শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

নৌকার প্রার্থী ড. সেলিম মাহমুদের গণসংযোগ ও মতবিনিময়

শেখ হাসিনার প্রতিনিধি হিসাবে আমাকে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন : ড. সেলিম মাহমুদ

মো: রাছেল, কচুয়া প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২৩, ৮:৪১ পিএম
শেখ হাসিনার প্রতিনিধি হিসাবে আমাকে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন : ড. সেলিম মাহমুদ

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ও সন্তানদের সাথে মতবিনিময় সভা করেছেন-বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোননীত চাঁদপুর-১ কচুয়া আসনের নৌকার প্রার্থী কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষনা বিষয়ক সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ।

শুক্রবার (২২ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে ভবনে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আব্দুল মবিন মিয়ার সভাপতিত্বে ও ডেপুটি কমান্ডার আলহাজ¦ জাবের মিয়ার সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, ড. সেলিম মাহমুদ। এসময় তিনি বলেন, আমাদের নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযোদ্ধাদের অনেক সম্মান ও শ্রদ্ধা করেন।

তিনি আপনাদের জন্য অনেক কিছু করেছেন, ভবিষ্যতেও করবেন। আওয়ামী লীগ হলো মুক্তিযোদ্ধাদের দল। মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগ অবিচ্ছিন্ন। আওয়ামী লীগ মানেই বঙ্গবন্ধু, তিনি এ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান ও বাংলাদেশ অবিচ্ছিন্ন। বাংলাদেশ থেকে তাঁর নাম মুছে ফেলা যাবে না, এ জাতি তা প্রমাণ করেছে। আমার পক্ষ থেকে আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। শেখ হাসিনার প্রতীক নৌকা। এই নৌকা আমাদের স্বাধীনতার প্রতীক, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতীক, রাষ্ট্রের প্রতীক। শেখ হাসিনার প্রতিনিধি হিসাবে আমাকে আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন সেই আশা ও বিশ্বাস আছে আপনাদের প্রতি।

Model Hospital

এসময় উপস্থিত ছিলেন, চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলহাজ¦ আইয়ুব আলী পাটওয়ারী, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সহ-সভাপতি মো. ইয়াকুব আলী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক সোহরাব হোসেন চৌধুরী সোহাগ, পৌর মেয়র ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মো. নাজমুল আলম স্বপন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার সিকদার, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সংগঠনের সভাপতি মো. জাকির হোসেন, সহ-সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন প্রধান, সাধারণ সম্পাদক ফারজানা নাছরিন রত্না।

একইদিন বিকালে পৌর বাজারে ড. সেলিম মাহমুদ গণসংযোগ করেন। গণসংযোগ শেষে কচুয়া উত্তর বাজারে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।

চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলহাজ্ব আইয়ুব আলী পাটওয়ারী সভাপতিত্বে ও উপজেলা আওয়মী লীগের সাধারণ সম্পাদক সোহবার হোসেন সোহাগ চৌধুরীর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন, কচুয়া আসনে নৌকার প্রার্থী কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ, উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র নাজমুল আলম স্বপন, ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুব আলম, কাউন্সিলর মাসুদ আলম, কচুয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জাকির হোসেন বাটা প্রমুখ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’