শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

হাইমচর ২নং উত্তর আলগী ইউনিয়ন আ’লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২১, ১:১৪ পিএম
হাইমচর ২নং উত্তর আলগী ইউনিয়ন আ’লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত
মোঃ সাজ্জাদ হোসেন রনি : হাইমচর  উপজেলায় আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নির্ধারণ করার লক্ষে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বুধবার বিকেল ৪ টায় ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আমান উল্লাহ বরকান্দাজের সভাপতিত্বে উক্ত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের  সভাপতি হুমায়ুন কবির প্রধানীয়া। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক মো. নূর হোসেন পাটওয়ারী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা আওয়ামীলীগ সহ সভাপতি এম এ বাশার, যুগ্ম সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান চৌকদার,  সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম জাহিদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত  ছিলেন, উপজেলা আওয়ামীলীগ দপ্তর সম্পাদক মাকসুদ আলম খাঁন, উপজেলা যুবলীগ সাবেক সভাপতি মো. আতিকুর রহমান পাটওয়ারী,  উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ডেপুটি কমান্ডার হাফিজ আহমেদ মাষ্টার, উত্তর আলগী ইউপি চেয়ারম্যান মনির আহমেদ দুলাল পাটওয়ারী, ইউপি চেয়ারম্যান আহমেদ আলী মাষ্টার, হাবিবুর রহমান গাজি, উপজেলা যুবলীগ সদস্য ইসমাইল আখন প্রমুখ পরবর্তীতে বিকেল ৫ টায় ২য় অধিবেশনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ নৌকা প্রতিকে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীদের প্রস্তাব ও সমর্থন চাওয়া হলে,  উপজেলা যুবলীগ সাবেক সভাপতি মো. আতিকুর রহমান পাটওয়ারীকে প্রস্তাব করেন আওয়ামীলীগ নেতা হাবিবুর রহমান, সমর্থন করেন আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুর রাজ্জাক।
উপজেলা আওয়ামীলীগ দপ্তর সম্পাদক মাকসুদ আলম খাঁনকে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রস্তাব করেন, আওয়ামীলীগ নেতা শাহজান ভূইয়া, সমর্থন করেন আহমেদ উল্লাহ বরকান্দাজ।
যুবলীগ নেতা ইসমাইল আখনকে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রস্তাব করেন, আওয়ামীলীগ নেতা শফিকুল ইসলাম আখন, সমর্থন করেন আলী আজম পেদা।
ইউপি চেয়ারম্যান মনির আহমেদ দুলাল পাটওয়ারীকে প্রস্তাব করেন শাহজান মল্লিক, সমর্থন করেন আবুল কালাম গাজি।
হাবিবুর রহমান বেগের নাম প্রস্তাব রাখেন, নেছার আহমেদ (সাব), সমর্থন করেন বিল্লাল কবিরাজ।
২য় অধিবেশনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ৫ প্রার্থী একমত হয়ে ঘোষনা দেন, দল যাকে নৌকা প্রতিক দিবে সকল প্রার্থী নৌকার পক্ষে কাজ করে নৌকাকে বিজয়ী করবেন। নৌকার বিপক্ষে কোন প্রার্থী নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হবে না বলে ঘোষনা দেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’