শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

জাসদ সমর্থিত ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ চাঁদপুর জেলা শাখার প্রতিনিধি সভা ও ইফতার

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৩, ৪:২৯ পিএম
জাসদ সমর্থিত ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ চাঁদপুর জেলা শাখার প্রতিনিধি সভা ও ইফতার

শনিবার ১৫ এপ্ৰিল বিকাল ৪ টায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের সহযোগী ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ চাঁদপুর জেলা শাখার আয়োজনে চাঁদপুরের অন্তর্গত ৮টি উপজেলা ও বিভিন্ন কলেজ নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে প্রতিনিধি সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও চাঁদপুর জেলা শাখার সংগ্রামী সভাপতি মিঠুন বিশ্বাসের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ আল আমিন বেপারীর পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জেলা জাসদের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক সোহেল আহমেদ।

প্রধান বক্তা জেলা জাসদের সহ-সভাপতি জিয়াউর রহমান বেলাল।  বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা জাসদের সাংগঠনিক সম্পাদক -মোল্লা মোহাম্মদ শাহজাহান সিরাজ, জেলা যুব জোটের সহ-সভাপতি ইঞ্জি. মশিউর রহমান খোকন, জেলা যুব জোটের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. সাইফুল, জাতীয় শ্রমিক জোট চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি-আরিফ হোসেন প্রমুখ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, চাঁদপুর জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সুদীপ্ত কর, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বর্ণ চক্রবর্তী,  চাঁদপুর সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির সভাপতি মোঃ শাহ আলম, মতলব উত্তর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি-রাজিব হোসেন, মতলব দক্ষিণ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শামিম আহম্মেদ হীরা। হাজীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আজাহারুল ইসলাম, শাহরাস্তি উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রাফি, কচুয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শিহাব আহম্মেদ সুমন, ফরিদগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি-মমিন, হাইমচর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শিপনসহ উপজেলা ও কলেজসমূহের নেতৃবৃন্দ।

Model Hospital

উক্ত আলোচনা সভায় বক্তাগণ জাসদ সমর্থিত ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে পূর্বের ন্যায় একটি শক্তিশালী সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে এবং ছাত্র অঙ্গনে সুস্থ ধারার আদর্শিক ছাত্র রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত ও বিকাশ ঘটাতে বিভিন্ন বিষয়ে আলোকপাত করেন। একই সাথে কিছু সংখ্যক সাধারন ও মেধাবী ছাত্রদের মধ্যে বর্তমান ছাত্র  রাজনীতির প্রতি যে ভ্রান্ত ধারনার সৃষ্টি হয়েছে সেই ভ্রান্ত  ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে নিজের বিবেক ও বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে যে সকল ছাত্রসংগঠন স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী এবং সাধারণ ছাত্রদের সকল দাবী আদায়ের পক্ষে কথা বলে এমন  ছাত্র সংগঠনের সাথে একাত্মতা পোষণ করে   সাধারণ ছাত্রদের  কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’