বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

মতলব উত্তরে জব্দকৃত জাটকা বন্টন নিয়ে মারামারি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ মার্চ, ২০২৩, ২:৩৮ পিএম
মতলব উত্তরে জব্দকৃত জাটকা বন্টন নিয়ে মারামারি

মতলব উত্তর উপজেলার বিভিন্নস্থানে ঝাটকা জব্দ করা হয়েছে। পরে আবার এ ঝাটকা বিতরন নিয়ে মারামরিতে এক ইউপি সদস্যসহ ৪ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

জানা যায়, ৩০ মার্চ ভোর রাতে দাউদকান্দি উপজেলার কিছু মাছ ব্যাবসায়ী মতলব উত্তরের এখলাছপুর থেকে মাছ নিয়ে বাগান বাড়ি ইউনিয়নের বরুরকান্দি গ্রামের মসজিদ সংলগ্ন রাস্তার পাশে বিল্লাল মিয়াজীর দালানের নিচে ও অন্যত্র মাছের ড্রাম রেখে চলে যায়। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. নজরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল হাসানকে ফোনের মাধ্যমে জানান।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার জব্দকৃত মাছগুলো আশেপাশের এতিমখানায় দিয়ে দিতে বলেন। ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম মাছ বিতরনের সময় উপস্থিত স্থানীয়দের মাঝে কথা-কাটাকাটির এক পর্য়ায়ে হট্টগোল বাদে ও পরে মারামারি হয়। এতে ইউপি সদস্যসহ ৪ জন আহত হয়েছে।

আহতরা হলেন, উপজেলার বরুরকান্দি গ্রামের মৃত. জলিল বেপারির ছেলে বিল্লাল হোসেন (৪৫), মৃত. নুরুল ইসলাম মেম্বারের ছেলে ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম (৪২), মৃত. আবদুল হকের ছেলে শামসুল হক (৪৮), ও তার ছেলে হাসান ইমরান (১৬)।

Model Hospital

শামসুল হক জানান, ৩০ মার্চ বৃহস্পতিবার সকালে বরুরকান্দি মসজিদ সংলগ্ন বিল্লাল মিয়াজীর দালানের সামনে ঝাটকা মাছ জব্দ করে বিতরন করা হচ্ছে। এমন খবর শুনে ঘটনাস্থলে যাই। গিয়ে দেখতে ও জানতে পাড়ি দাউদকান্দির মাছ ব্যবসায়ীরা অজ্ঞাত কারনে মাছ এখানে রেখে চলে যায়। এখানকার ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম ৫ ড্রাম মাছ ব্যবসায়ীদের দিয়ে দিয়েছে।

বাকী ৩ ড্রাম মাছ এতিমখানা ও স্থানীয়দের মাঝে বিতরন করছে। কেন দাউদকান্দির মাছ ব্যবসায়ীদের কাছে মাছ দেওয়া হলো এই কথা বলাতে ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম আমাকে দমক দেয় এবং তোর কাছে কৈফিয়ত দিতে হবে নাকি বলে। এমন সময় বিল্লাল বেপারি নামে মেম্বারের সহযোগী আমার উপর করে এবং আমার ছেলের উপরবহামলা করে।

এবিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম জানান, সকালে মতলব উত্তর থানার এসআই আবদুল আউয়ালের মাধ্যমে জানতে পারলাম মসজিদের কাছে কিছু ঝাটকা মাছ জব্দ আছে। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অনুমতিক্রমে স্থানীয় এতিমখানায় বিতরন করছিলাম। এমন সময় শামসুল হক ও তার ছেলে এসে মাছ চায়। এতিমখানায় দেওয়ার পর থাকলে পরে স্থানীয়দের দিবো একথা বলার পর শামসুল হক আমার উপর হামলা করে। এতে আমি ও বিল্লাল বেপারি নামে একজন আহতন হয়েছে। ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম আরো জানান, আমার নির্বাচনের সময় শামসুল হক আমার বিরোধীতা করছে। আজও সেই শত্রুতার জের ধরে বিনা কারনে আমার উপর হামলা করেছে।

এদিকে একই ইউনিয়নের গালিমখাঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে ৩ ড্রাম ও এক কেচ মাছ রেখে পালিয়ে যায় ব্যবসায়ীরা। পরে খবর পেয়ে মতলব উত্তর থানার এসআই শাহাদাৎ মাছগুলো জব্দ করে থানায় নিয়ে আসে।

পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশক্রমে বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরন করা হয়েছে। তবে বরুরকান্দি থেকে মাছগুলো দাউদকান্দি যাওয়ার পথে পুলিশের ভয়ে খালিমখাঁ রেখে চলে যায় বলে স্থানীয়রা মনে করছে।

ফরিদগঞ্জে রহস্যজনক আগুনে প্রবাসীর বসতঘর পুড়ে ছাই

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪০ পিএম
ফরিদগঞ্জে রহস্যজনক আগুনে প্রবাসীর বসতঘর পুড়ে ছাই

ফরিদগঞ্জে রহস্যজনক আগুনে পুড়ে যাওয়া বসতঘরের ভগ্নাবশেষ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা।

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে এক রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডে একটি নিরীহ পরিবারের বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। গভীর রাতে ঘটা এই আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ বা সূত্রপাত কোথায় থেকে হয়েছে, তা কেউ বলতে না পারায় পুরো এলাকায় গভীর রহস্য ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (২৭শে অক্টোবর) দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের পশ্চিম শ্রীকালিয়া গ্রামের জবর আলি বেপারী বাড়ির প্রবাসী মো. মাসুদ আলমের বাড়িতে।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান পাটোয়ারী ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দেওয়া বিবরণ অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতের খাবার খেয়ে সবাই নিজ নিজ ঘরে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। এর মাত্র কিছুক্ষণ পর, আনুমানিক রাত ১টার দিকে হঠাৎ করে বসতঘরে আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। এ সময় তাঁদের আর্তচিৎকারে আশপাশের প্রতিবেশীরা দ্রুত ছুটে আসেন এবং দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে এর আগেই মুহূর্তের মধ্যে ঘরের ভেতর থাকা আসবাবপত্র, নগদ অর্থ, পরিধেয় বস্ত্রসহ সমস্ত মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘরে অগ্নিকাণ্ড ঘটার মতো রান্নার চুল্লি, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কেট বা অন্য কোনো দাহ্য পদার্থের কোনো সংযোগ বা উপস্থিতি ছিল না। ফলে এত বড় অগ্নিকাণ্ড কীভাবে ঘটল, তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। কেউ কেউ এটি পরিকল্পিত নাশকতা হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ এরশাদ উল্যাহ বলেন, অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিকভাবে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।