সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

চরাঞ্চলে সবজি চাষে ঝুঁকছে চাষীরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২১ নভেম্বর, ২০২২, ২:৫৩ পিএম
চরাঞ্চলে সবজি চাষে ঝুঁকছে চাষীরা

মনিরুল ইসলাম মনির : কৃষকেরা অন্য ফসলের চাষ কমিয়ে সবজি চাষে ঝুঁকছেন। তবে সবজি চাষে বেড়েছে কীটনাশকের ব্যবহার। কৃষকেরা বলছেন, ধান চাষের চেয়ে সবজি চাষ লাভজনক। এক বছরে মৌসুমভিত্তিক নানা সবজি চাষ করা যায়। অল্প সময়ে ফসল ঘরে ওঠে। তবে খেতের ফসল রক্ষার জন্য ঘন ঘন কীটনাশক ব্যবহার করতে হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, এবার ১ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন আগাম সবজির চাষ হয়েছে। এ ছাড়া চরাঞ্চলের জমিতে মুলা, শিম, বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, ঢ্যাঁড়সসহ নানা জাতের সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ২০০ হেক্টর।

উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, মাইলের পর মাইল জুড়ে শীতের হরেক রকম সবজি চাষ করা হচ্ছে। এরই মধ্যে মুলা, শিম, বাঁধাকপি, ফুলকপি, গাজরসহ শীতের বেশ কিছু আগাম সবজি বাজারে উঠেছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এসব সবজির দাম বেশি।

Model Hospital

কৃষকেরা বলেন, ভালো দাম পাওয়ায় শীতকালীন সবজি চাষে তাঁদের আগ্রহ বেড়েছে। আবার আবহাওয়াও অনুকূলে।
উপজেলার চরকাশিম গ্রামের প্রান্তিক কৃষক ইব্রাহিম গাজী (৫৫) দেড় দশক ধরে সবজির চাষ করছেন। ২০০৭ সালে বিঘাখানেক জমিতে টমেটো ও বেগুন লাগানোর মধ্য দিয়ে সবজির চাষ শুরু করেন।

জিল্লুর রহমান বকাউল বলেন, ধান চাষে লাভ নেই। শুধু ভাতের জন্যই বিঘা দুয়েক জমিতে আমন ধানের চাষ করেছেন। বাকি তিন বিঘায় শীতকালীন নানা সবজি লাগিয়েছেন। এক দশক আগেও সবজিখেতে দুই সপ্তাহে একবার কীটনাশক ছিটালে চলত। এখন পোকা আর রোগবালাইয়ের আক্রমণ বেড়েছে। দুদিন পরপর খেতে কীটনাশক স্প্রে করতে হয়। কীটনাশক ছিটানোর পরপরই কোনো কোনো সবজি খেত থেকে তুলে হাটে নিতে হয়।

চরওমেদ গ্রামের কৃষক আলাউদ্দিন (৫৮) আট বিঘা জমি চাষ করেন। একসময় শুধু আমন, বোরো ধান আর কলা চাষাবাদ করতেন।

কয়েক বছর ধরে অন্য ফসলের চাষাবাদ কমিয়ে সবজি চাষে ঝুঁকছেন। এ বছর তিনি ফুলকপি, পটোল, আগাম জাতের আলু এবং বিভিন্ন জাতের শাক চাষ করেছেন। তিনি বলেন, আগামী বছর আমন চাষ কমিয়ে পুরো জমিতেই সবজি চাষাবাদের ইচ্ছা আছে। ধান চাষের বদলে সবজিতে ঝুঁকেছেন কেন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ধান চাষে লোকসান দিতে হয়। সবজি চাষে চার গুণ লাভ।

শুধু কৃষকেরা নন, সবজি চাষে ঝুঁকছেন শিক্ষিত তরুণেরাও। তিনি এ বছর ১৫ বিঘা জমিতে চাষাবাদ করেছেন। এর মধ্যে পাঁচ বিঘায় আছে সবজি। খেতে অতিমাত্রায় কীটনাশক ব্যবহারে স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বিবেচনা করে এই কৃষক ভারমি কম্পোস্ট সার ব্যবহার করছেন। অরগানিক পদ্ধতিতে পোকামাকড় দমন করছেন।

