শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলব উত্তরে পাড়া মহল্লায় আলো ছড়াচ্ছে তথ্য আপা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২১, ১:৩৮ পিএম
মতলব উত্তরে পাড়া মহল্লায় আলো ছড়াচ্ছে তথ্য আপা

মতলব উত্তরে তথ্য আপা স্বাস্থ্য সেবা দিচ্ছেন গ্রামে গ্রামে।

মতলব উত্তর ব্যুরো : মতলব উত্তরের পাড়া মহল্লায় করোনাকালীন সময়েও সেবা ও তথ্য প্রদানের মাধ্যমে নারীদের সচেতন করতে আলো ছড়াচ্ছে তথ্য আপা। নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মাস্ক বিতরণ, সঠিক উপায়ে মাস্ক ব্যবহার এবং স্বাস্থ্যবিধি ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাসহ নানানভাবে চালানো হচ্ছে কর্মতৎপরতা।

সরকার কর্তৃক গৃহীত রূপকল্প ২০২১ ও সপ্তম পঞ্চ বার্ষিকী পরিকল্পনা ২০১৬-২০২০ এবং এসডিজি’র লক্ষ্যমাত্রায় নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। দেশের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীর অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়ন দেশের সার্বিক অগ্রগতির অন্যতম শর্ত। নারীর ক্ষমতায়নে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। গ্রামের অসহায়, দরিদ্র, সুবিধা বিঞ্চিত কিংবা কম সুবিধা প্রাপ্ত নারীর তথ্যে প্রবেশাধিকার এবং তাদের তথ্য প্রযুক্তির সেবা প্রদান নিঃসন্দেহে নারীর ক্ষমতায়নকে তরান্বিত করবে।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক ‘তথ্য আপা’ ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে নারীদের ক্ষমতায়ন শীর্ষক প্রকল্পটি গৃহীত হয়।

মতলব উত্তর উপজেলা তথ্য সেবা কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার বলেন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, যৌতুক ও নারী নির্যাতন, বাল্য বিবাহ, জেন্ডার সমতা, ইন্টারনেটভিত্তিক যেকোন সেবা, চাকরির খবর ও আবেদনসহ যেকোন বিষয়ে সঠিক পরামর্শ পেতে উপজেলা তথ্য সেবা কেন্দ্র থেকে ফ্রি সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়। মাত্র কয়েক বছর আগেও প্রত্যন্ত গ্রাম গেলে ইন্টারনেট, কম্পিউটার, ই-মেইল কিংবা ভিডিও কনফারেন্সের মতো সেবাগুলোর সঙ্গে এলাকার যেসব নারীদের পরিচয় ছিল না। তারাই এখন যোগাযোগের এই ডিজিটাল সেবাগুলো গ্রহণ করেছেন।

Model Hospital

জেলার মধ্যে সেবা দিয়ে মতলব উত্তর তথ্য সেবা কর্তকর্তা তাসলিমা আক্তার প্রথম স্থানে রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে নারীদের পরিচয় করিয়ে প্রযুক্তিকে তাদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের হাতিয়ার রূপে ব্যবহার করে তাদের জীবনমান আরও সহজ, সুন্দর, উন্নত ও সমৃদ্ধ করেছে সরকারের এ তথ্য আপা প্রকল্প। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

মতলব উত্তর উপজেলায একজন অভিজ্ঞ ও দক্ষ তথ্য সেবা কর্মকর্তা ও দু’জন তথ্যসেবা সহকারী কর্মরত রয়েছেন।
তথ্য সেবা কর্মকর্তা তথা তথ্য আপা তাসলিমা আক্তার কেন্দ্রে বসেই নারীদের বিভিন্ন তথ্য সহায়তা দেন। বাকি দু’জন তথ্যসেবা সহকারী ল্যাপটপ নিয়ে বাড়ি-বাড়ি যান। তথ্য আপা প্রকল্পের অন্যতম প্রধান সুবিধা হল আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার।

শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ব্যবসা, জেন্ডার ও আইন এই ছয়টি বিষয়ে সেবা দেয়া হয়। আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে সেবাগ্রহীতাদের নিয়ে প্রতিমাসে দু’টি করে উঠান বৈঠক করা হয়। এ উঠান বৈঠকে ইউএনও, উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তা, আইটি বিশেষজ্ঞ, সমাজসেবী, সাংবাদিক, নারী উদ্যোক্তা, নারী আইনজ্ঞ, সমাজের নেতৃত্বদানকারী নারী, ইমাম ও চিকিৎসকসহ অনেকেই অংশ নেন।

সচেতনতামূলক এ উঠান বৈঠকে অংশ নিয়ে নারীরা তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যপারে অভিজ্ঞ হয়ে উঠছে। এছাড়া কোন সমস্যা কিংবা প্রশ্ন থাকলে তা ইন্টারনেটের মাধ্যমে সেই তথ্যসেবা দেয়া হয়। তৃণমূলের নারীদের দোরগোড়ায় তথ্যসেবা পৌঁছে দেয়াই মূলত ‘তথ্য আপা’ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। দেশের ৪৯০টি উপজেলায় তথ্যসেবা কেন্দ্র চালু রয়েছে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’