শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

আধুনিক বিশ্বের সাথে বাংলাদেশ সমান্তরালভাবে এগিয়ে যাচ্ছে : মেজর রফিকুল ইসলাম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২১, ১:৪৯ পিএম
আধুনিক বিশ্বের সাথে বাংলাদেশ সমান্তরালভাবে এগিয়ে যাচ্ছে : মেজর রফিকুল ইসলাম
মোঃ মাসুদ রানা : চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস উদযাপন করা হয়েছে । দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা কম্প্লেক্স চত্বরে রেলি ও আলোচনা সভা পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার সকালে (১২ – ডিসেম্বর) সকালে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে পরিষদ মিলনায়তনে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহি অফিসার বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শিরীন আক্তারের সভাপ্রদানে ভার্চুয়াল প্রোগ্রামে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত থেকে ভিডিও কনফারেন্সে বক্তব্য রাখেন,  মুক্তিযুদ্ধের কিংবদন্তি ১ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম এম পি ।
তিনি তার বক্তব্যে বলেন, বিশ্বায়নের যুগে আধুনিক পৃথিবীর সাথে পাল্লা দিয়ে বাংলাদেশ প্রায় সকল ক্ষেত্রে  সমান্তরালভাবে ডিজিটালাইজড করতে সক্ষম হয়েছে। যার সুফল ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ভোগ করছে। আপনারা জেনে আনন্দিত হবেন বাংলাদেশ আজ  থেকে টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্কে  ফাইভ-জি সুবিধা  যুক্ত হয়েছে। যা বিশ্বের অনেক দেশ এখনো কল্পণা করতে পারেনি। এটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ফল স্বরূপ আমরা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি।
এছাড়া উপজেলা সহকারী প্রোগ্রামার মোঃ শাহজাহানের সঞ্চালনায় উক্ত অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে  উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাছরিন জাহান চৌধুরী শেফালী , উপজেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক, পৌর আ’লীগের আহবায়ক এবং পৌর মেয়র আলহাজ্ব আব্দুল লতিফ,শাহরাস্তি  থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মোঃ আব্দুল মান্নান, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান কামরুন্নহার কাজল, ভাইস চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ ইরান, উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ আমজাদ হোসেন,  পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মোঃ মোবারক হোসেন, উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসার অনামিকা ভদ্র,উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ সবুজ, উপজেলা তথ্য আপা হালিমা আক্তার, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোঃ শাহজাহান পাটোয়ারী,উপজেলা পরিষদের সিএ মোঃ শাহাবুদ্দিন।
পরে বিভিন্ন স্কুল কলেজ মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের চিত্রাংকন রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’