শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

ছেংগারচর পৌরসভা নির্বাচনী মাঠে ৬৭ প্রার্থী

মনিরুল ইসলাম মনির প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৩, ১০:০৩ পিএম
ছেংগারচর পৌরসভা নির্বাচনী মাঠে ৬৭ প্রার্থী

আজ ১৭ জুলাই চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর পৌরসভা নির্বাচন। নির্বাচনে মেয়র পদে ৪ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৫১ জন ও সংরক্ষিত আসনের ১৩ জন প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এ বিষয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, আজ ১৭ জুলাই ছেংগারচর পৌরসভা নির্বাচন ইভিএমে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ছেংগারচর পৌরসভায় মোট ভোটার সংখ্যা ৩৩ হাজার ৩৩৬। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৭ হাজার ২ ও নারী ভোটার ১৬ হাজার ৩৩৪।

নির্বাচনে ৯টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ৫১ জন এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ১৩ জন প্রার্থীর মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এরা হলেন বাংলাদেশ আ’লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্ত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপকমিটির সাবেক সহসম্পাদক লায়ন আরিফ উল্যাহ সরকার (নৌকা), জাতীয় পাটির মনোনীত প্রার্থী ও ছেংগারচর পৌর জাপার সভাপতি মো. সেলিম হোসেন (লাঙ্গল), স্বতন্ত্র প্রার্থী নুরুল হক সরকার (নারিকেল গাছ) ও ঝিনাইয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক আবদুল ওয়াদুদ মাস্টার (মোবাইল ফোন)।

Model Hospital

সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে (১,২,৩) ১নং ওয়ার্ড মনোয়ারা বেগম (জবা ফুল), শেফালী (অটোরিক্সা), ছালমা বেগম (চশমা) ও মুনমুন (আনারস)।
২নং (৪, ৫, ৬) ওয়ার্ডে মিল্লাতুল নেছা মিলি (জবা ফুল), আছমা বেগম (টেলিফোন), জাহানারা বেগম (চশমা), পদ্ম রানী (অটোরিক্সা), আকলিমা বেগম (আনারস) ও আনোয়ারা (দ্বিতল বাস)।
৩নং (৭, ৮, ৯) ওয়ার্ডে কানিজ ফাতেমা (চশমা), নুরুন্নাহার (আনারস), শিউলী বেগম (জবা ফুল)।

কাউন্সিলর পদে ১নং ওয়ার্ডে রুহুল আমিন মোল্লা (পাঞ্জাবী), আমিন মিয়াজী (পানির বোতল), সাইফুদ্দিন (উট পাখি), নাছির উদ্দিন ফরাজী (ব্লাকবোর্ড), সোলায়মান রতন ফরাজী (গাঁজর), কামাল উদ্দিন (ডালিম), মো. সবুজ (টেবিল ল্যাম্প)।

২নং মো. খোকন মিয়া (উটপাখি), সৈয়দ মো. সফিকুল ইসলাম (পানির বোতল), হারিস খান (ডালিম), আমান উল্লাহ (পাঞ্জাবি)।
৩নং ওয়ার্ডে জহিরুল আলম (টেবিল ল্যাম্প), জাহাঙ্গীর আলম (ডালিম), মনির হোসেন (পানির বোতল), আক্তার হোসেন (ব্লাক বোর্ড), মজিবুর রহমান (পাঞ্জাবী), শহীদ উল্লাহ সরকার (উট পাখি)।

৪নং ওয়ার্ডে শাহাদাত হোসেন ঢালী খোকন (টেবিল ল্যাম্প), নাজমুল হাসান (ব্লাক বোর্ড), ওমর ফারুক খান (ডালিম), ইয়াছিন খান (উটপাখি), শাহজালাল (পাঞ্জাবি), চাঁন মিয়া প্রধান (ব্রীজ), নূরউদ্দিন (পানির বোতল)।

৫নং ওয়ার্ডে আব্দুল মান্নান বেপারি (পাঞ্জাবি), রমা দত্ত (পানির বোতল), আব্দুল লতিফ মিয়াজী (ডালিম), আল-আমিন মিয়াজী (টেবিল ল্যাম্প), মুছা আহাম্মদ জীবন (উট পাখি)।
৬নং ওয়ার্ডে আল-আমীন সরকার (ডালিম), বিল্লাল হোসেন (উটপাখি), আমান উল্লাহ (পাঞ্জাবী), শরীফ হোসেন (পানির বোতল)।

৭নং ওয়ার্ডে আব্দুল মতিন (টেবিল লাম্প), লিয়াকত আলী (ব্রীজ), আবুল বাশার (পানির বোতল), এনামুল হক (ব্লাকবোর্ড), রুহুল কুদ্দুস (পাঞ্জাবী), আলাউদ্দিন (গাজর), সফিকুল ইসলাম (ডালিম), আনোয়ার হোসেন (উটপাখি)।

৮নং ওয়ার্ডে বোরহান প্রধান (ডালিম), শাহজাহান মোল্লা (ব্লাকবোর্ড), জামান সরকার (পাঞ্জাবী), বিল্লাল হোসেন, (ব্লাকবোর্ড), শারফুদ্দিন শাওন (টেবিল ল্যাম্প), মোখলেছুর রহমান চৌধুরী (উটপাখি)।

৯নং ওয়ার্ডে বোরহান উদ্দিন (উটপাখি), শামীম হোসেন (পাঞ্জাবী), গিয়াস উদ্দিন (পানির বোতল)।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’