শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

সূফীবাদ শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে; পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২২, ১:২০ পিএম
সূফীবাদ শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে; পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম

মতলব উত্তর ব্যুরো : আন্তর্জাতিক সূফী ঐক্য সংহতি (সূফীজ) এর আয়োজনে হোটেল ঢাকা র‌্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনে ১২ অক্টোবর, বুধবার, সন্ধ্যায় “এ বার্থ অব প্রফেট (দ.) এ বার্থ অব ন্যাশন” শিরোনামে আন্তর্জাতিক শান্তি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সূফীজের চেয়ারম্যান আওলাদে রাসূল (দ.) শাহ্সূফী সাইয়্যিদ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী ওয়াল হোসাইনী আল্-মাইজভাণ্ডারী।

সভাপতির বক্তব্যে সাইয়্যিদ সাইফুদ্দীন আহমদ বলেন, প্রিয় নবীর (দ.) পৃথিবীতে শুভাগমনকালকে ইতিহাসে আইয়্যামে জাহেলিয়াতের যুগ বলা হয়। সে সময়ে মানুষ এমন নিষ্ঠুর ও বর্বর ছিল যে, তারা খুন, ধর্ষণ, রাহাজানি, দ্বন্দ্ব-সংঘাত, গোত্রে গোত্রে যুদ্ধ, চুরি, ডাকাতিসহ নানাবিধ অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকতো। ওই সময়ে নারী জাতির কোনো সম্মান ও মর্যাদাই ছিল না। নারী জাতি এমনই ভোগ বিলাসের পণ্য ছিল যে, কোন কোন গোত্রে একজন পিতা কলঙ্ক ও সম্মানের ভয়ে কন্যা সন্তানকে জীবন্ত কবর দিতেও দ্বিধাবোধ করতো না। সূফীজ চেয়ারম্যান আরো বলেন, এই জাহেল আরব জাতিকে রাসূলে পাক (দ.)’র ক্ষমা, উদার্য, মহানুভবতা ও প্রেম ভালবাসা ও হেকমত দিয়ে বিশ্বের সবচেয়েই সভ্য জাতিতে পরিণত করেন।

রাসূলের (দ.) জীবনী গভীরভাবে উপলব্ধি করলে আমরা তাঁর মধ্যে সকল মানবিক গুণাবলীর সমাবেশ দেখতে পাই। তাঁর এবং তাঁর সঙ্গীদের ওপর মক্কাবাসীর নির্মম নির্যাতন নিপীড়ন ও কঠোরতা এতোই ভয়াবহ ছিল; যা বর্ণনাতীত ।

Model Hospital

রাসূলেপাক (দ.)’র মক্কা বিজয়ের পর শত্রু পক্ষের ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ থাকা স্বত্ত্বেও তিনি মক্কাবাসীকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন। শুধু তাই নয়, সকল জাতির মধ্যে সমতা, ন্যায়-ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় তিনি প্রণয়ন করেন ‘মদিনা সনদ‘। প্রতিষ্ঠা করেন মানবিক ও কল্যাণময় মদিনা রাষ্ট্র।

আজকের পৃথিবীতে দুর্বলের ওপর সবলের অত্যাচার, নিপীড়নে মানবতার করুন আর্তনাদ চলছে। কেউ কারো কথা শুনছে না। কথায় কথায় যুদ্ধের হুমকি, যুদ্ধের উস্কানী ও নিজদের আধিপত্য বজায় রাখতে গিয়ে অমানবিক কাজের ভাগারে পরিনত করছে পৃথিবীকে। নিজেদের আধিপত্য বাজায় রাখতে মানুষ হত্যা ও সভ্যতা ধ্বংশ করতেও কুণ্ঠাবোধ করছেন।

তিনি বলেন, মানবিক ও কল্যাণকর রাষ্ট্র বিনির্মানে মানুষের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধের জাগরণ ঘটাতে হবে। প্রিয়নবীর (দ.) আদর্শ অনুসরণই মানবতার করুন বিপর্যয় থেকে পরিত্রাণ দিতে পারে।

প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম বলেন, আমি এ ধরনের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে জীবনে প্রথম অংশগ্রহণ করি। এই শান্তি সম্মেলনে অংশগ্রহণ করতে পেরে আমি অত্যান্ত আনন্দিত। তিনি বলেন, সূফিবাদ আমাদের সমাজে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে এবং সারা বিশ্বে শান্তি ছড়িয়ে দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সারা বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফ ব্যাপক অবদান রাখছে। তিনি আরো বলেন, সূফিবাদ জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে একত্রিত করে বিশ্বে শান্তি সমাজ গড়ে তুলছে।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম বলেন, আমরা শান্তিতে বিশ্বাস করি। আমাদের অন্যের অধিকার, বিশ্বাসকে সম্মান করতে হবে। শান্তি প্রতিষ্ঠা না হলে উন্নয়ন টেকসই হবে না। একে অপরকে সম্মান করতে হবে। সবাই এক সাথে মিলে মিশে বসবাস করতে হবে।

শামসুল আলম বলেন, সূফীবাদ শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। মাইজভাণ্ডারীর উদ্যোগে বাংলাদেশে সুফীবাদ এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের দেশে বিভিন্ন জেলা মাইজভাণ্ডারী ভক্ত আছেন, যারা সুফীবাদের বিশ্বাস করেন, তারা শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করছেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এফবিসিসিআই সভাপতি মোঃ জসিম উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশ এখন সারা বিশ্বে রোল মডেল। সারা পৃথিবীতে শান্তির বার্তা নিয়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমৃদ্ধ অর্থনীতি গড়ার মধ্য দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে চলছে। আমি এ ধরনের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে জীবনে প্রথম অংশগ্রহণ করে অত্যন্ত আনন্দিত বলে জানান।

