শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

মতলব উত্তরে চালের চেয়ে আটার দাম বেশি!

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২২, ৩:৫৮ পিএম
মতলব উত্তরে চালের চেয়ে আটার দাম বেশি!

মনিরুল ইসলাম মনির : মতলব উত্তরের বিভিন্ন বাজারে চালের দামের তুলনায় আটার দর রেকর্ড ছাড়িয়েছে। এক কেজি খোলা আটা ৬৪ টাকার নিচে পাওয়া যায় না। গ্রামের হাটবাজারে আটা বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়। এক কেজি চালের দামে এখন আর আটা মিলছে না। বাজারে ৫৬ টাকায় এক কেজি মোটা চাল মিললেও আটা কিনতে হচ্ছে ৬৪ টাকায়। অথচ চার মাস আগেও ৪০-৪২ টাকায় এক কেজি আটা পাওয়া যেত। সে সময় এক কেজি মোটা চালের দর ছিল ৪৫ থেকে ৫০ টাকা।

বাজারে চালের দামের তুলনায় আটার দামের ব্যবধান থাকত কেজিপ্রতি ৮ থেকে ১০ টাকা। কিন্তু বর্তমানে সেই চিরচেনা বাজার দরের চিত্র পাল্টে গেছে। বর্তমানে আটার দামের চেয়ে সস্তায় পাওয়া যায় চাল। সোমবার মতলব উত্তরের ছেংগারচর চাল বাজার ও মুদিবাজার ঘুরে চাল-আটার দামের এমন বৈপরীত চিত্র দেখা গেছে।

এদিকে, গত বছর থেকে চালের ঊর্ধ্বমুখী বাজারে শ্রমজীবী ও সাধারণ আয়ের পরিবারের খাবারে ঠাঁই করে নেয় স্বল্পমূল্যের আটা। বেশির ভাগ পরিবারে তিন বেলার খাবারে রুটিই থাকত দুই বেলা। তবে হঠাৎ আটার অস্থির বাজারে সেই চিত্র পাল্টে যেতে শুরু করেছে। দেশে গমের সংকটের কারণে আটার দাম দফায় দফায় বেড়ে প্রতি কেজি ৬৪ টাকায় উঠেছে। শহরের পাড়া-মহল্লার দোকানে এবং গ্রামের হাটবাজারে আটা বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৬৮ থেকে ৭০ টাকায়।

আটার তুলনায় বাজারে এখন কম দামে বিক্রি হচ্ছে মোটা চাল। বাজারে মোটা চাল ৫৬ টাকায় পাওয়া গেলেও এই দামে পাওয়া যাচ্ছে না আটা। বর্তমান বাজারে এক কেজি খোলা আটা ৬৪ টাকা এবং এক কেজি প্যাকেট আটা ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অপরদিকে বাজারে মোটা চালের কেজি ৫৬ টাকা এবং বেশি বিক্রীত বিআর-২৮ জাতের চাল ৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

Model Hospital

ছেংগারচর বাজারের চাল মার্কেটে চাল কিনতে আসা রিক্সা চালক মো. জয়নুল বলেন, আগে কম দরে আটা কিনে পরিবারে দুই বেলা খাওয়া হতো। বর্তমান বাজারে আটার চেয়ে চালের দামই কম। এখন আটার বদলে তিন বেলা ভাত খাচ্ছি। আটা এখন গরিবের হাতের নাগালে নেই। আমাদের আয় বাড়েনি, রিকশা ভাড়া আগের মতোই আছে। কিন্তু দিন দিন সব জিনিসের দাম বাড়ছে। এতে আমাদের মতো মানুষের বাঁচা কঠিন হয়ে যাচ্ছে বলে আক্ষেপ করে জানান তিনি।

এ ব্যাপারে খুচরা চাল-আটা ব্যবসায়ীরা জানান- চালের দাম চড়া হলেও নতুন করে দাম বাড়েনি, স্থির রয়েছে। তবে লাগামহীনভাবে আটার দাম বেড়ে বর্তমানে ৬৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি বাজারে উচ্চমূল্যে আটা কিনতে হচ্ছে। এর প্রভাব খুচরা পর্যায়ে পড়েছে। দাম বৃদ্ধির কারণে আটার বিক্রি সিকিভাগে নেমে এসেছে। আটার বড় ক্রেতা সাধারণ মানুষ, তারা এখন কিনছে না তেমন।

