শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলব উত্তরে ‘মুজিব: একটি জাতির রূপকার’ সিনেমার উন্মুক্ত প্রদর্শন, দর্শকের প্রশংসা

মনিরুল ইসলাম মনির প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৩, ৯:৪৮ পিএম
মতলব উত্তরে ‘মুজিব: একটি জাতির রূপকার’ সিনেমার উন্মুক্ত প্রদর্শন, দর্শকের প্রশংসা

চাঁদপুরের মতলব উত্তরে সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনের ওপর নির্মিত সিনেমা ‘মুজিব: একটি জাতির রূপকার’-এর উন্মুক্ত প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (৩ নভেম্বর) সকালে মতলব উত্তর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে সর্বসাধারণের জন্য এই উন্মুক্ত প্রদর্শনীর আয়োজন করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপকমিটির সদস্য ও চাঁদপুর-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী এম ইসফাক আহসান সিআইপি।

প্রদর্শনীর উদ্বোধন শেষে এম ইসফাক আহসান সিআইপি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের যৌথ অর্থায়নে নির্মিত এই সিনেমার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর জীবনাদর্শ, রাজনীতি ও সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। তাই জাতির পিতার মহান আদর্শ ছড়িয়ে দিতে আমরা সিনেমাটি মতলব উত্তর আজকে এবং মতলব দক্ষিণ উপজেলায় পরিষদ অডিটোরিয়ামে তিনটি করে শো দেখানোর ব্যবস্থা করেছি।

তিনি আরও বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে। সেই সাথে জাতির সঠিক ইতিহাস জানান দিতে ‘মুজিব: একটি জাতির রূপকার’ চলচ্চিত্রটি প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

Model Hospital

এদিকে বিনা টিকেটে সিনেমাটি দেখে এর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন দর্শক ও অতিথিরা। তারা বলেন এ এলাকায় সিনেমা হল নেই, জেলা সদরে গিয়ে সিনেমা দেখতে হতো। এম ইসফাক আহসান সিআইপি বিনামূল্যে এমন আয়োজন করায় দর্শকরা তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, মতলব উপজেলা পর্যায়ে ব্যক্তি উদ্যোগে বিনামূল্যে এই সিনেমার উন্মুক্ত প্রদর্শনী উপজেলা পর্যায়ে মতলবে এই প্রথম। মুজিব একটি জাতির রূপকার উন্মুক্ত প্রদর্শনীর পূর্বে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপকমিটির সদস্য এম ইসফাক আহসান সিআইপি।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম মাষ্টারের সভাপতিত্বে ও মতলব উত্তর উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল সরকারের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, ছেংগারচর পৌর মেয়র আরিফ উল্যাহ সরকার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শহিদ উল্যাহ প্রধান, চাঁদপুর জজ কোর্টের এপিপি অ্যাড. জসিম উদ্দিন, ছেংগারচর পৌর কাউন্সিল হারিছ খাঁন, জেলা যুবলীগের সদস্য মিল্টন সরকার।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক নুরুল আমিন বোরহান, মহিলা সম্পাদিকা রমা দত্ত, জেলা পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য তাসলিমা আক্তার আঁখি, ফতেপুর ইউপি চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ, ষাটনল ইউপি চেয়ারম্যান ফেরদৌস আলম সরকার, উপজেলা যুবলীগের প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক রেফায়েত উল্যাহ দর্জি, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মিরাজ খালিদ, কলাকান্দা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সুলতান মাহমুদ, উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মো. শরিফুল ইসলাম, জেলা ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক আবু সায়েম, ছেংগারচর পৌর কাউন্সিলর সবুজ বেপারি, শাহাজালাল মুফতি, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর সালমা পাটোয়ারী, সাবেক কাউন্সিলর শাহাদাৎ হোসেন ঢালী খোকন, যুবলীগ নেতা আহসানুজ্জামান সজিব, আমিন বিডি’সহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যম কর্মী, স্থানীয় সাধারণ জনগণ।

গত ১৩ অক্টোবর সারাদেশের ১৫৩টি প্রেক্ষাগৃহে একযোগে মুক্তি পায় বঙ্গবন্ধুর জীবনী নির্ভর সিনেমাটি। বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ প্রযোজনায় ২০১৯ সালে সিনেমাটির নির্মাণ কাজ শুরু করেন ভারতের খ্যাতিমান নির্মাতা শ্যাম বেনেগাল। সিনেমায় বঙ্গবন্ধুর চরিত্রে অভিনয় করেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত চিত্রনায়ক আরিফিন শুভ। শেখ হাসিনা চরিত্রে অভিনয় করেছেন নুসরাত ফারিয়া ও বঙ্গবন্ধুর স্ত্রী ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের চরিত্রে নুসরাত ইমরোজ তিশা।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’