চাঁদপুর -৫ আসনে ভোট যুদ্ধে হেভিওয়েট নৌকা বনাম স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আজ দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-৫ আসনে বিএনপি ছাড়া আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা তিনভাগে বিভক্ত হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন।
এতে হাজীগঞ্জ- শাহরাস্তি এ আসনটিতে টানা তিনবারসহ চারবার সংসদ সদস্য হিসেবে আছেন মেজর (অঃ) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম।
তিনি এবারও ৬ষ্ঠ বারের মতো হেভিওয়েট নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে জয়ের প্রত্যাশায় নির্বাচন করছেন।
এছাড়া বর্তমান সাংসদকে ভোটের মাঠে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখাচ্ছেন ২জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। ৯০ দশকের ঢাকা ইউনিভার্সিটির ছাত্রনেতা, ঢাকা মহানগরের আওয়ামীলীগ নেতা ও ঢাকা কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের সাবেক সভাপতি সফিকুল আলম ফিরোজ ট্রাক প্রতীকে নির্বাচন করছেন।
অন্যদিকে ঈগল প্রতীকের প্রার্থী ও হাজীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সদ্য পদত্যাগ করা চেয়ারম্যান ও হাজীগঞ্জ উপজেলা আলীগের সাধারণ সম্পাদক গাজী মাঈনুদ্দিন।
ওই হিসেবে দুটি উপজেলার আওয়ামী লীগের মুল ভোট ব্যাংকের ভোটাররা তিন শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। অন্যদিকে বিএনপি’র কিছু অংশ ও রাজনীতির বাইরে থাকা কিছু মানুষ ভোটকেন্দ্রে এলে ওই হিসাব পাল্টে গিয়ে ভিন্ন সমীকরণ দেখা দিতে পারে।
এছাড়া এ আসনে ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান সৈয়দ বাহাদুর শাহ মোজাদ্দেদী চেয়ার প্রতীকে, জাসদের মোঃ মনির হোসেন মজুমদার মশাল প্রতীকে, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের ড. বাকী বিল্লাহ মিশকাত চৌধুরী ফুলের মালা প্রতীকে, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তি জোটের আক্তার হোসেন ছড়ি প্রতীকে নির্বাচনে অংশ গ্রহন করলেও ভোটের মাঠে তেমন সাড়া ফেলতে পারেনি।
মূলত নৌকা প্রতীকের প্রার্থীসহ তিনভাগে বিভক্ত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ভোটের মাঠে রয়েছেন।
এদিকে মেজর অব: রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম ১৯৯৬ সালে প্রথম নৌকার টিকিট পেয়ে জয়ী হয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
সপ্তম (২০০১) জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার টিকিট পেয়ে বিএনপি প্রার্থী এম এ মতিনের কাছে পরাজিত হন।
তিনি ষষ্ঠ, অষ্টম, নবম, দশম, একাদশ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে বিজয়ী হন। এবারে প্রথম বিএনপি বিহীন নিজ দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নিকট ভোট লড়াইর মুখোমুখি হলেন।
এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও মেয়র আ.স.ম মাহবুব আলম লিপন বলেন, আমাদের সাংসদ একজন যোগ্য প্রার্থী তিনি নৌকা প্রতীকে অবশ্যই বিজয় হবেন। হাজীগঞ্জ পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাছান রাব্বিও ভোটের মাঠে নৌকার শক্ত অবস্থানের কথা জানান।
এদিকে শাহরাস্তি পৌর মেয়র হাজী আব্দুল লতিফ ও উপজেলা আলীগের সাধারণ সম্পাদক জেড এম আনোয়ার জানান, বর্তমান সাংসদ হাজীগঞ্জ শাহরাস্তিতে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন। মানুষ ছিল শান্তিতে, কারো প্রতি কোনো অন্যায় করা হয়নি। সাধারণ মানুষ নৌকাকে ভোট দিবে।
অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে শক্ত অবস্থানে থাকা ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ্ব সফিকুল আলম ফিরোজের ব্যাপারে হাজীগঞ্জ উপজেলা আলীগের সভাপতি আলহাজ্ব হেলাল উদ্দিন মিয়াজী, হাজীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বতু মিজি বলেন, আমরা একজন কেন্দ্রীয় নেতাকে দীর্ঘদিন পর তৃণমূলে পেয়েছি। যার গ্রহণযোগ্যতা দলের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সাধারণ মানুষের কাছে রয়েছে। তিনি বিজয় হলে রাজনৈতিক দৃশ্যপাঠ পাল্টে যাবে। আমরা নৌকার প্রার্থীর বিপক্ষে নির্বাচন করছি আওয়ামীলীগের বিপক্ষে নয়।
এ বিষয়ে শাহরাস্তি উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. কামরুজ্জামান মিন্টু, পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম মিন্টু, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি জুয়েল বলেন, শাহরাস্তি হাজীগঞ্জের মানুষ এমন একজন নেতার সন্ধান করছেন, যার নিকট প্রাণ খুলে কথা বলা যায়। সেরকম নেতাই হচ্ছেন শফিকুল আলম ফিরোজ।
তিনি মানুষের দুঃখ কষ্ট উপশমের একজন যোগ্য অভিভাবক। তিনি ট্রাক প্রতীকে বিশাল ব্যবধানে বিজয় হয়ে শাহরাস্তি হাজিগঞ্জ বাসির সেই দুঃখ কষ্ট মুছে দিয়ে একজন যোগ্য অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করবে। ফিরোজ ভাই আওয়ামীলীগের দুর্দিনের কর্মী।
স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা আলীগের সাধারণ সম্পাদক গাজী মাঈনুদ্দিনের পক্ষে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সহ সভাপতি আনোয়ারুল হক হেলাল, উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও সাবেক উপজেলা আলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম ফারুক মুরাদ, পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হায়দার পারভেজ সুজন বলেন তৃণমূল আওয়ামী লীগ বলতে যা বোঝায় তাই হচ্ছেন গাজী মাইনুদ্দিন।
অবশ্যই তিনি বহু ভোটের ব্যবধানে বিজয় হবেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এদিকে জাতীয় সংসদের ২৬৪ চাঁদপুর ৫ আসনটিতে এবার ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৫ শ’ ৯৪ জন ভোটার। পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪৭ হাজার ৩৯ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৩৭ হাজার ৬ শ ৪৪ জন।
এরমধ্যে একজন তৃতীয় লিঙ্গের হিজড়া ভোটার রয়েছে।
এবার হাজীগঞ্জ ৮৮টি কেন্দ্র ও শাহরাস্তি উপজেলা ৬৫ কেন্দ্রসহ ১৫৩ টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়া সকাল ৮ থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীন ভোটগ্রহণ চলবে।
প্রশাসনের তরফ থেকে সকল নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।