শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে দুই শিশুর মারামারিকে কেন্দ্র করে অসহায় পরিবারের ওপর সন্ত্রাসী হামলা

এস এম ইকবাল প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৩, ৯:৫৪ পিএম
ফরিদগঞ্জে দুই শিশুর মারামারিকে কেন্দ্র করে অসহায় পরিবারের ওপর সন্ত্রাসী হামলা
ফরিদগঞ্জে দুই শিশুর মারামারিকে কেন্দ্র করে অসহায় পরিবারের সদস্যের ওপর সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলার চর দুঃখিয়া পূর্ব ইউনিয়নের পশ্চিম আলোনিয়া গ্রামে শুক্রবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার পরিবারের সদস্যরা জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা মঙ্গলবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ফরিদগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনারপর থেকে প্রতিনিয়ত নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে অসহায় পরিবারটি।
লিখিত অভিযোগ ও সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ঘটনারদিন ওই এলাকার শিশু ওসমান (১০) ও প্রতিবেশি আরেক শিশু আজম (১০) এ দুই শিশু মিলে মারামারি করে। শিশু আজম তার সমবয়সী শিশু ওসমানকে ঝাপটে ধরে রাখে, ছুটতে না পেরে আজমকে কামড় দেয়। পরবর্তিতে আজমের মা এসে ওসমানকে পেটাতে থাকে। এ ঘটনা ওসমানের মা দেখে তারা অসহায় হওয়ায় আল্লার কাছে বিচার দিয়ে ঘরে চলে যায়।
বিকেলে হঠাৎ শিশু আজমের পক্ষে তার মামা সাইফুল ইসলাম (২৮) একদল সন্ত্রাসী নিয়ে এসে শিশু ওসমানের পুরো পরিবারের ওপর হামলা চালায়।
এসময় শিশু ওসমান, তার বাবা সুমন মিজি, মা পারুল বেগম, স্কুল পড়ুয়া বোন সুমাইয়াকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করা হয়। সুমন মিজির ডান কানে কামড় দিয়ে নিয়ে যায় অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম, পরবর্তিতে কানের ওই অংশ আর খুজে পাওয়া যায়নি। অভিযুক্তরা অসহায় সুমন মিজিকে পিটিয়ে রাস্তার ওপর পেলে রাখে। পরে স্থানীয়রা এসে জখমীদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যায়।
হামলার শিকার ও থানায় লিখিত অভিযোগের বাদী পারুল আক্তার বলেন, সাইফুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা আমার বসতঘরে বেয়াইনীভাবে প্রবেশ করে আমাকে শারীরিক নির্যাতন করেছে। আমার ঘরে থাকা গরু বিক্রির নগদ টাকাও লুট করে নিয়ে যায় তারা। আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় আছি, আমরা অসহায় হওয়াতে কি বিচার পাবো না?
এ ঘটনায় স্থানীয়রা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও প্রকাশ করে অভিযুক্ত সাইফুল ইসলামদের মাদকাসক্ত হিসেবে আখ্যায়িত করে তাদের বিচারের দাবী জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা খোকন মিয়া, মোস্তফা, শামীম, কাঞ্চনসহ আরো অনেকেই অভিযুক্ত সাইফুল ইসলামকে মাদকাসক্ত হিসেবে আখ্যায়িত করে এহামলার ঘটনা ও অন্যান্য অপরাধের বিচারের আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রধান অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, আমার ভাগ্নে আজমকে ওসমান কামড় দিয়েছে। খবর পেয়ে আমি প্রতিবাদ করতে আসলে সুমন মিজি আমাকে জড়িয়ে ধরে কামড় দিয়েছে। আমি ছাড়া পেতে তার কানে কামড় দিলে তা ছিড়ে যায়। আমি আর কিছু করি নাই।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ইউসুফ বলেন, ঘটনা যা ঘটেছে, তা দৃশ্যমান। অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা প্রয়োজন।
অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি, তদন্ত করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’