রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩

বোরো ধান রোপনে বেড়েছে ব্যয় খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ৪:৩৬ পিএম
বোরো ধান রোপনে বেড়েছে ব্যয় খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক

মনিরুল ইসলাম মনির: ‍জ্বালানী তেল ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় মতলব উত্তর উপজেলায় ইরি-বরো চাষাবাদে ব্যয় বেড়েছে কৃষকদের, এতে উৎপাদন খরচ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। দেধের দ্বিতীয় বৃহত্তর মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্প স্থানীয় খাদ্য চাহিদা মিটিয়ে জাতীয় অর্থনীতিতে খাদ্যের জোগান দেয়া মতলব উত্তর’সহ আশপাশ এলাকার বেশির ভাগ মানুষ কৃষি নির্ভরশীল। দেশের খাদ্য উৎপাদনে একটি বড় অংশের যোগানদাতা এই এলাকার কৃষকেরা।

কৃষি উৎপাদনের এই এলাকায় শুধু মানুষই নয় বরং অধিকাংশ জীবজন্তুর জীবনচক্র আবর্তিত হয় কৃষিকে কেন্দ্র করেই। ভোগ্য পণ্যের মূল্যও অনেকটা নির্ভর করে কৃষির উৎপাদন খরচের উপর। উৎপাদন ব্যয় যত বেশি হয়, নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যও ততোই বাড়ে। একদিকে তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষক যেমন তার উৎপাদন ব্যয় নিয়ে দুশ্চিন্তায়, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে শঙ্কিত।

বর্তমানে কৃষি উৎপাদন অনেকটা যন্ত্র নির্ভরশীল। জ্বালানী তেলের মূল্য বৃদ্ধিতে ব্যাপক হারে বেড়েছে এই অঞ্চলের কৃষি উৎপাদনের খরচ। জমি চাষ, পানি সেচ, ধান কাটা, মাড়াই, পরিবহন’সহ সব কিছুুতেই ব্যবহৃত হয় তেল চালিত যন্ত্র। জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির ফলে প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যয় বৃদ্ধি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা। এতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।

কৃষকরা জানান, প্রতি হেক্টর বোরো ধানের জমি প্রতিবার চাষে ট্রাক্টর ভাড়া পূর্বে ছিল ৮০০-৯০০টাকা। বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে ১১০০-১২০০টাক।

Model Hospital

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবছর বোরো ধান চাষবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে জলায় ৯ হাজার ৩শ’ ৫০ হেক্টর জমিতে।

ছেংগারচর পৌর এলাকার কৃষক দুলাল প্রধান এবং তাফাজ্জল হোসেন বলেন, বোরো ধান রোপণের ক্ষেত্রে প্রতিটি জমি ভেদে ৩ থেকে ৪ বার চাষ করতে হয়। এক হেক্টর জমি চাষ করতে আগে খরচ হত ৪৮০০-৫৪০০ টাকা। কিন্তু বর্তমানে একই জমি চাষ করতে ৬৬০০-৭২০০টাকা লাগছে। একই ভাবে পানি সেচের মূল্যও বাড়েছে। জ্বালানী তেল (ডিজেলের) দাম বৃদ্ধি পাওয়ায়, ধান কাটা, মাড়াই’সহ পরিবহন খরচও বাড়বে। তবে উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর থেকে বিনামূল্যে বীজ সহায়তা পাওয়ায়, কিছুটা উপকার হয়েছে। একই কথা বলেন উপজেলার নাউরী গ্রামের মোবারক হোসেন’সহ অন্যন্য কৃষকরা।

পাওয়ার টিলার (জমি চাষ যন্ত্র) চালক সফিকুল বলেন, পূর্বে ডিজেলের দাম প্রতিলিটার ৬৫ টাকা ছিল যা বর্তমানে একলাফে বেড়ে হয়েছে ৮০টাকা। জ্বালানী তেলের দাম বৃদ্ধি হওয়ার কারণে চাষের মূল্যও বেশি নিতে বাধ্য হচ্ছি। সরকার পানি সেচ কাজে বিদ্যুতে যেমন ভর্তুকি দিয়েছেন, তেমনি কৃষি কাজে ব্যবহৃত জ্বালানী তেলে ভর্তুকি দিলে উৎপাদন ব্যয় কম হত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

মতলব উত্তর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সালাউদ্দিন জানান, উপজেলায় এবছর বোরো ধান চাষবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে সরকারীভাবে বিভিন্ন প্রণোদনার আওতায় কৃষকের মাঝে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। সরকারি সহায়তায় কিছুটা হলেও উৎপাদন ব্যয় কমবে বলে আশা করেন। সরকারিভাবে ধান ও চাল ক্রয় করায় ধান ও চালের দাম বেশি পাচ্ছে কৃষকরা। ধান চাষে কৃষকরা লাভবানই হবে।

শাহরাস্তিতে ফুটপাত দখলবিরোধী অভিযানে ৫ ব্যবসায়ীকে জরিমানা

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:১০ পিএম
শাহরাস্তিতে ফুটপাত দখলবিরোধী অভিযানে ৫ ব্যবসায়ীকে জরিমানা
শাহরাস্তিতে সরকারি সড়কের দুই পাশে পথচারীদের চলাচলের জায়গা দখল করে মালামাল রাখার দায়ে ৫ ব্যবসায়ীকে মোট ৮ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) শাহরাস্তি পৌরশহরের ঠাকুরবাজার ও কালীবাড়ি বাজারে উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভার যৌথ অভিযানে এ দণ্ড দেওয়া হয়।চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক এবং শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা খাতুনের নির্দেশনায় পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সামছুজ্জামান।
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ওই দুটি বাজারে দীর্ঘদিন ধরে একশ্রেণির ব্যবসায়ী ফুটপাত দখল করে মালামাল রাখছিলেন। পাশাপাশি অবৈধভাবে স্টিলের সাইনবোর্ড স্থাপন করে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছিল। এতে বাজার এলাকায় যানজট তৈরি হয়ে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছিলেন। এলাকাবাসীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন এ অভিযান চালায়।
অভিযানকালে ফুটপাত ও সড়কের পাশে মালামাল রেখে চলাচলে বাধা সৃষ্টির দায়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালিকের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এতে অভিযুক্ত ৫ ব্যবসায়ীকে অভিযানে স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এর ১০৯ ধারায় ৫টি মামলায় এ অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়৷ একই সঙ্গে সরকারি সড়কের পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা ও রাস্তায় রাখা মালামাল নিজ উদ্যোগে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) সামছুজ্জামান বলেন, “সরকারি রাস্তা ও পথচারীদের চলাচলের জায়গা দখল করে ব্যবসা পরিচালনার কোনো সুযোগ নেই। জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা এবং বাজারের যানজট নিরসনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ীদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত সীমানার মধ্যে মালামাল রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করে আবার রাস্তা দখল করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযানে শাহরাস্তি পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী, থানা পুলিশ ও উপজেলা আনসার সদস্যরা সহযোগিতা করেন।