শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

পৌরসভার অব্যস্থাপনা নিয়ে কথা বলায় সাংবাদিক মহিউদ্দিনকে আক্রমণ, নিন্দা

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৩, ১১:১৪ পিএম
পৌরসভার অব্যস্থাপনা নিয়ে কথা বলায় সাংবাদিক মহিউদ্দিনকে আক্রমণ, নিন্দা
ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি, দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার ফরিদগঞ্জ সংবাদদাতা, সহকারী অধ্যাপক মোঃ মহিউদ্দিন। পৌর এলাকার ভাটিরগাঁও গ্রামের চতুর্থ শ্রেণির ২জন শিক্ষার্থী ও তাদের বাবা-মাকে জুতা পেটার সংবাদ তিনি প্রেরণ করেছেন দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায়। সংবাদ ছাপা হয়েছে সেপ্টেম্বর মাসের ৩ তারিখ সোমবার। এ ছাড়া, পৌরসভার নানান সমস্যা তুলে ধরে সেগুলো সমাধান করার আহ্বান জানিয়ে জনসমাবেশে বক্তব্য রাখেন।
এ সব ঘটনা কেন্দ্র করে সাংবাদিক মহিউদ্দিন এর ওপর চড়াও হন পৌর মেয়র, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের পাটওয়ারী ওতার অনুগতরা। সাংবাদিকের নাম তুলে ৬ই সেপ্টেম্বর বুধবার ও পরদিন বৃহস্পতিবার ফরিদগঞ্জ বাজার ও মহিউদ্দিনের বাড়ি এলাকায় মিছিল করানো হয়েছে। ওই সব মিছিলে ফরিদগঞ্জ পৌরসভার চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী (পরচ্ছিন্নতা কর্মী) নেতৃত্ব দিতে ও অংশ গ্রহণ করতে দেখা গেছে। এর বাইরে কয়েকজন ব্যক্তি ছিলেন।
তারা বলেছেন, আমরা নিরীহ মানুষ মিছিলে আসতে বলেছে, এসেছি। মিছিলে, সাংবাদিকের নাম উচ্চারণ করে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ গালাগাল করা হয়। তাকে রাজাকার আখ্যা দিয়ে “জয়বাংলা” স্লোগান দেওয়া হয় ও বঙ্গবন্ধুর নাম ব্যবহার করা হয়। মিছিল বের হয় ফরিদগঞ্জ পৌরসভা থেকে, শেষ হয় সেখানে।
সাংবাদিক মোঃ মহিউদ্দিন পৌর  এলাকার ১নং ওয়ার্ডের কেরোয়া মাওলানা আব্দুল মজিদ বাড়ির বাসিন্দা। তিনিসহ পৌর এলাকার শতাধিক লোক পৌরসভার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে চারদিন আগে সভা ও বুধবার বিকালে মানবন্ধন করেন।
এরপর, পৌর মেয়র ক্ষুব্ধ হয়ে সাংবাদিক মোঃ মহিউদ্দিনকে রাজাকার আখ্যা দিয়ে পৌরসভার বিভিন্ন কর্মচারী ও উপকারভোগীদের এনে ফরিদগঞ্জ বাজারে ওই মিছিল করানো হয়। বিক্ষোভ মিছিলে সাংবাদিক মোঃ মহিউদ্দিনের ফাঁসির দাবী জানানো হয়।
মিছিলে অংশ গ্রহণকারী ও পৌরসভার চতুর্থ কর্মচারী মো. শরীফ বলেছেন, আমরা পৌরসভায় চাকরি করি। মেয়র সাহেব উন্নয়ন অনেক করছেন। অথচ, সাংবাদিক মহিউদ্দিন মিথ্যা বক্তব্য দিয়েছেন। তাই, পৌরসভার পক্ষে আমরা মিছিল করেছি।
সাংবদিক মো. মহিউদ্দিন সংবাদ করে ও পৌরসভার উন্নয়নের আহ্বান জানিয়ে সঠিক কাজ করেছেন উল্লেখ করে পৌর এলাকার মো. ছলেমান (৬০), নুরুল আমিন (৫৫), আবদুর রশিদ (৫৮), আলাউদ্দিন (৬২), ছিদ্দিকুর রহমান (৪৮), আবদুল বারেক(৩০), মোতালেব (৬৩), রশিদ (২৫), আমির হোসেন (৬২), সাবেক কা্উন্সিলর ইসমাইল হোসেন শেখ (৪০) প্রমুখ পৌর নাগরিকগণ  সাংবাদিককে নিয়ে কথিত মিছিল ও গালাগাল করার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’