শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

রোগী ও স্থানীয়দের স্বাস্থ্য সেবার আস্থার প্রতিক

মনিরুল ইসলাম মনির প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৩, ৫:০৮ পিএম
রোগী ও স্থানীয়দের স্বাস্থ্য সেবার আস্থার প্রতিক

অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, অপ্রতুল বেড সংখ্যা, জলাবদ্ধতা, বিশুদ্ধ পানির অভাব এমনই অবস্থা ছিল চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের। তবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আসাদুজ্জামান জুয়েলের প্রচেষ্টায় বদলে যাচ্ছে হাসপাতালের চিত্র। সেবার মান বৃদ্ধি পাওয়ায় দিন দিন বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। রোগীরা ঔষধও পাচ্ছে নিয়মিত। রোগী ও স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে আশার আলো। হাসপাতাল চত্বর ও রাস্তার দু’পাশে ফুল বাগিচায় বিভিন্ন প্রজাতির ফুল শোভা পাচ্ছে।

এখন হাসপাতালে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে পুষ্প শোভিত বাগান। আগে যে স্থানটি এক সময়ে গো-চারণ ভূমি হিসেবে ব্যবহার করেছে স্থানীয়রা। হাসপাতালের ভবন গুলোর চারদিকে বাগান তৈরি করে তাতে নতুন চারা রোপন করা হয়। ভবনের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ছোট বড় নর্দমা গুলো পরিস্কার পরিছন্ন রাখছে হাসপাতাল পরিছন্নকর্মীরা।

এছাড়াও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ৩১ শয্যার এই হাসপাতালে গাইনি কনসালটেন্ট থাকায় স্বাভাবিক প্রসব বৃদ্ধি, নিজস্ব অর্থায়নে রাতে আলোকসজ্জা, উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় সৌর বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, বহিঃবিভাগে রোগীদের বসার ব্যবস্থা। ইতিমধ্যেই হাসপাতালটি ৫০ সজ্জায় উন্নতি হলে কার্যক্রম এখনো চালু হয়নি।

সরেজমিনে জানা যায়, জনবল কম থাকলেও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন কর্মকর্তা ডা. মো. আসাদুজ্জামান জুয়েল। মাঠ পর্যায়ে কমিউনিটি ক্লিনিক নিয়মিত পরিদর্শন করেন বর্তমান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এতে করে মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্য সেবা ও অনেক গতি পেয়েছে।

Model Hospital

হাসপাতালের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে চিকিৎসা নেয়া রোগী ছিল যথাক্রমে বহিঃবিভাগ ৫৯ হাজার ৯১৩, আন্তঃবিভাগ ৩ হাজার ৭৬৭ ও জরুরি বিভাগের ৪ হাজার ৮৮৯ জন।
২০২২ সালে চিকিৎসা নেয়া রোগী ছিল যথাক্রমে বহিঃবিভাগ ৫৫ হাজার ৪৫৫, আন্তঃবিভাগ ৩ হাজার ২৭২ ও জরুরি বিভাগের ৩ হাজার ৫৭৯ জন।
এবং ২০২৩ সালে চলতি ৩ মাসে চিকিৎসা নেয়া রোগী ছিল যথাক্রমে বহিঃবিভাগ ১৯ হাজার ৩৪৫, আন্তঃবিভাগ ৯’শ ৬২ ও জরুরি বিভাগের ১ হাজার ৫৮৪ জন।

সেবা নিতে আসা এক রোগী রহিমা বেগম জানান, আগের তুলনায় হাসপাতালটির অনেক পরিবর্তন হয়েছে।
উপজেলার বাসিন্দা মুছা আহাম্মেদ ও আবু হানিফ অপু বলেন, ডা. আসাদুজ্জামান জুয়েল হাসপাতালটি খুব সুন্দর করে সাজিয়েছেন। প্রয়োজনীয় লোকবল না থাকলেও তিনি ও অন্যান্য চিকিৎসকরা যে কষ্ট করেন তা প্রশংসনীয়।

সিনিয়র স্টাফ নার্স মিনহাজ উদ্দিন বলেন, হাসপাতালে আসা রোগীদের সেবা দিতে পেরে আমরা আনন্দিত। আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি রোগীদের সেবা দেয়ার জন্য।
আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা, হাসিবুর রহমান বলেন, হাসপাতালটি এখনো ৩১ শয্যায় রয়েছে। ৫০ শয্যার শুধু ভবনই নির্মিত হয়েছে। এখনো ৫০ শয্যার লোকবল নিয়োগ দেয়া হয়নি। এরই মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার নেতৃত্বে ১২জন ক্যাডার অফিসার ও ৩ জন কন্সালটেন্টসহ, নার্স ও কর্মচারীদের সমন্বয়ে টিমওয়ার্কের মাধ্যমে স্বাস্থ্য সেবার মানোন্নয়নে কাজ করছি।
৫০ শয্যার জনবল নিয়োগের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করেন তিনি।

মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান জুয়েল জানান, যতটুকু সম্ভব হাসপাতালের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। এলাকার মুরুব্বী আর সচেতন লোকজনের সাথে আমি মাঝে মধ্যে হাসপাতালের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলাপ আলোচনা করি। আর এখানে কর্মরত চিকিৎসকরা অনেকটা সচেতন ও মানবিক। তারা সব সময় রোগীদের চিকিৎসা প্রদান করে যাচ্ছেন। ছোট খাটো কোনো অভিযোগ হলে বিষয় গুলো আমি সমাধান দিয়ে থাকি। যাতে চিকিৎসা সেবা বিন্দু মাত্র সমস্যা না হয়।

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালটিতে সেবার মান বাড়াতে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন পর্যায়ের সহযোগিতায় বেশ কিছু কাজ ইতোমধ্যে শেষ করেছি। আরো সংস্কারের কাজ অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই শুরু হবে।

পরিশেষে তিনি আরও বলেন, মোটকথা মানুষের দ্বার গোড়ায় স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’