শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জের রাজনীতি ও উন্নয়নের গুনগত পরিবর্তনে সকলের সহযোগিতা চাই : ডা: সাগর

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৩, ৯:১৬ পিএম
ফরিদগঞ্জের রাজনীতি ও উন্নয়নের গুনগত পরিবর্তনে সকলের সহযোগিতা চাই : ডা: সাগর
চাঁদপুর (৪) ফরিদগঞ্জ আসনের সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশী  ডা: হারুন অর রশিদ সাগর ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১০ নং গোবিন্দপুর ইউনিয়নের গোয়ালভাওর বাজারে গণসংযোগ কালে সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্য বলেন, ফরিদগঞ্জের রাজনীতি ও উন্নয়নের গুনগত পরিবর্তনের  জন্য সকলের সহযোগিতা চাই । আপনারা সবাই যদি আমাকে সমর্থন দিয়ে পাশে থাকেন এবং শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠন করতে পারে তা হলে কাংখিত পরিবর্তন করা সম্ভব।
আমাদের দল গত ১৫ বছর ধরে রাষ্ট্র ক্ষমতায় থেকে অনেক উন্নয়ন প্রকল্প করেছে, কিন্তু বিভিন্ন কারনে আমাদের উপজেলায় উন্নয়ন কম হয়েছে এবং দলের অনৈক্য পরিলক্ষিত হচ্ছে, আগামীর আন্দোলন সংগ্রাম মোকাবেলা করতে এখনি দলের ঐক্য প্রক্রিয়া জোরদার করা উচিত।
এই সময় উপস্থিত ছিলেন ফরিদগঞ্জ উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির চেয়ারম্যান আবদুস সালাম আজাদ জুয়েল, উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য  আনোয়ার হোসেন, উপজেলা কৃষক লীগের সহ সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ আলম মৃধা, ১০ নং গোবিন্দপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমান মেম্বার, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি  শাহাদাত মেম্বার, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রওশন খাঁন,  উপজেলা তাতিলীগের আহ্বায়ক কাইউুম গাজী, ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি গনি খন্দকার, সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম পাটওয়ারী, ফরিদগঞ্জ পৌরসভা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুল ইসলাম পাটওয়ারী,   যুবলীগের সদস্য জাহিদুল হক মিলন, সবুজ পাটওয়ারী, মাহবুব পাটওয়ারী,  জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সম্পাদক আরিফুর রহমান মজুমদার, কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি ফরিদুজ্জামান বাঁধন পাটওয়ারী, ১ নং বালিথুবা প: ইউনিয়ন যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুজ্জামান রনি, ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবকলীগে সভাপতি ফয়েজ আহমেদ রাব্বি পাটওয়ারী, ছাত্রলীগের সভাপতি ইমাম হোসেন ফরিদ পাটওয়ারী প্রমুখ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’