শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

ছেংগারচরে আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের আউটলেট ৭৩৫ তম শাখার উদ্বোধন

আর্থিক লেনদেন পরিচালনার ব্যবস্থা আরও নিপুণ ও সহজতর করার দায়িত্ব ব্যাংকের : আরিফ উল্যাহ সরকার

মনিরুল ইসলাম মনির প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর, ২০২৩, ৬:৫১ পিএম
আর্থিক লেনদেন পরিচালনার ব্যবস্থা আরও নিপুণ ও সহজতর করার দায়িত্ব ব্যাংকের : আরিফ উল্যাহ সরকার

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর বাজারে আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড এর আউটলেট/শাখার উদ্বোধন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ নভেম্বর) সকালে আনুষ্ঠানিক ভাবে আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড এর ছেংগারচর বাজার আউটলেট শাখার উদ্বোধন করেন ছেংগারচর পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব মো. আরিফ উল্যাহ সরকার।

উদ্বোধনকালে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে ব্যক্ত করেন, একটি আধুনিক-প্রগতিশীল ও গ্রাহকবান্ধব ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের কাছে গ্রাহকরা যা প্রত্যাশা করেন আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক সেসব প্রত্যাশা পূরণে সমর্থ হবে।

আমরা বিশ্বাস করি যে, আধুনিক ও শারিয়াহভিত্তিক ইসলামি ব্যাংকিং সেবা দিয়ে এ ব্যাংক গ্রাহকদের ব্যাংকিং প্রয়োজনগুলো মেটাতে ও আপনাদের সন্তুষ্ট করতে পারবে।

Model Hospital

আরিফ উল্যাহ সরকার বলেন, অত্র এলাকার গ্রাহকরা তাদের সব আর্থিক লেনদেন পরিচালনার ব্যবস্থা আরও নিপুণ ও সহজতর করার দায়িত্ব এখন থেকে এ ব্যাংকের দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মীদের ওপর ছেড়ে দিতে পারেন। সবসময় আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছার জন্য এবং নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করার জন্য কাজ করে। এ শাখা উদ্বোধনের ফলে এ এলাকার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও গ্রাহকরা আধুনিক ব্যাংকিং সেবা পাবেন।

শাখা ব্যবস্থাপক নারী উদ্যোক্তা নিপা আক্তারের সার্বিক সহযোগিতায় বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. শরীফ উল্লাহ দর্জির সভাপতিত্বে ও ব্যবসায়ী নাজমুল খানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড এর এজেন্ট ব্যাংকিং ডিভিশন এর প্রধান এ্যাসিস্টেন্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. সাখাওয়াত হোসেন, হাজীগঞ্জ শাখা ব্যবস্থাপক এ্যাসিস্টেন্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজী মো. ইলিয়াছ, সিনিয়র অফিসার কাউসার আহমেদ, ছেংগারচর বাজার বণিক সমবায় সমিতি লি. এর সভাপতি মো. গিয়াস উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ লস্কর, কাউন্সিলর শাহজাহান মোল্লা, কাউন্সিলর মো. হারিছ খান, জাহাঙ্গীর আলম, কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন, মো. সবুজ মিয়া, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. রাসেল দর্জি, আহসান উল্যাহ দর্জি’সহ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও অত্র এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী-গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

কোরআন তেলাওয়াত করেন, হাফেজ কাউসার আহমেদ।

দোয়া পরিচালনা করেন ছেংগারচর দর্জি বাজার জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব হাফেজ মাওলানা ইব্রাহিম খলিল আনন্দপুরী।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’