শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তি ১০ ইউপি নির্বাচনে প্রচারণার শেষ মুহুর্তে প্রার্থীরা বিরামহীন মাঠ চষে বেড়াচ্ছে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২১, ৩:৪৩ পিএম
শাহরাস্তি ১০ ইউপি নির্বাচনে প্রচারণার শেষ মুহুর্তে প্রার্থীরা বিরামহীন মাঠ চষে বেড়াচ্ছে

স্বপন কর্মকার মিঠুন : নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে ততই নির্বাচনী উৎসহর সঙ্গে সঙ্গে উৎকন্টাও বাড়ছে।

শাহরাস্তি উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আগামী ২৬ ডিসেম্বর আর চেয়ারম্যান ও সদস্য প্রার্থীরা বিরামহীন ভাবে নির্বাচনী মাঠ চষে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ভোট ভিক্ষা প্রার্থনা করছে। এবার আওয়ামীলীগ দলিয় মনোনীত হয়ে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ গ্রহন করলেও বিএনপি মনোনীত ধানের শীর্ষ প্রতীক না দিলেও কৌশল অবলম্বন করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছে। উভয় দলের প্রার্থীরা সমান ভাবে প্রচার চালাচ্ছে।

উপজেলার মোট ১০টি ইউনিয়নে ঘুরে জানাযায়, এবার ১০ ইউনিয়নের মধ্যে টামটা উত্তর ও দক্ষিন ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ বনাম যুবলীগ প্রার্থীর মধ্যে মুল প্রতিন্দ্বিতা হবে। ওই ইউনিয়ন গুলোতে বিএনপির উল্লেখযোগ্য কোন প্রার্থী না থাকায় নৌকাকে কোনঠাসা করতে যুবলীগ নেতারাই স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছে বলে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতারা দাবি করছেন।

অপর দিকে ১০টি ইউনিয়নের সূচীপাড়া উত্তরে আওয়ামীলীগের একক প্রার্থী উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) ও বর্তমান চেয়ারম্যান মো. মোস্তফা কামাল মজুমদার আর বিএনপির উপজেলার সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান পাটওয়ারী স্বতন্ত্র, রায়শ্রী উত্তরে আওয়ামীলীগের একক প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মোশারফ হোসেন আর বিএনপি উপজেলা সাধারন সম্পাদক বর্তমান চেয়ারম্যান মো. সেলিম হোসেন পাটওয়ারী স্বতন্ত্র, রায়শ্রী দক্ষিনে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ডাক্তার আব্দুর রাজ্জাক আওয়ামলীগের একক প্রার্থী আর ইউনিয়ন বিএনপির নেতা মো. মাহবুব আলম স্বতন্ত্র, মেহার উত্তরে বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগের একক প্রার্থী মো. মনির হোসেন আর সাবেক চেয়ারম্যান বিএনপির নেতা সাইফুল ইসলাম রনি স্বতন্ত্র, মেহার দক্ষিনে আওয়ামীলীগে একক প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. রুহুল আমিন আর বিএনপি নেতা মো. কাজি জাহাঙ্গির আলম স্বতন্ত্র, সূচীপাড়া দক্ষিনে আওয়ামীলীগের একক প্রার্থী মো. মাহতাব উদ্দিন হেলাল, বিএনপি উপজেলা নেতা বর্তমান চেয়াম্যান মো. আব্দুর রশিদ স্বতন্ত্র, চিতোষী পশ্চিমে আওয়ামীলীগের একক প্রার্থী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর মোহাম্মদ আদেল আর বিএনপির নেতা বর্তমান চেয়াম্যান মো. যোবায়ের কবির বাহাদুর, চিতোষী পূর্ব ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের একক প্রার্থী ইউপি আ’লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান মো. আবু ইউসুফ পাটোয়ারী আর বিএনপির নেতা আলম বেলাল স্বতন্ত্র, টামটা উত্তর ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের একক প্রার্থী মো. আলমগীর কবির মজুমদার (পলাশ) আর উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও বর্তমান চেয়ারম্যান মো. ফারুক হোসেন দর্জ্জি স্বতন্ত্র এবং টামটা দক্ষিনে আওয়ামীলীগের একক প্রার্থী ইউপি আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুর রহমান মজুমদার আর উপজেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক ও বর্তমান চেয়ারম্যান মো. জহিরুল ইসলাম মানিক স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মাঠে রয়েছে।

Model Hospital

তবে ১০ ইউনিয়নের মধ্যে ৮টি ইউনিয়নে নৌকার একক প্রার্থীদের সঙ্গে স্বতন্ত্রের আদলে অঘোষিত বিএনপির প্রার্থীদের মুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। আর টামটা উত্তর ও দক্ষিণে আওয়ামীলীগ বনাম যুবলীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে কেউ কেউ ধারণা করছে। অপর দিকে ভোটাররা বলছে, শেয়ানে শেয়ানে লড়াইয়ের নির্বাচনী মাঠ দিন দিন উত্তাপ্ত হয়ে উঠছে।

অন্য দিকে স্থানী আওয়ামীলীগের কর্মী ও সমর্থকদের সাথে কথা বলে জানাযায়, আ’লীগ প্রার্থী ও তার অনুসারিরা বিএনপির ভোটার ও প্রার্থীদের নিয়ে যতটুকো টেনশ নয় তার চেয়ে বেশি টেনশনে রয়েছেন নিজ দলীয় নেতা-কর্মীদের আচরণ বিপরীত মুখী হওয়া নিয়ে। নেতা-কর্মীরা বিপরীত মুখ থেকে বেরিয়ে আসলে আওয়ামীলীগ প্রার্থীদের বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী নৌকা প্রতীক না পাওয়ায় তারা ও তাদের অনুসারীরা মনে চাপা ক্ষোভ রেখে বর্তমান নৌকা প্রতীক প্রার্থীর সমর্থনে কাজ না করে বিজয় হতে পারে এমন স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রতি গোপন সমর্থন জানিয়ে ঘরে বসে রয়েছে বলে একাধিক সূত্রে জানিয়েছে। অপর দিকে স্বতন্ত্রের আদলে বিএনপির প্রার্থীর সমর্থকরা বলছে, সুষ্ঠু ও কেন্দ্রে অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটলে তাদের প্রার্থীদের বিজয় সুনিশ্চিত বলে দাবি করেন। অপর দিকে সংশ্লিষ্ঠ প্রশাসন সুষ্ঠু নির্বাচন নিতে সকল ধরণের প্রস্তুতি নিয়েছেন।

উল্লেখ্য ১০টি ইউনিয়নে ৫৫ জন চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত ও সাধারণ সদস্য প্রার্থীসহ সর্ব মোট ৫৪৫ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মাঠে রয়েছে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’