বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

চাঁদপুরে পদ্মা-মেঘনায় অভিযান চালিয়ে ৪২ জেলে আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৩, ১১:৩৮ এম
চাঁদপুরে পদ্মা-মেঘনায় অভিযান চালিয়ে ৪২ জেলে আটক
ইলিশের পোনা সংরক্ষণে চাঁদপুরের পদ্ম-মেঘনায় দু’মাস নদীতে চলছে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা। ইতোমধ্যে নিষেধাজ্ঞার এক মাস ৪ দিন অতিবাহিত হয়েছে। চাঁদপুরে জাটকা রক্ষায় নৌ-পুলিশ সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছে। এতে এক কোটি মিটার কারেন্ট জাল, ৫০০ কেজি ইলিশের পোনাসহ ৪২ জন জেলেকে আটক করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ এপ্রিল) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পদ্মা-মেঘনায় নৌ-পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে ৬টি ইউনিটের অর্ধশতাধিক পুলিশ নিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

এছাড়া চাঁদপুর সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের সীলারচর এলাকায় একটি অস্থায়ী মৎস্য আড়ত উচ্ছেদ করা হয়। এই অভিযানে ৯টি মৎস্য আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। জব্দকৃত জাল আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে এবং ইলিশের পোনাগুলো বিভিন্ন এতিমখানা ও অসহায়দের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।

এছাড়াও কোস্টগার্ড, মৎস্য বিভাগ ও জেলা প্রশাসন পালাক্রমে নদীতে অভিযান পরিচালনা করছে। নদীতে যেন কোনো জেলে জাল নিয়ে নামতে না পারে, সে জন্য কঠোর নজরদারি রাখছে। তারপরও এক শ্রেণির অসাধু জেলে প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে অবাধে ইলিশের জাটকা নিধন করছে।

Model Hospital

নৌ-পুলিশ চাঁদপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার কামরুজ্জামান জানান, চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় মার্চ-এপ্রিল মাসজুড়ে নৌ-পুলিশ অভিযান পরিচালনা করছে। অভিযানে নৌ-সীমানার বিভিন্ন স্থান থেকে গত একমাসে ৬০০ জন জেলেকে আটক করা হয়েছে। এ সময় ৬ কোটি মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। ৮০টি মামলায় ৩০টির মত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জেলেদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়।

চাঁদপুরের মতলব উত্তরের ষাটনল থেকে হাইমচর চর ভৈরবী পর্যন্ত ৭০ কিলোমিটার পদ্মা-মেঘনা নদীতে অভয়াশ্রমে শুধু ইলিশ নয়, সব ধরনে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এতে করে চাঁদপুরের অর্ধলক্ষাধিক জেলে বেকার হয়ে এখন জীবন যাপন করছেন। তবে এদের মধ্যে চাঁদপুরে ৪৪ হাজার ৩৫ জন জেলে সরকারি নিবন্ধনকৃত। যারা সরকারি সহায়তা ও সকল সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে।

ফরিদগঞ্জে রহস্যজনক আগুনে প্রবাসীর বসতঘর পুড়ে ছাই

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪০ পিএম
ফরিদগঞ্জে রহস্যজনক আগুনে প্রবাসীর বসতঘর পুড়ে ছাই

ফরিদগঞ্জে রহস্যজনক আগুনে পুড়ে যাওয়া বসতঘরের ভগ্নাবশেষ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা।

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে এক রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডে একটি নিরীহ পরিবারের বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। গভীর রাতে ঘটা এই আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ বা সূত্রপাত কোথায় থেকে হয়েছে, তা কেউ বলতে না পারায় পুরো এলাকায় গভীর রহস্য ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (২৭শে অক্টোবর) দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের পশ্চিম শ্রীকালিয়া গ্রামের জবর আলি বেপারী বাড়ির প্রবাসী মো. মাসুদ আলমের বাড়িতে।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান পাটোয়ারী ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দেওয়া বিবরণ অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতের খাবার খেয়ে সবাই নিজ নিজ ঘরে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। এর মাত্র কিছুক্ষণ পর, আনুমানিক রাত ১টার দিকে হঠাৎ করে বসতঘরে আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। এ সময় তাঁদের আর্তচিৎকারে আশপাশের প্রতিবেশীরা দ্রুত ছুটে আসেন এবং দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে এর আগেই মুহূর্তের মধ্যে ঘরের ভেতর থাকা আসবাবপত্র, নগদ অর্থ, পরিধেয় বস্ত্রসহ সমস্ত মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘরে অগ্নিকাণ্ড ঘটার মতো রান্নার চুল্লি, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কেট বা অন্য কোনো দাহ্য পদার্থের কোনো সংযোগ বা উপস্থিতি ছিল না। ফলে এত বড় অগ্নিকাণ্ড কীভাবে ঘটল, তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। কেউ কেউ এটি পরিকল্পিত নাশকতা হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ এরশাদ উল্যাহ বলেন, অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিকভাবে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।