ভারতের আজমীর শরীফের বর্তমান সাজ্জাদানশীন আল্লামা সালমান চিশতী বলেন, হযরত মুহাম্মদ (দ.) মানবতার কল্যাণ ও শান্তির দূত হিসেবে তাঁর পৃথিবীতে আগমন করেন। তাই ঈদে মিলাদুন্নবী এবং হযরত মুহাম্মদ (দ.)’র আদর্শ আমাদের প্রত্যেকের ধারণ এবং লালন করতে হবে। তিনি আরো বলেন, আজমীর শরীফের মঈনুদ্দীন চিশতী সৈয়দ হাসান সানজরী, হযরত শাহ্ জালাল, গাউছুল আ’যম মাইজভাণ্ডারীসহ বিশ্বের অলিগণ পৃথিবীতে শান্তি স্থাপন করে চলেছেন। সারা বিশ্বের মুক্তির কান্ডারী। বাংলাদেশে শাহ্সূফী সাইয়্যিদ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী ওয়াল হোসাইনী আল্-মাইজভাণ্ডারী এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য মোবারকবাদ জানাচ্ছি। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিন্দন জানান।

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য উপস্থাপন করেন আন্তর্জাতিক শান্তি সম্মেলনের আহ্বায়ক শাহ্জাদা সাইয়্যিদ মাশুক-এ-মইনুদ্দীন আল্-হাসানী। এতে অতিথি ও আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অবঃ) সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম বীর বিক্রম, অ্যামেরিকান বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির ভিসি প্রফেসর ড. আতাউর রহমান মিয়াজি, গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান, নোয়াখালী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. ওয়াহিদুজ্জামান, তুরস্কের দারুল ইসলাম কলেজের ডীন শায়খ ড. সৈয়দ মোহাম্মদ ই এল হোসাইনী, মরক্কোর ওয়াজদা কমিশন ইউনিভার্সিটির প্রফেসর শায়খ ড. মোঃ লাকদার দারফুফি, ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব সূফীজমের উপদেষ্টা, ড. শায়খ আহমদ তিজানি বিন ওমর, ইরানিয়ান অ্যাম্বাস্যাডর ড. আফরোজ, ভারতের ইসলামিক স্কলার, শায়খ মোঃ সাখাওয়াত হোসাইন বারাকাতী, প্রফেসর ড. রফিকুল আলম।

খেয়াঘাটে ‘রান ফর লাইফ’, সুস্থতার বার্তা নিয়ে ৩ কিলোমিটার দৌড়

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম
খেয়াঘাটে ‘রান ফর লাইফ’, সুস্থতার বার্তা নিয়ে ৩ কিলোমিটার দৌড়

মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত শরীরচর্চায় উৎসাহিত করা এবং সুস্থ জীবনযাপনের বার্তা ছড়িয়ে দিতে চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘রান ফর লাইফ’ শীর্ষক ৩ কিলোমিটার ফান রান। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৬টায় উপজেলার পরিচিত পর্যটনকেন্দ্র খেয়াঘাট এলাকায় এ আয়োজন করা হয়।

ভোরের নির্মল পরিবেশে আয়োজিত এ দৌড়ে অংশগ্রহণকারীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে শাহরাস্তি ওয়াকওয়ে। শরীরচর্চার পাশাপাশি আনন্দ ও সুস্থতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

‘Vital Mahadi Run’ পেজের অ্যাডমিন মো. মেহেদী হাসান এবং ‘মানুষের কথা’ পেজের অ্যাডমিন মো. সোহেল আহমেদের যৌথ উদ্যোগে এ ফান রানের আয়োজন করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের রিপোর্টিং সময় ছিল ভোর সাড়ে ৫টা।

আয়োজকেরা জানান, শাহরাস্তি ওয়াকওয়ের সূচীপাড়া ব্রিজ-সংলগ্ন স্থান থেকে দৌড় শুরু হয়। সেখান থেকে রানাররা গন্দপুর ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এগিয়ে যান। পরে ইউ-টার্ন নিয়ে একই পথে ফিরে এসে মোট ৩ কিলোমিটার দৌড় সম্পন্ন করেন।

Model Hospital

আয়োজনটিতে ফুড স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করে ‘ইলশে বাড়ি’। প্রতিষ্ঠানটি চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী ইলিশ সারা দেশে সরবরাহ করে থাকে।

অন্যদিকে, মেডেল স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করেন শাহরাস্তির মেহের উত্তর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. লোকমান হোসেন মুন্সী। তাঁর পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারীদের জন্য কাস্টমাইজড মেডেলের ব্যবস্থা করা হয়। মেডেল পেয়ে রানারদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ ও আনন্দ দেখা যায়।

আয়োজকেরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন তরুণসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষকে নিয়মিত শরীরচর্চায় আগ্রহী করে তুলবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি ও সুস্থ সমাজ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, ‘রান ফর লাইফ’-এর এই উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং আরও বেশি মানুষকে সুস্থ জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করবে।

‘রান ফর লাইফ’-এর প্রত্যয়—সুস্থ শরীর, সুন্দর সমাজ।