শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

কচুয়ায় বিনম্র শ্রদ্ধায় জাতীয় বিজয় দিবস ও সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২১, ২:৩৯ পিএম
কচুয়ায় বিনম্র শ্রদ্ধায় জাতীয় বিজয় দিবস ও সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন

মহান বিজয় দিবসে বিজয় স্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পন করছেন উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে নির্বাহী অফিসারসহ অনান্য অফিসারবৃন্দ। মহান বিজয় দিবসে বিজয় স্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পন করছেন উপজেলা পরিষদের পক্ষে চেয়ারম্যান শাহজাহান শিশির ও প্যানেল চেয়ারম্যান সুলতানা খানম।

মো: রাছেল, কচুয়া : বিনম্র শ্রদ্ধা ও যথাযোগ্য মর্যাদায় উৎসবমুখর পরিবেশে বৃহস্পতিবার ১৬ ডিসেম্বর সকালে কচুয়া উপজেলা পরিষদ মাঠে বিজয় স্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে মহান বিজয় দিবস ও বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী।

ভোরে সুর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ৫০ বার তোপধ্বনির পাশাপাশি কচুয়া বিজয় স্তম্ভে শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপায়ন দাস শুভ ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদা কুলসুম মনিসহ অনান্য কর্মকর্তা বৃন্দ, উপজেলা পরিষদের পক্ষে উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজানান শিশির ও প্যানেল চেয়ারম্যান সুলতানা খানম, কচুয়া থানা পুলিশের পক্ষে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিউদ্দিন এবং ওসি (তদন্ত) মো. ছানোয়ার হোসেনসহ অনান্য পুলিশ সদস্যবৃন্দ, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের পক্ষে প্রশাসক দিপায়ন দাস শুভ, সাবেক কমান্ডার আ: মবিন ও ডেপুটি কমান্ডার জাবের মিয়াসহ অনান্য মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ, উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সকল সহযোগী সংগঠনের পক্ষে সভাপতি আইয়ুব আলী পাটওয়ারী ও সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন চৌধুরী সোহাগসহ অনান্য নেতৃবৃন্দ, কচুয়া প্রেসক্লাবের পক্ষে সভাপতি মানিক ভৌমিক ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মহিউদ্দিনসহ অনান্য নেতৃবৃন্দ, চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ কচুয়া জোনাল অফিসের পক্ষে সমিতির সভাপতি তৌহিদুল ইসলাম খোকা ও কচুয়া জোনাল অফিসের ডিজিএম বেলায়েত হোসেনসহ অনান্য কর্মকর্তাবৃন্দ, উপজেলা ছাত্রলীগের পক্ষে আহবায়ক সালাউদ্দীন সরকার ও সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক সোহাগ উদ্দীনসহ অনান্য নেতৃবৃন্দ, কচুয়া ক্যামব্রিয়ান স্কুলের পক্ষে অধ্যক্ষ আমির হোসেন মজুমদারসহ অনান্য শিক্ষকবৃন্দ ।

পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি সংস্থা, রাজনৈতিক দল ও সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্প অর্পন করা হয়েছে।

বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে বিজয় স্তম্ভ, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি সহবিভিন্ন স্থাপনাকে সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে। সকালে উপজেলা পরিষদ মাঠে কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে অনুষ্ঠিত হয়। দুপুরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

Model Hospital

দুপুরে স্থানীয় সরকারী হাসপাতাল, এতিমখানা ও সরকারী আশ্রয় কেন্দ্রে উন্নত মানের খাবার পরিবেশন করা হয়। বাদ জোহর জাতির শান্তি সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে মসজিদ, মন্দির, অন্যান্য উপসানালয়ে প্রার্থণা অনুষ্ঠিত হয়। বিকেলে বিজয়ের সুবর্ন জয়ন্তী উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ টেলিভিশনের সৌজন্যে সরাসরি সম্প্রচারকৃত শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হয় কচুয়া উপজেলা পরিষদ মাঠে। পরে কচুয়া থানা পুলিশের আয়োজনে কাবাডি খেলা অনুষ্ঠিত হয়। পরে উপজেলা পরিষদ মাঠে পুরস্কার বিতরণ ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

একই দিন বিকেলে উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে দলীয় কার্যালয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আইয়ুব আলী পাটওয়ারীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন চৌধুরী সোহাগের সঞ্চালনায় বিজয়ের সুবর্ন জয়ন্তী উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ টেলিভিশনের সৌজন্যে সরাসরি সম্প্রচারকৃত শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হয় ।

মহান বিজয় দিবসে বিজয় স্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পন করছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষে সভাপতি আইয়ুব আলী পাটওয়ারী ও সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন চৌধুরী সোহাগসহ অনান্য অতিথিবৃন্দ।

পরে আলোচনা সভা ও দোয়া মুনজাত অনুষ্ঠিত হয়। এসময় দলের বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। তাছাড়া কড়ইয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আয়োজনে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ওই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের মনোনীত প্রার্থী আ: ছালাম সওদাগরের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আবু বকর মিয়াজীর সঞ্চালনায় মহান বিজয় দিবস ও বিজয়ের সুবর্ন জয়ন্তী উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ টেলিভিশনের সৌজন্যে সরাসরি সম্প্রচারকৃত শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হয় ।

পরে আলোচনা সভা ও দোয়া মুনজাত অনুষ্ঠিত হয়। ওই ইউনিয়নের ৮ ও ৯নং ওয়ার্ডের সকল মেম্বার প্রার্থী নৌকাকে সমর্থন জানিয়েছেন।

এসময় উপজেলা আওয়ামী লীগ, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও সকল সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’