রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

আর্জেন্টিনার পতাকার রঙে রাঙানো ফরিদগঞ্জের ভান্টির ঘর!

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২২, ১২:২২ পিএম
আর্জেন্টিনার পতাকার রঙে রাঙানো ফরিদগঞ্জের ভান্টির ঘর!
এস. এম ইকবাল : চৌচালা একটি টিনের ঘর। সাদা আকাশি রঙে রাঙানো। এক পাশে ফুটবল তারকা মেসির ছবি। অন্য পাশে জাতীয় পতাকা ও নিজের ছবি আঁকা।
ঘরটি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের বাসিন্দা ফুটবল দল আর্জেন্টিনার সমর্থক আব্দুর রহমান ভান্টির। তার ঘরটি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। দলে দলে লোকজন আসছেন তার ঘরটি দেখতে।
আর মাত্র কয়েকদিন বাকি বিশ্বকাপ ফুটবলের। ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে দেশে দেশে বিশ্বকাপ উন্মাদনা। নিজ নিজ দলকে ভালোবেসে বিভিন্ন ভাবে জানান দিচ্ছেন ভক্তেরা।
উপজেলার ঘনিয়া গ্রামের বাচ্চু বেপারীর ছেলে আর্জেন্টিনার ভক্ত আব্দুর রহমান ভান্টি পেশায় রং মিস্ত্রী। তাঁর নিজের ঘর আর্জেন্টিনার পতাকার রঙে রং করাসহ ফুটবলের সুপারস্টার মেসির ছবি এঁকে এলাকায় সাড়া ফেলেছেন। বাড়িটি এখন আর্জেন্টিনার বাড়ি বলে পরিচিত।
ফুটবলপ্রেমী আব্দুর রহমান ভান্টি দুই ভাই এক বোনের মধ্যে মেঝো। তিনি মানুরী ফাজিল মাদ্রাসা থেকে আলিম পাশ করে। প্রবল ইচ্ছে থাকলেও পরিবারের দৈন্যতার কারনে পড়াশোনায় সামনে এগুতে পারেনি। পরিবারের অর্থনৈতিক হাল ধরতে রং মিস্ত্রী পেশায় কর্ম শুরু করেন। তার কষ্টে অর্জিত টাকা থেকে পরিবারের ব্যয় শেষে অল্প অল্প করে জমিয়ে তাদের টিনের বাড়িকে রাঙিয়েছেন আর্জেন্টিনার পতাকার আদলে। যার মাঝখানে রয়েছে বাংলাদেশের পতাকা, ফুটবল তারকা মেসি ও তার নিজের ছবি।
এলাকাবাসী কাউছার আহমেদ বিপ্লবসহ কয়েকজন জানান, ফুটবলের জাদুকর ম্যারাডোনার নাম শুনে এবং অনলাইনে ম্যারাডোনার পুরোনো খেলা দেখে আর্জেন্টিনার প্রেমে পড়েন ভান্টি । এরপর থেকে মনে প্রাণে আর্জেন্টিনা দল সর্মথন করে আসছেন । চলতি বছরের অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা দলকে শুধু সর্মথন নয়, তাঁর নিজের ঘরটি আর্জেন্টিনা পতাকার রঙে রাঙিয়েছেন। বর্তমানে লিওলেন মেসির খেলা দেখে মুগ্ধ। এবার আর্জেন্টিনা দল বিশ্বকাপ জিতবে এমন প্রত্যাশা তাঁর।
আর্জেন্টিনা দলকে শুধু ভালোবেসে ঘরের রং করেছেন এমন নয় আর্জেন্টিনার খেলার দিন এলাকার আর্জেন্টিনার সর্মথকদের নিয়ে বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজনের পরিকল্পনাও ভান্টির।
বৃহস্পতিবার বিকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আব্দুর রহমান ভান্টির বাড়ির টিনসেড ঘরের বেড়ার রং করা হয়েছে আর্জেন্টিনার পতাকা আদলে। ঘরের বেড়াতে এঁকেছেন আর্জেন্টাইন ফুটবলার মেসি, বাংলাদেশের পতাকা ও তার নিজের ছবি। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুক এবং স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে চলছে রসাত্মক আলোচনা।
ফুটবলপ্রেমী আব্দুর রহমান ভান্টি বলেন, ফুটবলের জাদুকর ম্যারাডোনার নাম বাবার মুখে শুনেছি। সে থেকেই অনলাইনে নিয়মিত ম্যারাডোনার পুরোনো খেলা গুলো দেখি এবং আর্জেন্টিনার ভক্ত হয়ে পড়ি। বেশি ভালোবাসি আর্জেন্টিনা তারকা ফুটবলার মেসিকে। তার ভালো বাসা থেকেই নিজে কাজ করে কিছু কিছু টাকা জমিয়ে আমাদের বসতরত টিনের ঘর করে আর্জেন্টিনা পতাকার আদলে রং করেছি।
গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাহাজান পাটওয়ারী জানান, আমি জেনেছি ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ঘনিয়া গ্রামে একটি ঘর আর্জেন্টিনার পতাকার রঙে রাঙানো হয়েছে। আমি সহসাই সেই ঘর পরিদর্শনে জন্য যাবো।
সাবেক ফুটবলার ও ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি কামরুজ্জামান বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে আমি বিষয়টি শুনেছি। সত্যি কথা বলতে এ দেশে যুবসমাজ ফুটবল মানেই আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলকেই বুঝে থাকে। আব্দুর রহমান ভান্টির সঙ্গে আমার সরাসরি দেখা না হলেও ফুটবলের প্রতি তার ভালোবাসাকে আমি সাধুবাদ জানাই। আমরা বীরের জাতি হিসেবে দেশ প্রেমকেই প্রথমে প্রাধান্য দিতে হবে।

