বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরের হোছাইনপুর আলিম মাদ্রাসা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

মাসুদ হোসেন প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২৪, ১০:৫৩ পিএম
চাঁদপুরের হোছাইনপুর আলিম মাদ্রাসা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর মানববন্ধন
বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এনে চাঁদপুর সদর উপজেলার হোছাইনপুর আলিম মাদ্রাসার সেই অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে মানববন্ধন করেছে উপজেলার ২নং আশিকাটি ইউনিয়নের হোসেনপুর এলাকাবাসী। উক্ত এলাকাবাসীকে সন্দেহ করে থানায় মিথ্যা অভিযোগের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারি) সকালে হোছাইনপুর আলিম মাদ্রাসার সামনের সড়কে মানববন্ধনে অংশ নেয় উক্ত এলাকার সকল বয়সী নানা শ্রেনী পেশার মানুষ।
মানববন্ধনে অংশ নেয়া রুবেল মাল, ফয়সাল পাটওয়ারী, রাকিব প্রধানীয়া, সুলতান প্রধানীয়া, মনির প্রধানীয়া সহ কয়েকজন এলাকাবাসী বলেন, আমাদের এলাকার এই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনেক অধ্যক্ষ এসেছে। কখনো কোনদিন এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে কিছু বলে না। এমনকি যখন এই মাদ্রাসাটি টিনশেড ছিল কখনো কোন চুরির ঘটনাও ঘটেনি। কিন্তু এই অধ্যক্ষ নিজাম উদ্দিন আসার পর এলাকাবাসীকে বিভিন্ন মাধ্যমে হয়রানি করে আসছে। এবং গত ২৭ ডিসেম্বর রাতে এক লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা পরিকল্পিত চুরির ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসীকে সন্দেহ করে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় একটি মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে আমাদেরকে হেয়প্রতিপন্ন করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা আরো বলেন, এই অধ্যক্ষ মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন উপায়ে বাড়তি টাকা নিয়ে থাকেন।
এছাড়াও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। সব মিলিয়ে এই মাদ্রাসার সুনাম ক্ষুন্ন করতে তিনি উঠে পড়ে লেগেছেন। আমরা এলাকাবাসী অধ্যক্ষ নিজাম উদ্দিনের পদত্যাগ চাই। নিজ ইচ্ছায় স্বনামধন্য এ মাদ্রাসা হতে অব্যাহতি নিবেন নতুবা তাকে অপমানের সাথে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেয়া হবে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী তার জিম্মি থেকে মুক্ত হতে চায়। আমরা প্রশাসন ও কমিটির সকল নেতৃবৃন্দের কাছে অনুরোধ করবো, এই অধ্যক্ষকে এখান থেকে সরিয়ে দিয়ে নতুন অধ্যক্ষ নিয়োজিত করে মাদ্রাসার সুনাম ফিরিয়ে আনুন। মানববন্ধন শেষে পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
জানা যায়, গত ২৭ ডিসেম্বর রাত ৮টার দিকে চাঁদপুর সদর উপজেলার হোছাইনপুর আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষের কক্ষের জানালার গ্রিল কেটে টেবিলের ড্রয়ার থেকে রহস্যজনকভাবে এক লাখ ৭৫ হাজার টাকা চুরি হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনায় ৩১ ডিসেম্বর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন চাঁদপুর সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মোঃ মহসিন আলম সহ পুলিশ ও বিজিব সদস্যরা।
মাদ্রাসার দায়িত্বে থাকা কয়েকজন শিক্ষক, কর্মচারী ও এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, এই প্রতিষ্ঠানে ৫ লক্ষ টাকার একটি সরকারি অনুদান আসে। এর মধ্যে ৩ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা মাদ্রাসার অবকাঠামো উন্নয়ন সহ বিভিন্ন কাজে ব্যায় করা হবে। বাকী এক লক্ষ ৭৫ হাজার টাকার মধ্যে ১ লক্ষ টাকা শিক্ষকদের প্রণোদনা হিসেবে আর ৭৫ হাজার টাকা তালিকাভুক্ত কিছু মেধাবী শিক্ষার্থীদের দেয়ার কথা।
গত ১৭ ডিসেম্বর একটি পোগ্রাম শেষে ৩১ তারিখ পর্যন্ত বন্ধ ঘোষনা করা হয় প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু এর আগেই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোঃ নিজাম উদ্দিন ব্যাংক থেকে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা উত্তোলন করে নিজের ড্রয়ারে রেখে যান বলে জানান তিনি।
এ ঘটনায় মাদ্রাসার পিয়ন নাজির আহম্মদ বাদী হয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর ২৯ ডিসেম্বর দুপুরে চাঁদপুর সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) লোকমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। চুরির ঘটনার দৃশ্য দেখে তিনি বিষয়টি মাদরাসা কমিটির সঙ্গে বসে সমাধান করার পরামর্শ দেন।
এদিকে গত রবিবার সকালে সকল শিক্ষক-কর্মচারীকে মাদ্রাসার অফিস থেকে বের করে মাদ্রাসার মূল ফটকে তালাবদ্ধ করে রাখেন স্থানীয় এলাকাবাসী। পরে চাঁদপুর সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মোঃ মহসিন আলম এদিন দুপুর ১টায় সঙ্গীয় ফোর্স ও বিজিবি সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। এবং মাদ্রাসার বাহিরে অবস্থান নেয়া এলাকাবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এ ঘটনায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সহ ৫জন কর্মচারীকে থানায় নিয়ে যান এবং প্রকৃত আসামীকে খুঁজে বের করার আশ্বাস প্রদান করেন উপস্থিত বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীকে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষক জানান, গত ৩১ তারিখের পর থেকে অধ্যক্ষ মোঃ নিজাম উদ্দিন এখনো মাদ্রাসায় আসেন নি।

৮ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা তরুণীর চিকিৎসায় চিকিৎসক-নার্স ও SACMOদের সমন্বিত উদ্যোগ

শাহরাস্তিতে প্রথম জরুরি বিভাগেই সাপে-কাটা রোগীকে অ্যান্টিভেনম

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৬ এম
শাহরাস্তিতে প্রথম জরুরি বিভাগেই সাপে-কাটা রোগীকে অ্যান্টিভেনম
শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রথমবারের মতো জরুরি বিভাগেই সাপের কামড়ে আক্রান্ত এক রোগীকে অ্যান্টি-স্নেক ভেনম (ASV) দেওয়া হয়েছে।
বুধবার রাতে সাপের কামড়ে আক্রান্ত ৮ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা এক তরুণীর শরীরে বিষক্রিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেন। চিকিৎসক, নার্স ও SACMOদের সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় জরুরি বিভাগেই শুরু হয় চিকিৎসা। পরে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে উন্নত চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য তাঁকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। রোগী আসমা আক্তার (২৩) উপজেলার মনিপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর স্বামী আল-আমীন।
বুধবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে নিজ বাড়িতে সাপের কামড়ের শিকার হন আসমা। স্বজনরা দ্রুত তাঁকে রাত ৯টার দিকে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। ওই সময় তিনি প্রায় আট সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নুরুন নবী জুয়েল তাঁকে পরীক্ষা করেন।
এ সময় কামড়ের স্থান ফোলা ও কালচে হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি রোগীর শরীরে সাপের বিষক্রিয়ার লক্ষণ দেখা যায়। তাঁর চোখের পাতা ঝুলে পড়া (Ptosis) এবং ‘Broken Neck Sign’-এর মতো লক্ষণও প্রকাশ পায়। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে চিকিৎসক দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেন। রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে জরুরি বিভাগেই অ্যান্টি-স্নেক ভেনম দেওয়া শুরু হয়। চিকিৎসা পর্যায়ে রোগীকে মোট ১০ ভায়াল অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়।
চিকিৎসা চলাকালে রোগীর শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন চিকিৎসক, নার্স ও SACMOরা। চিকিৎসার পর তাঁর অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে পরবর্তী ঝুঁকি বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (UHFPO) ডা. মো. আবু নাছের শাকিল বলেন, “জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বিতভাবে কাজ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ঘটনায় দায়িত্ব পালনকারী সবাই আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপে-কাটা কোনো রোগীকে জরুরি বিভাগেই অ্যান্টিভেনম দেওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম। বিশেষ করে রোগীটি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় বিষয়টি ছিল অত্যন্ত সংবেদনশীল। দ্রুত হাসপাতালে আনা এবং বিষক্রিয়ার লক্ষণ শনাক্ত হওয়ার পর তাৎক্ষণিক চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হওয়ায় জরুরি ব্যবস্থাপনা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা জানান, সাপের কামড়ের পর সময় নষ্ট না করে দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া জরুরি। স্থানীয়ভাবে ঝাড়ফুঁক বা অন্য কোনো প্রচলিত পদ্ধতিতে সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
উল্লেখ্য, সময়ের সঙ্গে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবার পরিধিও বাড়ছে। স্থানীয়ভাবে জানা যায়, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী  বেগম খালেদা জিয়ার সময় হাসপাতালটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শাহরাস্তিতে আগমন উপলক্ষে সম্প্রতি  হাসপাতালটি ৫১ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় এবং পরে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় জরুরি চিকিৎসাসেবার সক্ষমতাও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এ জন স্থানীয় সাংসদ লায়ন ইন্জিঃ মমিনুল হক এমপি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মনিরা খাতুনকে  সবাই ধন্যবাদ জানান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মনে করছে, জরুরি বিভাগে সাপে-কাটা রোগীর অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের এই ঘটনা স্থানীয় মানুষের জন্য জরুরি স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি ও বার্তা ।
একজন অন্তঃসত্ত্বা তরুণীর সংকটময় সময়ে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্মিলিত উদ্যোগে দ্রুত চিকিৎসা শুরু হওয়ার ঘটনাটি সেই সক্ষমতারই একটি মানবিক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল।