১২ ধরনের সেবা পাওয়ার কথা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-আবাসিক, শিল্প ও বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের জন্য পানি সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, যাত্রী ছাউনি, সড়ক বাতি, যানবাহনের পার্কিং স্থান ও বাসস্ট্যান্ড নির্মাণ, শিক্ষা, খেলাধুলা, চিত্তবিনোদনের ব্যবস্থা করা এবং সৌন্দর্য বৃদ্ধিকরণ। কিন্তু কাগজে-কলমে পৌর নাগরিক হলেও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত হয়নি পৌরবাসীর। পৌরসভায় রূপান্তরিত হওয়ার পর থেকেই ধুঁকে ধুঁকে চলছে ও পৌরসভার কার্যক্রম।

Model Hospital

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে বলেন, এটা কি নামমাত্র প্রথম শ্রেণির পৌরসভা। যেখানে জাতীয় সনদপত্র, ট্রেড লাইসেন্স, জন্ম নিবন্ধন, মৃত্যু সনদ, ওয়ারিশ সনদপত্র পেতে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সেবার পরিবর্তে উপরন্তু বেড়েছে জমি ও বাড়ির কর।

পৌরসভার এলাকায় ডাস্টবিন না থাকায় যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে। ফলে পরিবেশ দূষিত হয়ে জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়ছে। পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ আবু সুফিয়ান খান জানান, পৌরসভায় এ পর্যন্ত ১১ জন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এতে পৌরসভার উন্নয়নের কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে।

খেয়াঘাটে ‘রান ফর লাইফ’, সুস্থতার বার্তা নিয়ে ৩ কিলোমিটার দৌড়

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম
খেয়াঘাটে ‘রান ফর লাইফ’, সুস্থতার বার্তা নিয়ে ৩ কিলোমিটার দৌড়

মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত শরীরচর্চায় উৎসাহিত করা এবং সুস্থ জীবনযাপনের বার্তা ছড়িয়ে দিতে চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘রান ফর লাইফ’ শীর্ষক ৩ কিলোমিটার ফান রান। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৬টায় উপজেলার পরিচিত পর্যটনকেন্দ্র খেয়াঘাট এলাকায় এ আয়োজন করা হয়।

ভোরের নির্মল পরিবেশে আয়োজিত এ দৌড়ে অংশগ্রহণকারীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে শাহরাস্তি ওয়াকওয়ে। শরীরচর্চার পাশাপাশি আনন্দ ও সুস্থতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

‘Vital Mahadi Run’ পেজের অ্যাডমিন মো. মেহেদী হাসান এবং ‘মানুষের কথা’ পেজের অ্যাডমিন মো. সোহেল আহমেদের যৌথ উদ্যোগে এ ফান রানের আয়োজন করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের রিপোর্টিং সময় ছিল ভোর সাড়ে ৫টা।

আয়োজকেরা জানান, শাহরাস্তি ওয়াকওয়ের সূচীপাড়া ব্রিজ-সংলগ্ন স্থান থেকে দৌড় শুরু হয়। সেখান থেকে রানাররা গন্দপুর ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এগিয়ে যান। পরে ইউ-টার্ন নিয়ে একই পথে ফিরে এসে মোট ৩ কিলোমিটার দৌড় সম্পন্ন করেন।

Model Hospital

আয়োজনটিতে ফুড স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করে ‘ইলশে বাড়ি’। প্রতিষ্ঠানটি চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী ইলিশ সারা দেশে সরবরাহ করে থাকে।

অন্যদিকে, মেডেল স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করেন শাহরাস্তির মেহের উত্তর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. লোকমান হোসেন মুন্সী। তাঁর পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারীদের জন্য কাস্টমাইজড মেডেলের ব্যবস্থা করা হয়। মেডেল পেয়ে রানারদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ ও আনন্দ দেখা যায়।

আয়োজকেরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন তরুণসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষকে নিয়মিত শরীরচর্চায় আগ্রহী করে তুলবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি ও সুস্থ সমাজ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, ‘রান ফর লাইফ’-এর এই উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং আরও বেশি মানুষকে সুস্থ জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করবে।

‘রান ফর লাইফ’-এর প্রত্যয়—সুস্থ শরীর, সুন্দর সমাজ।