শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

গত ১৫ বছর আমি আপনাদের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছি : ডাঃ দীপু মনি

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৩, ৯:৩৫ পিএম
গত ১৫ বছর আমি আপনাদের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছি : ডাঃ দীপু মনি

চাঁদপুর-৩ (সদর ও হাইমচর) আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী ডা. দীপু মনি বলেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেষ হাসিনার কল্যানে চাঁদপুরের উন্নয়নে আমার নির্বাচনী এলাকার ব্যাপক কাজ করেছি।

আপনারা ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি করেছেন বলেই চাঁদপুরের উন্নয়নে কাজ করতে পেরেছি। চাঁদপুরে মেডিকেল কলেজ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মেরিন একাডেমি, নদী ভাঙানরোধে স্থায়ী বাঁধ, শত শত শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের নতুন ভবন, রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, শতভাগ বিদ্যুৎ করেছি। এই যে এত সব উন্নয়ন তা সম্ভব হয়েছে বঙ্গবন্ধুর কন্যা দেশের প্রধানমন্ত্রী আছেন বলেই। গত ১৫ বছর শেখ হাসিনা একটানা সারাদেশে এবং এই চাঁদপুরেও অসাধারণ উন্নয়ন করে চলেছেন। মানুষের জীবনটাকে সহজ করেছেন।

৩০ ডিসেম্বর শনিবার তিনি চাঁদপুর সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নে দিনব্যাপী নৌকার সমর্থনে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে নির্বাচনী উঠোন বৈঠকে এসব কথা বলেন।

দীপু মনি আরো বলেন, চাঁদপুর-৩ আসন থেকে সাংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে বিগত ১৫ বছর আমি আপনাদের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছি। এবার আমি আপনাদের থেকে আরেকবার ভালোবাসা চাই। আমি চাই আপনারা বিপুল ভোটে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করবেন। নৌকা নির্বাচিত হলেই বঙ্গবন্ধু কন্যা আবারো দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন।

Model Hospital

জননেত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বের জন্য বাংলাদেশ আজ বিশ্ববুকর একটি মর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

তিনি বলেন, বিগত ১৫ বছর যাবত আমার জীবনে কোন ছুটি নেই। আমার জীবনে কোন শুক্রবার নেই। প্রতিটা মুহূর্ত, প্রতিটা সময় আমি চাঁদপুরবাসীর সেবায় কাজ করেছি। এখন আপনাদের কাছে অনুরোধ, আগামী ৭ জানুয়ারি আপনাদের জীবন থেকে কয়েকটি ঘন্টা সময় দিয়ে আমাকে নৌকা মার্কায় ভোট দিবেন। আমি যেন নির্বাচিত হয়ে আবারো আপনাদের সেবায় কাজ করতে পারি।

দীপু মনি বলেন, আমি গত তিনবার সাংসদ হয়ে এলাকার ব্যাপক উন্নয়নে কাজ করেছি। যার কিছু অংশ আপনারা কোনো না কোনোভাবে ভোগ করতে পেরেছেন। নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধে কাজ করেছি, রেল স্টেশন, আপনাদের জীবন মান উন্নয়নে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, রাস্তা ঘাট, ব্রীজ কালভার্ট, সুপেয় পানি, শিক্ষার মানউন্নয়ন, প্রতিষ্ঠানে ভবন নির্মাণ, বিনামূল্যে বই বিতরণ ও বিনা বেতনে পড়ার ব্যবস্থা, অসহায় দুস্থদের মাঝে বিভিন্ন ভাতার কার্ডসহ অসংখ্য উন্নয়ন করেছি। এতে আমার বিরুদ্ধে কোন দুর্নাম আপনারা পাননি।

উঠোন বৈঠকে চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের উপ দপ্তর সম্পাদক পিপি অ্যাড রনজিত রায় চৌধুরী, সহ প্রচার সম্পাদক ইমাম হাসান বাদশা, কেন্দ্রীয় যুবলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাড জাফর ইকবাল মুন্না, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলী এরশ্বাদ মিয়াজী, সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী বেপারী, জেলা যুবলীগের যুগ্ন আহবায়ক মাহফুজুর রহমান টুটুল, মোহাম্মদ আলী মাঝি, সদর উপজেলা কৃষক লীগের আহ্বায়ক আব্দুল আজিজ খান বাদল, বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিন খান শামীম, সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান ভূঁইয়া,সদর উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির সুমন, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জহির উদ্দিনসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’