বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

নানা সমস্যায় জর্জরিত অভিভাবকহীন শতবর্ষী মহামায়া বাজার : নেই কোন উন্নয়ন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২২, ৫:৪৯ এম
নানা সমস্যায় জর্জরিত অভিভাবকহীন শতবর্ষী মহামায়া বাজার : নেই কোন উন্নয়ন
মাসুদ হোসেন : চাঁদপুর সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যিক কেন্দ্র হচ্ছে মহামায়া বাজার। চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের কোল ঘেঁষা এ বাজারটিতে দীর্ঘ এক যুগের মতো ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচন না হওয়ায় বর্তমানে তা অভিভাবক শূন্য। প্রায় শতবর্ষী এ বাজারটির দিকে তাকালে মুখ ফিরিয়ে নিতে ইচ্ছে করবে যেকারো। অথচ প্রতি বছর লাখ লাখ টাকা সরকারকে রাজস্ব দিলেও সকল প্রকার সুবিধা থেকে বঞ্চিত ক্রেতা-বিক্রেতাসহ জনসাধারণ। চলতি বছরও এই বাজারটি ১৩ লক্ষ ৩১ হাজার পাঁচশ টাকা রাজস্ব পায় সরকার।
সরেজমিনে গিয়ে বাজারটি ঘুরে দেখা যায়, ঐতিহ্যবাহী এ বাজার ব্যবসায়ীদের মনগড়া সিদ্ধান্তে চলে ব্যবসা বাণিজ্য। যে যার মত করে মালামাল সাজিয়ে দখল করে নিয়েছে  বাজার গলিগুলো। রোগী নিয়ে একটি রিকশাও চলাচলের স্থান রাখেনি অনেক গলির পাশের ব্যবসায়ীরা। পথচারী কিংবা ক্রেতা সাধারণ হাটতে গিয়ে খেতে হয় ব্যবসায়ীদের সাজানো মালামালের ধাক্কা। ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে বাজারের ভিতর।
এছাড়াও বাজারের উপর চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের দুই পাশে অস্থায়ী কাঁচা বাজার, হকার আর অটো স্ট্যান্ডের কারনে যানজট লেগে থাকে প্রতিনিয়ত। সেই সাথে বাজার ব্যবসায়ীদের বর্জ্য ফেলার জন্য নেই কোন ডাস্টবিন। এতে করে যে যার মত এদিক সেদিক ময়লা ফেলে পরিবেশ নষ্ট করছেন ব্যবসায়ীরা। স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছেন ক্রেতা-বিক্রেতাসহ বাজারে আগত জনসাধারণ। দম বন্ধ হয়ে আসে টয়লেটগুলোর দূর্গন্ধ ও নোংরা পরিবেশে। এতে যেতে চান না ব্যবসায়ী কিংবা জনসাধারণ। অস্থায়ী দুইজন নাইট গার্ড দিয়ে চলছে এত বড় বাজারের নিরাপত্তার কার্যক্রম। যা কোন অবস্থাতেই পর্যাপ্ত নয়। এতো বড় বাজারে প্রয়োজন অন্তত ৬জন নিরাপত্তা কর্মী। যার অভাবে প্রতি মাসে দুই চারটি চুরির ঘটনা ঘটছে এ বাজারটিতে। এই ভয়ে অনেক ব্যবসায়ীরা দোকানেই রাত্রী যাপন করতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। বাজারে বর্তমানে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে, কোন দোকানে অগ্নিকান্ড ঘটলে বাজারের আশেপাশে কোন পানি না থাকায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসেও বিপাকে পড়তে হবে। এতে চরম ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে ঐ ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদেরকে।
নিয়ন্ত্রণহীন এই বাজার ব্যবসীরা তাদের মনগড়া দামে বিক্রি করছেন পণ্যসামগ্রী। সাধারণ ক্রেতারা দীর্ঘ দিন অভিযোগ করছে পণ্য ভিত্তিক সিন্ডিকেট নিয়ে। এদিকে নির্দিষ্ট কোন পরিচালনা কমিটি না থাকায় ব্যবসায়ীরাও তাদের সমস্যার কথা জানাতে পারছেন না কারো কাছে। অস্থায়ী দু চারজন ব্যবসীদের দিয়ে চালিয়ে নিচ্ছেন বাজারের আয় ব্যায় হিসাব। অথচ চার উপজেলার পার্শ্ববর্তী একটি ব্যস্ততম ব্যবসা কেন্দ্র এটি। চাঁদপুর সদর, হাজীগঞ্জ, মতলব দক্ষিণ ও ফরিদগঞ্জ উপজেলার মানুষের জনসমাগম ঘটে এ বাজারটিতে। উৎপাদন কারখানা, আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সহ জনগুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এই এলাকায় থাকায় এই বাজারের গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়াও এই বাজারের চতুর্দিকে রয়েছে মাদ্রাসা, ব্যাংক-বীমা,এনজিও সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এ সকল প্রতিষ্ঠান থাকার কারণে এই এলাকায় ঘনবসতি দিন দিন বেড়েই চলছে। তাদের কেনা কাটার নির্ভরযোগ্য বাজার হচ্ছে মহামায়া।
এ বাজারে প্রতিনিয়ত দূর-দূরান্ত থেকে বাজার করতে আসে শত শত মানুষ। বাজারটি আশেপাশের মধ্যে সবচেয়ে বড় হওয়ায় ক্রেতা-বিক্রেতা সমাগমও ঘটে ব্যাপক। কিন্তু সবচেয়ে সমস্যার বিষয় হচ্ছে, মহামায়া বাজারে নেই কোন শৃঙ্খলা, ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রিক। তাই একটি সুষ্ঠু নির্বাচন দিয়ে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা ও বাজারের নিত্যদিনের সমস্যাগুলি সমাধান হওয়া জরুরি বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
বাজারটি সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ভিতর হওয়ায় ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মাসুদুর রহমান নান্টু পাটওয়ারী বলেন, বাজারের অনেক সমস্যা রয়েছে। আমরা কয়েকবার বসেছি একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়ে। তবে সহসাই তা সমাধান করণে ব্যবসায়ীদের নিয়ে বসে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে কাজ করছি।
এর আগে গত দুই মাস আগে চাঁদপুর সদর উপজেলার সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিঃ দাঃ) ফাহমিদা হক বলেন, বাজারের দায়িত্বশীল ব্যবসায়ীদের লিখিত অভিযোগ কিংবা সমস্যার কথা জানালে উপজেলা প্রশাসন তা ব্যবস্থা নিবে।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital