বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলব উত্তরে জোরপূর্বক জায়গা দখলের অভিযোগ, গাছের চারা কেটে বিনষ্ট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২২, ১১:০৭ এম
মতলব উত্তরে জোরপূর্বক জায়গা দখলের অভিযোগ, গাছের চারা কেটে বিনষ্ট

মতলব উত্তর ব্যুরো : মতলব উত্তর উপজেলার লুধুয়া গ্রামে জোরপূর্বক জায়গা দখল করে ব্যক্তিগত রাস্তা নির্মাণের চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জায়গা দখলের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ২০ টি গাছের চারা কেটে বিনষ্ট করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় প্রবাসী নজরুল ইসলামের স্ত্রী তাছলিমা বেগম (৪২) বাদী হয়ে ৩ ডিসেম্বর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগে বিবাদী করা হয়েছে, একই গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে কাউছার (৩৫), শাহজাহানের ছেলে ইকবাল (২৭),সেকান্দর হাওলাদারের ছেলে ফারুক (৫০) মোখলেছ হাওলাদারের ছেলে কবির হাওলাদার (৫০), জাকির হাওলাদার (৫৫), আমির হোসেনের স্ত্রী ফারজানা বেগম (২২) ও শাহজাহানের ছেলে শাহজালাল (৩০)।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বিবাদীরা বাদীর উক্ত জায়গা জোর পূর্বক ভাবে দখল করার জন্য বিভিন্ন ধরনের পায়তারা করে আসছে। বাদীর বসত বাড়ীর পশ্চিম পাশে পাকা রাস্তার সংলগ্ন ১৫ শতাংশ জায়গা কাঠের বাগান চার দিকে সিমেন্টের পালা ও নেট দ্বারা আবদ্দ ছিল। বিবাদীরা ওই কাঠের বাগানের পশ্চিম পাশ দিয়ে জোরপূর্বক ভাবে ব্যক্তিগত রাস্তায নেওয়ার জন্য পূর্ব হতে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছিল।

গত ৩ ডিসেম্বর সকাল ৬ ঘটিকার সময় দক্ষিণ লুধুয়া গ্রামস্থ বাদীর বসত বাড়ীর পশ্চিম পাশে পাকা রাস্তার সংলগ্ন কাঠের বাগানে বিবাদীরা জোরপূর্বক ভাবে বাদীর কাঠের বাগানের উপর দিয়ে রাস্তা নেওয়ার জন্য দা, কুড়াল, লাঠি নিয়া দুই সাড়ির ২০টি বেলজিয়াম গাছ কেটে বিনষ্ট করেছে যার মূল্য ২০ হাজার টাকা এবং ১৭টি সিমেন্টের পালা যার মূল্য ১৭ হাজার টাকা ও নেট, বাঁশ যাহার মূল্য ১০ হাজার টাকা ক্ষতিসাধন করেছে। বাদী তাছলিমা বেগম বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে আমি ও সাক্ষীগন ঘটনাস্থলে গিয়ে বাঁধা প্রদান করিলে উক্ত বিবাদীরা আমাকে গাল মন্দ করে এবং মারমুখী হয়ে আমার উপর অতর্কিত খিল, ঘুষি, লাথি মেরে মুখের ঠোটের উপর ও বাম হাতের তালুর উপর সাধারন ও গুরুতর নীলা ফুলা জখম করেছে।

Model Hospital

উক্ত বিবাদীদের কার্যকলাপে বাঁধা প্রদান করলে আমাকে মেরে লাশ গুম করিয়া ফেলিবে বলে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। বিবাদীদের হাত থেকে রক্ষা করে সাক্ষীগন আমাকে চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহন করেন। বিবাদীদের হুমকীতে আমি ও আমার পরিবারের সকল সদস্যগন জীবনের নিরাপত্তাহীনতা ভুগতেছি। আমি আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার চাই।

এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে মতলব উত্তর থানার এসআই মোবারক হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ও শান্তিপুর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার জন্য উভয় পক্ষকে অনুরোধ করেন।

মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ভর্তির মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে মো. সিয়াম (২০) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সিয়াম উপজেলার খাগুরিয়া গ্রামের কৃষক আবদুস সোবাহানের ছেলে।

স্বজনেরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন সিয়াম। তবে কোনো চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে বাবা আবদুস সোবাহান তাকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।

হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে ডেঙ্গুর উপসর্গ শনাক্ত হয়। এ সময় তার নাক ও মুখ দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে রওনা দেওয়ার আগেই রাত নয়টার দিকে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

Model Hospital

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন মামুন জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর দেখা যায় তরুণের নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানোর সব প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তার আগেই তার মৃত্যু হয়।

ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে বাবা আবদুস সোবাহান বলেন, আমার পোলাডার এক সপ্তাহ ধইরা জ্বর আছিল। ওরে কইছিলাম ডাক্তারের কাছে যাইতে, কিন্তু হুনল না। অবস্থা বেশি খারাপ হইলে সন্ধ্যায় হাসপাতালে আনলাম। হাসপাতালে আনার পরই নাক-মুখ দিয়া রক্ত পড়া শুরু হয়। ঢাকা নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও ঠিক করছিলাম, কিন্তু তার আগেই আমার সব শ্যাষ অইয়া গেল।