শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

হাজীগঞ্জে “বেগম রকেয়া দিবস” পালন ও জয়িতা সম্মাননা প্রদান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২১, ২:২০ পিএম
হাজীগঞ্জে “বেগম রকেয়া দিবস” পালন ও জয়িতা সম্মাননা প্রদান

স্টাফ রিপোর্টার : ‘নারী নির্যাতন বন্ধ করি কমলা রঙ্গের বিশ্ব গড়ি’ এ বিষয়টিকে প্রতিপাদ্য করে হাজীগঞ্জে ২৫ নভেম্বর ২০২১ হতে ১০ ডিসেম্বর ২০২১ পর্যন্ত “আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতরোধ পক্ষ বেগম রকেয়া দিবস পালন ও জয়িতা সম্মাননা” প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

হাজীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ও হাজীগঞ্জ মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা কার্যালয়ের আয়োজনে গত ৯ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে হাজীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উক্ত অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।

হাজিগঞ্জ উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার এঁর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি নির্বাচনী এলাকার এমপি মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম।

হাজীগঞ্জ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সানজিদা মজুমদার এর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন হাজীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মোঃ মেহেদী হাসান মানিক, হাজীগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হারুনর রশীদ।

Model Hospital

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন হাজীগঞ্জ উপজেলা মৎস কর্মকর্তা মোঃ হানিফউদ্দিন, তথ্য আপা মরিয়ম আক্তার ও হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি গাজী সালাহউদ্দিন।

এবার ৫টি ক্যাটাগরিত ৫ জন নারীকে “জয়িতা সম্মাননা” পুরস্কার দেয়া হয়েছে।
তারা হলেন, অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী মরিয়ম আক্তার মুমু, শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন কারী নারী ফাতেমা বেগম, সফল জননী নারী খোদেজা বেগম, নির্যাতনের বিভিষীকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যেমে জীবন শুরু করা নারী উম্মে হানি মুক্তা ও সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখা নারী কাজী সুরাইয়া আলম।

জয়িতা নারীদের হাতে ‘জয়িতা সম্মাননা’ পুরস্কার তুলে দেন হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার।
অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করেন ৯নং গন্ধব্যপুর ইউনিয়ন কিশোরী ক্লাবের সদস্যবৃন্দ এবং কোরাস গান পরিবেশন করেন ৩নং কালঁচে (উঃ)ইউনিয়ন কিশোরী ক্লাবের সদস্য ফাতেমা ও তার দল।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’