রেকর্ড পরিমাণ চালের মজুদ আছে সরকারের গুদামেও। এরপরও সহনীয় পর্যায়ে আসছে না দাম। বিশাল শুল্কছাড়ের সুবিধায় ভারত থেকে চাল এলেও, পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই খুচরা বাজারে। পাইকারি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, শর্ত লঙ্ঘন করে অনেক প্রতিষ্ঠান, আমদানি করা চাল নিজেদের ব্র্যান্ডে প্যাকেট করে বিক্রি করছে।

চালের পাশাপাশি, অস্থিরতা চলছে আটা-ময়দার বাজারেও। প্রতি কেজি খোলা আটা-ময়দা বিক্রি হচ্ছে যথাক্রমে ৬০ ও ৭০ টাকায়। আর প্যাকেটজাতের জন্য গুণতে হবে ৫ টাকা বেশি করে। বিক্রেতারা বলছেন, চাহিদার মাত্র এক চতুর্থাংশ পণ্য সরবরাহ করছেন মিলাররা। ব্যবসায়ী আশঙ্কা, গমের আমদানি বৃদ্ধি করা না গেলে, আটা-ময়দার বাজারে আরো বড় সংকট দেখা দিতে পারে।

খেয়াঘাটে ‘রান ফর লাইফ’, সুস্থতার বার্তা নিয়ে ৩ কিলোমিটার দৌড়

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম
খেয়াঘাটে ‘রান ফর লাইফ’, সুস্থতার বার্তা নিয়ে ৩ কিলোমিটার দৌড়

মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত শরীরচর্চায় উৎসাহিত করা এবং সুস্থ জীবনযাপনের বার্তা ছড়িয়ে দিতে চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘রান ফর লাইফ’ শীর্ষক ৩ কিলোমিটার ফান রান। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৬টায় উপজেলার পরিচিত পর্যটনকেন্দ্র খেয়াঘাট এলাকায় এ আয়োজন করা হয়।

ভোরের নির্মল পরিবেশে আয়োজিত এ দৌড়ে অংশগ্রহণকারীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে শাহরাস্তি ওয়াকওয়ে। শরীরচর্চার পাশাপাশি আনন্দ ও সুস্থতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

‘Vital Mahadi Run’ পেজের অ্যাডমিন মো. মেহেদী হাসান এবং ‘মানুষের কথা’ পেজের অ্যাডমিন মো. সোহেল আহমেদের যৌথ উদ্যোগে এ ফান রানের আয়োজন করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের রিপোর্টিং সময় ছিল ভোর সাড়ে ৫টা।

আয়োজকেরা জানান, শাহরাস্তি ওয়াকওয়ের সূচীপাড়া ব্রিজ-সংলগ্ন স্থান থেকে দৌড় শুরু হয়। সেখান থেকে রানাররা গন্দপুর ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এগিয়ে যান। পরে ইউ-টার্ন নিয়ে একই পথে ফিরে এসে মোট ৩ কিলোমিটার দৌড় সম্পন্ন করেন।

Model Hospital

আয়োজনটিতে ফুড স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করে ‘ইলশে বাড়ি’। প্রতিষ্ঠানটি চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী ইলিশ সারা দেশে সরবরাহ করে থাকে।

অন্যদিকে, মেডেল স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করেন শাহরাস্তির মেহের উত্তর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. লোকমান হোসেন মুন্সী। তাঁর পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারীদের জন্য কাস্টমাইজড মেডেলের ব্যবস্থা করা হয়। মেডেল পেয়ে রানারদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ ও আনন্দ দেখা যায়।

আয়োজকেরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন তরুণসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষকে নিয়মিত শরীরচর্চায় আগ্রহী করে তুলবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি ও সুস্থ সমাজ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, ‘রান ফর লাইফ’-এর এই উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং আরও বেশি মানুষকে সুস্থ জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করবে।

‘রান ফর লাইফ’-এর প্রত্যয়—সুস্থ শরীর, সুন্দর সমাজ।