১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

দীর্ঘ ১২৯ বছরের জীবনের অবসান। পৃথিবীর আলো-বাতাসে এক শতাব্দীরও বেশি সময় কাটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মুদাফর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি বারেক বেপারী। স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১২৯ বছর। তাঁর দীর্ঘায়ু নিয়ে এলাকায় রয়েছে নানা আলোচনা ও কৌতূহল।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীতে মেয়ের বাসায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বারেক বেপারী মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মুদাফর গ্রামের মৃত লতিফ বেপারীর ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রোববার বাদ আসর মুদাফর ঈদগাহ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তাঁর দৌহিত্র হাফেজ মো. হাফিজ উদ্দিন।

Model Hospital

১২৯ বছরের জীবন, স্থানীয়দের মুখে দীর্ঘায়ুর গল্প

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বারেক বেপারী প্রায় ১২৯ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। তাঁদের দাবি, এত দীর্ঘ জীবন পাওয়ায় তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তিদের একজন। তবে তাঁর বয়সের পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও যাচাইকৃত কোনো নথির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ১২৯ বছর বয়সের বিষয়টি স্থানীয়দের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মানবজীবনে শতবর্ষ পেরিয়ে বেঁচে থাকা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের জ্যাঁ লুইস কালমঁ ১২২ বছর ১৬৪ দিন বেঁচে ছিলেন, যা কোনো মানুষের সর্বোচ্চ যাচাইকৃত আয়ু হিসেবে স্বীকৃত।

বারেক বেপারীর জীবনও স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘায়ুর এক বিস্ময়কর গল্প হয়ে থাকবে। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের জীবনের অবসান ঘটিয়ে তিনি চলে গেলেন চিরবিদায়ের পথে। রেখে গেলেন অসংখ্য স্মৃতি, স্বজনদের ভালোবাসা আর দীর্ঘ জীবনের নানা গল্প।

দীর্ঘ জীবনের পথচলা থেমে গেল, কিন্তু স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন বারেক বেপারী।

তাঁর মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে প্রশস্ত করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।