বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

বোরো ধান রোপনে বেড়েছে ব্যয় খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ৪:৩৬ পিএম
বোরো ধান রোপনে বেড়েছে ব্যয় খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক

মনিরুল ইসলাম মনির: ‍জ্বালানী তেল ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় মতলব উত্তর উপজেলায় ইরি-বরো চাষাবাদে ব্যয় বেড়েছে কৃষকদের, এতে উৎপাদন খরচ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। দেধের দ্বিতীয় বৃহত্তর মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্প স্থানীয় খাদ্য চাহিদা মিটিয়ে জাতীয় অর্থনীতিতে খাদ্যের জোগান দেয়া মতলব উত্তর’সহ আশপাশ এলাকার বেশির ভাগ মানুষ কৃষি নির্ভরশীল। দেশের খাদ্য উৎপাদনে একটি বড় অংশের যোগানদাতা এই এলাকার কৃষকেরা।

কৃষি উৎপাদনের এই এলাকায় শুধু মানুষই নয় বরং অধিকাংশ জীবজন্তুর জীবনচক্র আবর্তিত হয় কৃষিকে কেন্দ্র করেই। ভোগ্য পণ্যের মূল্যও অনেকটা নির্ভর করে কৃষির উৎপাদন খরচের উপর। উৎপাদন ব্যয় যত বেশি হয়, নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যও ততোই বাড়ে। একদিকে তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষক যেমন তার উৎপাদন ব্যয় নিয়ে দুশ্চিন্তায়, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে শঙ্কিত।

বর্তমানে কৃষি উৎপাদন অনেকটা যন্ত্র নির্ভরশীল। জ্বালানী তেলের মূল্য বৃদ্ধিতে ব্যাপক হারে বেড়েছে এই অঞ্চলের কৃষি উৎপাদনের খরচ। জমি চাষ, পানি সেচ, ধান কাটা, মাড়াই, পরিবহন’সহ সব কিছুুতেই ব্যবহৃত হয় তেল চালিত যন্ত্র। জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির ফলে প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যয় বৃদ্ধি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা। এতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।

কৃষকরা জানান, প্রতি হেক্টর বোরো ধানের জমি প্রতিবার চাষে ট্রাক্টর ভাড়া পূর্বে ছিল ৮০০-৯০০টাকা। বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে ১১০০-১২০০টাক।

Model Hospital

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবছর বোরো ধান চাষবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে জলায় ৯ হাজার ৩শ’ ৫০ হেক্টর জমিতে।

ছেংগারচর পৌর এলাকার কৃষক দুলাল প্রধান এবং তাফাজ্জল হোসেন বলেন, বোরো ধান রোপণের ক্ষেত্রে প্রতিটি জমি ভেদে ৩ থেকে ৪ বার চাষ করতে হয়। এক হেক্টর জমি চাষ করতে আগে খরচ হত ৪৮০০-৫৪০০ টাকা। কিন্তু বর্তমানে একই জমি চাষ করতে ৬৬০০-৭২০০টাকা লাগছে। একই ভাবে পানি সেচের মূল্যও বাড়েছে। জ্বালানী তেল (ডিজেলের) দাম বৃদ্ধি পাওয়ায়, ধান কাটা, মাড়াই’সহ পরিবহন খরচও বাড়বে। তবে উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর থেকে বিনামূল্যে বীজ সহায়তা পাওয়ায়, কিছুটা উপকার হয়েছে। একই কথা বলেন উপজেলার নাউরী গ্রামের মোবারক হোসেন’সহ অন্যন্য কৃষকরা।

পাওয়ার টিলার (জমি চাষ যন্ত্র) চালক সফিকুল বলেন, পূর্বে ডিজেলের দাম প্রতিলিটার ৬৫ টাকা ছিল যা বর্তমানে একলাফে বেড়ে হয়েছে ৮০টাকা। জ্বালানী তেলের দাম বৃদ্ধি হওয়ার কারণে চাষের মূল্যও বেশি নিতে বাধ্য হচ্ছি। সরকার পানি সেচ কাজে বিদ্যুতে যেমন ভর্তুকি দিয়েছেন, তেমনি কৃষি কাজে ব্যবহৃত জ্বালানী তেলে ভর্তুকি দিলে উৎপাদন ব্যয় কম হত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

মতলব উত্তর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সালাউদ্দিন জানান, উপজেলায় এবছর বোরো ধান চাষবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে সরকারীভাবে বিভিন্ন প্রণোদনার আওতায় কৃষকের মাঝে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। সরকারি সহায়তায় কিছুটা হলেও উৎপাদন ব্যয় কমবে বলে আশা করেন। সরকারিভাবে ধান ও চাল ক্রয় করায় ধান ও চালের দাম বেশি পাচ্ছে কৃষকরা। ধান চাষে কৃষকরা লাভবানই হবে।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী
মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাছুয়াখাল জমাদার বাড়িতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করেছেন ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তিনি। এসময় তিনি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করেন। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদেরও সমন্বয় করা উচিত। যে কোনো দুর্যোগে খাদেরগাঁও ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকার জন্য আমি প্রস্তুত আছি।
পরিদর্শনকালে জেলা বিএনপির সদস্য ও মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ  পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।