শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তির কৃতি সন্তান মনির হোসাইনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদোন্নতি লাভ

রাফিউ হাসান হামজা প্রকাশিত: সোমবার, ১২ জুন, ২০২৩, ৭:৫৭ পিএম
শাহরাস্তির কৃতি সন্তান মনির হোসাইনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদোন্নতি লাভ
প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণী কর্মকর্তা হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার কৃতি সন্তান মোহাম্মদ মনির হোসাইন। গত ৪ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের  সিন্ডিকেট থেকে জারিকৃত এবং রেজিষ্ট্রার প্রবীর কুমার সরকার স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে তাকে এ পদোন্নতি দেওয়া হয়।
বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলীর অফিসের সিনিয়র টেলিফোন অপারেটর (গ্রেড-১২) হিসেবে দায়িত্ব পালন করে টেকনিক্যাল অফিসার, (প্রথম শ্রেণি কর্মকর্তা) হিসেবে প্রধান প্রকৌশলী দপ্তরে বিদ্যুৎ, পাম্প, টেলিফোন শাখায়(গ্রেড-৯) পদোন্নতি প্রাপ্ত হন।
কর্মজীবনে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার মধ্যদিয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকলের মনে স্থান করে নিয়েছেন। পরিচ্ছন্ন মননশীল, সদালপী ও বিনয়ী এই মানুষটি সরকারি কর্তব্য পালনের পাশাপাশি শাহরাস্তি উপজেলার মানুষের প্রতি মমত্ববোধ ও ভালোবাসার টান থেকেই বিভিন্ন উন্নয়ন ও মানব সেবামূলক কাজে সর্বাত্মক সহযোগিতাও করে যাচ্ছেন।
চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলার পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ড ঘুঘুশালে সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহন করে মোহাম্মদ মনির হোসাইন। তার পিতার নাম মোহাম্মদ হোসাইন ও মাতার নাম সুফিয়া বেগম।বাবার আদর্শ বুকে নিয়ে বেড়ে ওঠা এই মানুষটি আজ গোটা শাহরাস্তির বাসীর গর্ব ও অহংকার। শৈশব থেকেই শুভ্র-চল স্বভাবের এবং নানা প্রতিভায় গুনান্বীত মানুষ ছিলেন তিনি। ভাল কিছু শেখার নেশায় তিনি সারাক্ষন মেতে থাকতেন।
এ বিষয় সদ্য পদোন্নতি প্রাপ্ত মোহাম্মদ মনির হোসাইন বলেন, ‘‘আমার এ পদোন্নতির জন্য  প্রথমেই মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। আমার পিতা-মাতার আদর্শ ও ভালোবাসায় আজ আমি এখানে এসেছি। সব সময় আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার মধ্য দিয়ে পালন করছি এবং ভবিষ্যতেও করবো।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’