শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে নৌকা ও মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে দুই সহোদরের লড়াই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২১, ৩:১৩ পিএম
শাহরাস্তিতে নৌকা ও মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে দুই সহোদরের লড়াই
মোঃ মাসুদ রানা : চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে ইউপি চেয়ারম্যান পদে  নৌকা ও মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে দুই সহোদর নির্বাচনী মাঠে তুমুল যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন। নির্বাচনী ওই মাঠে দুই সহোদরের লড়াইয়ের আমেজ উপভোগ করছেন উপজেলার মেহের উত্তর ইউপির ভোটার ও জনগণ।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দুই সহোদরের ছোট ভাই মোঃ মনির হোসেন বাংলাদেশ আ’লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক নিয়ে এবং বড় ভাই মোঃ বিল্লাল হোসেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ওই ইউপির দেবীপুর গ্রামের মৃতঃ মফিজুল ইসলামের ছোট ছেলে মোঃ মনির হোসেন বিগত নির্বাচনে আ’লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হয়ে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় চাঁদপুর জেলা ছাত্রলীগের উপ গণশিক্ষা ও পাঠাগার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তার বড় ভাই মোঃ বিল্লাল হোসেন প্রবাস জীবন কাটিয়ে এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
প্রবাসে থাকা অবস্থায় তিনি ও সৌদি আরবের মদিনা সেন্ট্রাল আলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। গত নির্বাচনে ছোটভাই মনির ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবার পর২০১৮ সালে বড় ভাই বিল্লাল ৩২ বছরের প্রবাস জীবনের পরিসমাপ্তি করে  দেশে আসেন। এরই মধ্যে দুই ভাইয়ের পারিবারিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে মতনৈক্য তৈরি হয়। ওই বিবাদকে কেন্দ্র করে ছোট ভাই মনির বর্তমান চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বড় ভাই বিল্লাল হোসেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন।
এদিকে এ বিষয়ে বড় ভাই বিল্লাল হোসেনের নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, মূলত পারিবারিক বিরোধ এবং  তার যোগ্যতা থাকায় তিনি প্রার্থী হয়েছেন।
অন্যদিকে বর্তমান চেয়ারম্যান মনির হোসেন বলেন, জনগণ আমার সঙ্গে রয়েছে বলে দল আমাকে নৌকা প্রতীক উপহার দিয়েছে। আশা করি আমি কামিআপ হবো। এছাড়া তিনি (বিল্লাল) নৌকা প্রতীককে পরাজিত করতে আমার অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সঙ্গে  যোগসাজশে এ কাণ্ডে লিপ্ত রয়েছেন। এদিকে স্থানীয় ভোটারদের মাঝে দুই সহোদরের প্রার্থিতার বিষয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে।
উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে,  আগামী ২৬ শে ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে  ওই ইউপির ৯টি ভোটকেন্দ্রের ২৩  টি ভোটকক্ষের ৩ হাজার ৬শ ৯৬ জন পুরুষ এবং ৩ হাজার ৭ শ ১১ জন নারী ভোটারসহ সর্বমোট  ৭হাজার ৪ শ ০৭ ভোটার ওই ইউপিতে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।তাতে ভোটাররাই  সিদ্ধান্ত নিবেন  কোন প্রার্থী যোগ্য।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’