শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলব উত্তরে বিজয় দিবস উদযাপনে প্রস্তুতিমূলক সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২১, ২:৩০ পিএম
মতলব উত্তরে বিজয় দিবস উদযাপনে প্রস্তুতিমূলক সভা

মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে মতলব উত্তরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রস্তুতিমূলক সভা।

মতলব উত্তর ব্যুরো : যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে মতলব উত্তরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখেন- উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গাজী শরিফুল হাসান।

এ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) আফরোজা হাবিব শাপলা, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মতোহান হোসেন খান সুফল’সহ বিভাগীয় কর্মকর্তা, আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, সাংবাদিক , ইউপি সচিব, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্টরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সভায় মহান বিজয় দিবস যথাযথ মর্যাদার সাথে উদযাপনে আলোকসজ্জা, পুস্পস্তবক অপর্ণ, র‌্যালী, আলোচনা সভা, শিক্ষার্থীদের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক চিত্রাংকণ, রচনা প্রতিযোগিতা, ক্রীড়া প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।

Model Hospital

ইউএনও গাজী শরিফুল হাসান বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে এ বছর আমরা ভিন্নমাত্রায় অনেক জাঁকজমকপূর্ণভাবে মহান বিজয় দিবস উদযাপন করবো। সকলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানগুলো প্রাণবন্ত হবে বলে আশা করছি। আগামী ১৪ই ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের দিন যেন আলোকসজ্জা না করা হয় সে বিষয়ে সবার খেয়াল রাখতে হবে।

তিনি আরো বলেন, জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল এ দেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তোলা। তার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের মধ্যে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সভায় যথাযথভাবে মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে- ১৪ই ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে পুষ্পমাল্য অর্পণ, আলোচনা সভা, সন্ধ্যায় মোমবাতি প্রজ্জ্বলন, ১৬ই ডিসেম্বর সকল সরকারী-বেসরকারী অফিস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যে পুষ্পস্তবক অর্পণ, সমাবেশ-কুচকাওয়াজ, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা, আলোচনা সভা, প্রীতি খেলাধুলা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সড়কসমূহ আলোক সজ্জিতকরণ, হাসপাতাল- এতিমখানায় উন্নতমানের খাবার পরিবেশন ইত্যাদি।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’