রাজ্জাক মিয়া বলেন, কীটনাশক ছিটানো খেতের সবজি খেয়ে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। এ কারণে কীটনাশকের ব্যবহার শূন্যতে আনতে নানা প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। পাশাপাশি অন্যদের সচেতন করতে কাজ করছেন।

মতলব উত্তর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সালাউদ্দিন বলেন, মতলব উত্তর উপজেলার চরাঞ্চল’সহ বিভিন্ন এলাকায় শীতকালিন আগাম সবজি চাষ করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে সবজি চাষের। সবজির দাম আশানুরূপ হওয়ায় চাষীরা সবজি চাষ করছে।

তিনি আরো বলেন, উপজেলার বিভিন্ন ব্লকের দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তাগন চাষীদের সময়োপযুগী পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।

চাঁদপুরে আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক 

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৫ এম
চাঁদপুরে আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক 

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা তামজিদ মৃধা

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে পুলিশের অভিযানে আটক হওয়া নিষিদ্ধঘোষিত ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতিকে ছাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদসহ ইউনিয়ন বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে। এঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ এলাকাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বইছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আশ্বিনপুর মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ছাড়িয়ে নেওয়া নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ওই নেতার নাম তামজিদ হাসান মৃধা (৩২)। তিনি মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি। তামজিদ মৃধা ওই ইউনিয়নের আশ্বিনপুর গ্রামের মৃত আবদুল আউয়াল বাচ্চু মৃধার ছেলে। তার দুই ভাই বিএনপির রাজনীতির সাথে জরিত। এক ভাই তোফায়েল মৃধা উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং আরেক ভাই আলম মৃধা ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক।
তামজিদ মৃধার বিরুদ্ধে মতলব দক্ষিণ থানায় ২০২৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে।
​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আশ্বিনপুর মাদ্রাসার সামনে থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন শাখার সভাপতি তামজিদ হাসান মৃধাকে আটক করে পুলিশ। খবর পেয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শরীফ পাটোয়ারী, উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং আটক তামজিদ মৃধার বড় ভাই তোফায়েল মৃধা, আরেক ভাই ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক আলম মৃধাসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে তাঁরা পুলিশকে চাপ দিয়ে আটক ছাত্রলীগ সভাপতিকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। এ ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীসহ এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় বইছে।
​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিএনপির নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী জানান, আটক তামজিদ মৃধার কাছ থেকে মাদক উদ্ধার করা হলেও সবকিছু জেনে শুনে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তাঁকে ছাড়িয়ে নেন বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদ। এর ফলে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এলাকাবাসীর দাবি, গত ৫ আগস্টের পর থেকে এই বিএনপি নেতা সরকারি গাছ বিক্রি, সরকারি চাল আত্মসাৎসহ নানা ধরনের অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন। মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দের কাছে বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্ত করে অবিলম্বে আবুল কালাম আজাদসহ তার সহযোগীদের দল থেকে বহিষ্কারের জোর দাবি জানান তারা।
​ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে মতলব দক্ষিণ থানা এসআই দেলোয়ার হোসেন জানায়, অভিযান চালানোর সময় তানজিদ মৃধাকে আটক করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ এসে তাঁকে নিয়ে যান। তবে তাৎক্ষণিক তামজিদ মৃধা যে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আমরা তা শনাক্ত করতে পারেনি। পরে বিষয়টি জানা গেছে সে ছাত্রলীগ নেতা।
​অভিযোগের বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, তামজিদ মৃধাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার সময় আমি ছিলাম না। তার ভাই তোফায়েল মৃধা ও আলম মৃধা তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিয়েছে। আমি পরে গিয়ে জানতে পেরেছি পুলিশ তাকে ছেড়ে দিয়েছে।