শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরের চার কলেজের শিক্ষকবৃন্দের সাথে মাউশির মহাপরিচালকের মতবিনিময়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২২, ৩:৫৬ পিএম
চাঁদপুরের চার কলেজের শিক্ষকবৃন্দের সাথে মাউশির মহাপরিচালকের মতবিনিময়

ক্যাম্পাস রিপোর্ট : মেঘনাপাড়ের বাতিঘর বলে খ্যাত চাঁদপুর সরকারি কলেজের সম্মেলন কক্ষে শুক্রবার (১৪ অক্টোম্বর) বেলা আড়াইটায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর নেহাল আহমেদ চাঁদপুর সরকারি কলেজ, চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজ, পুরান বাজার কলেজ এবং বাবুরহাট কলেজের শিক্ষকবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করেন।

চাঁদপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর অসিত বরণ দাশের সভাপ্রধানে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে মাউশি আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিচালক প্রফেসর সোমেশ কর চৌধুরী, চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. মাসুদুর রহমান, পুরান বাজার কলেজের অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার এবং বাবুরহাট স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. মোশারফ হোসেন বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা চাঁদপুরের উন্নয়নের রূপকার, মাটি ও মানুষের নেত্রী, চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এর গতিশীল নেতৃত্বের শিক্ষাক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে এবং আরো এগিয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যাক্ত করেন। শিক্ষকদের কিছু সমস্যার কথাও তারা তুলে ধরেন এবং মহাপরিচালক তা নোট করে নেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে চাঁদপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর অসিত বরণ দাশ ঘোষণা করেন, আজ ১৪ অক্টোবর শুক্রবার মাউশির মহাপরিচালক প্রফেসর নেহাল আহমেদ এর শুভ জন্মদিন। করতালির মাধ্যমে উপস্থিত সকলে মহাপরিচালককে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান। চাঁদপুর সরকারি কলেজ, চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজ, পুরান বাজার কলেজ এবং বাবুরহাট স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষগণ একে একে মহাপরিচালক কে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এরপর মহপরিচালক প্রফেসর নেহাল আহমেদ জন্মদিনের কেক কেটে চার কলেজের অধ্যক্ষবৃন্দকে খাইয়ে দেন এবং উপস্থিত সকলের মাঝে উক্ত কেক বিতরণ করেন।

Model Hospital

মহাপরিচালক প্রফেসর নেহাল আহমেদ বলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরসহ শিক্ষার সকল ক্ষেত্রে উন্নয়ন হচ্ছে এবং ভবিষ্যৎ এ আরো অনেক উন্নয়ন দৃশ্যমান হবে। শিক্ষকদের পদোন্নতিসহ, বেসরকারি শিক্ষকদের এমপিও ডিজিটালী করার প্রচেষ্টা চলছে। আগামীতে সকলকে সাথে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর গতিশীল নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আরো এগিয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রফেসর নেহাল আহমেদ চাঁদপুর সরকারি কলেজ, চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজ এবং পুরান বাজার কলেজের সামগ্রিক পরিবেশ দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

চাঁদপুর সরকারি কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর অসিত বরণ দাশ বলেন, ‘‘আজ চাঁদপুরের শিক্ষা পরিবারের সকলের আনন্দের দিন, উৎসবের দিন। আজ চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে উদ্বোধন হল ভাষাবীর এম এ ওয়াদুদ জাতীয় বির্তক উৎসব। আজ আমাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছেন শিক্ষা পরিবারের অভিভাবক মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ এবং আজ অধ্যাপক নেহাল আহমেদ এঁর শুভ জন্মদিন। মাউশির নিদের্শনা বাস্তবায়নে চাঁদপুর সরকারি কলেজ পরিবার সবসময় অঙ্গিকারবদ্ধ।

চাঁদপুর সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ আবুল খায়ের সরকার, শিক্ষক পরিষদ সম্পাদক মোহাম্মদ কামরুল হাছান এবং চার কলেজের প্রায় দুইশত শিক্ষক মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’