শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামী স্বপনের অত্যাচারে অতিষ্ঠ পরিবার

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৩, ৩:৫৯ পিএম
ফরিদগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামী স্বপনের অত্যাচারে অতিষ্ঠ পরিবার

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার পূর্ব বড়ালী গ্রামের ভুঁইয়া বাড়ীর মৃত মোহাম্মদ আলী ভুঁইয়ার ছেলে একাধিক মামলা ও মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামী জাফর ইকবাল স্বপনের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে মা, ভাইসহ পরিবারের সদস্যরা। তার এহেন কর্মকান্ডের কারণে মা তৈয়বেন নেছা বর্তমানে বাড়ি ছাড়া। তৈয়বেন নেছা এখন বাবার বাড়ী ও মেয়ে রোকসানা এবং বিলকিসের বাড়িতে থাকেন। স্বপনের স্ত্রী ও সন্তানদের সহযোগিতার কারণে পুলিশ এসেও তাকে বাড়ী থেকে গ্রেফতার করতে পারেন না।

সরেজমিন ওই বাড়ীতে গিয়ে দেখাগেছে, স্বপন তার পিতার তৈরী করা বাড়ীতে স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে থাকেন। পিতার মৃত্যুর পর সে পৈত্রিক সম্পত্তি দখল করে থাকলেও ছোট ভাই বোরহান উদ্দিন বিপ্লবকে কোন ধরণের ঘর তৈরী করতে দিচ্ছেন না। যে কারণে স্ত্রী ও ৪টি সন্তান নিয়ে একটি ভাঙা ঘরে খুবই মানবেতর জীবন যাপন করছেন বিপ্লব। পরিস্থিতি দেখে মনে হয়েছে পিতার বড় সন্তান স্বপন দায়িত্বশীল হওয়ার কথা থাকলেও তার কাছে পরিবারের সকল সদস্যরা জিম্মি।

পরিবারের সদস্যদের সাথে এমন আচরণের বিষয়ে বক্তব্যের জন্য জাফর ইকবাল স্বপনের ঘরে গিয়ে তার স্ত্রী ও সন্তানকে পাওয়া যায়। তিনি ঘরে উপস্থিত নেই। কারণ হিসেবে জানাগেল-সাজাপ্রাপ্ত মামলার আসামী ও তার বিরুদ্ধে দুটি ডাকাতি এবং একটি মারামারির মামলা থাকায় বাহিরের মানুষ আসার সংবাদ পেলে পালিয়ে যায়।

অভিযুক্ত স্বপনের বোন রোকসানা বেগম লাবলী জানান, আমার ভাইয়ের অত্যাচারে আমরা পুরো পরিবার অতিষ্ঠ। সে অন্যায় ও অপরাধ করে পালিয়ে যায়। এই কাজে তার স্ত্রী ও সন্তানরা সহযোগিতা করে। সে কত জুলুমাবাজ আমার মায়ের কাছ থেকে বাবার পেনশনের বই কেড়ে নিয়েগেছে। বাবা অবসরপ্রাপ্ত সেনাবাহিনী ছিলেন। বাবার মৃত্যুর পরে মা এখন পেনশন না পেয়ে অতিকষ্টে জীবন যাপন করছেন। লজ্জায় আমরা মুখ দেখাতে পারি না। পরে বাড়িতে ছোট হয়ে থাকতে হয়।

Model Hospital

স্বপনের ছোট ভাই বোরহান উদ্দিন জানান, দীর্ঘ বছর আমি বড় ভাইয়ের বিভিন্ন নির্যাতন ও যুলুমের শিকার। সে পিতার সম্পত্তি ভাগ করে না দেয়ার কারণে আমি মানবেতর জীবন যাপন করি। আমার মেয়ে বড় হয়েছে, বিয়ে দিয়েছি। কিন্তু আত্মীয় স্বজন বাড়ীতে আনতে পারি না। ভাই একাধিক বিয়ে করেছে। সর্বশেষ যে স্ত্রী বাড়ীতে আছে সে সারাদিন আমাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে। যে কারণে আমি থানায় জিডি করে রেখেছি।

বোরহান আরো জানায়, সর্বশেষ আমার ভাই স্বপন ও তার স্ত্রী আরিফা বেগম এবং তার সন্তানরা ২৭ আগষ্ট বিকেল ৩টার দিকে বাড়ির কাছে কুট্টির দোকানের সামনে আমাকে এবং আমার বোন রোকসানাকে বেধম মারধর করে আহত করে। এই ঘটনায় আমি ২৮ আগষ্ট বিকেলে ফরিদগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি। আমি অত্যচারী ভাইয়ের জুলুম ও নির্যাতন থেকে বাঁচতে চাই। প্রশাসন যেন আমাদেরকে একটু সহযোগিতা করে।

ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মান্নান বলেন, আমি বিষয়টি অবগত হয়েছি। বোরহান উদ্দিন বিপ্লবের অভিযোগটি আমলে নেয়া হয়েছে। স্বপনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে জানতে পেরেছি। আমরা তার পুরনো মামলার ওয়ারেন্ট পেলে দ্রুত গ্রেফতার করার চেষ্টা করব। একই সাথে এই অভিযোগ সঠিকভাবে তদন্ত করার জন্য একজন অফিসারকে দেয়া হবে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’