শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহমাহমুদপুরে বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় বিভিন্ন মসজিদে মিলাদ ও দোয়া

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২১, ৫:৪৩ পিএম
শাহমাহমুদপুরে বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় বিভিন্ন মসজিদে মিলাদ ও দোয়া
মাসুদ হোসেন : বিএনপি’র চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি ও সুস্থতা কামনায় চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন মসজিদে মসজিদে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে ইউনিয়ন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠন।
বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি ও শাহমাহমুদপুর ইউপি চেয়ারম্যান স্বপন মাহমুদের দিক নির্দেশনায় শুক্রবার (২৬ নভেম্বর) বাদ জুম’আ ইউনিয়নের মহামায়া বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, কেতুয়া জামে মসজিদ ও পাইকদী জামে মসজিদে এ দোয়ার আয়োজন করা হয়।
দোয়া মাহফিলে উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির বিভিন্ন নেতাকর্মী, বিভিন্ন মসজিদের ইমাম, মোয়াজ্জিন, মুসল্লিসহ কোমলমতি শিশুরা অংশ নেয়। দোয়া মাহফিল শেষে সকলের মাঝে তবারক বিতরণ করা হয়েছে।
শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনটি’র সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান স্বপন মাহমুদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে দোয়ায় অংশ গ্রহন করেন চাঁদপুর জেলা বিএনপি’র আহবায়ক শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, সদর উপজেলা বিএনপি’র সহ সভাপতি ও চাঁদপুর সরকারী কলেজের সাবেক এজিএস আবু তাহের খোকা, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক এমদাদুল হক মিলন, সদস্য শাহাজালাল দেওয়ান, ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামাল মিজি, সহ সভাপতি কবির হোসেন রনি, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিক কবিরাজ, প্রচার সম্পাদক মাসুদ বেপারী, ৯নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি মফিজ খান, সাধারণ সম্পাদক জসিম পাটওয়ারী, ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আঃ ছাত্তার, ৫নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মহসীন তপদার, বিএনপি নেতা মোঃ ছিদ্দিকুর রহমান, আলী আরশাদ গাজী, জেলা যুবদলের সম্মানিত সদস্য মোঃ রুমন হাজী, শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক রুবেল হোসেন পাটওয়ারী, সদস্য সচিব মোস্তফা কামাল সোহেল, যুগ্ম আহবায়ক মাহাবুব গাজী, শরীফ হোসেন, ওয়াসিম হাজী, ইকবাল খান, সদস্য সোহরাব হোসেন কুসুম, ফয়সাল হাজী, বিল্লাল হোসেন, ৯নং ওয়ার্ড সভাপতি নাছির হাজী, সহ সভাপতি নাছির হোসেন বৈদ্য, যুবদল নেতা মোবারক হোসেন, মমিন খান, ফয়েজ পাটওয়ারী, সদর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য আশেক এলাহী, শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সহ সভাপতি আল আমিন নয়নসহ ইউনিয়ন বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপি নেতারা জানান, সারা দেশের মসজিদে মসজিদে দোয়া এবং বিভিন্ন উপাসনালয়ে খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা সভা হয়েছে। বসুন্ধরায় এভার কেয়ার হাসপাতালে গত ১৩ নভেম্বর থেকে খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ হয়ে সিসিইউতে চিকিতসাধীন আছে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’