রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

ঐতিহাসিক উজানী মাদ্রাসার বার্ষিক মাহফিল শুরু

মো: রাছেল, কচুয়া প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২৪, ৫:০১ পিএম
ঐতিহাসিক উজানী মাদ্রাসার বার্ষিক মাহফিল শুরু

প্রখ্যাত আলেম ক্বারী ইব্রাহীম (রা.) প্রতিষ্ঠিত চাঁদপুরের কচুয়ার ঐতিহাসিক জামিয়া ইসলামিয়া ইব্রাহীমিয়া উজানী মাদরাসার দুই দিন ব্যাপী বার্ষিক মাহফিল বৃহস্পতিবার বাদ ফজর তালিমের মাধ্যমে শুরু হচ্ছে।

ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থান ও বর্হিবিশে^র বিভিন্ন মাদ্রাসা থেকে আলেম সমাজের বিশিষ্ট আলেমগন ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিগণ মাহফিলে এসেছেন।

শুক্রবার দিনব্যাপী দেশের প্রখ্যাত সকল আলেমগন ওয়াজ ও দোয়ার তাসরিফ শেষে ২০ জানুয়ারি শনিবার বাদ ফজর লাখো মুসল্লির সমাগমে আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে মাহফিলের সমাপ্তি ঘটবে।

মাহফিলের সার্বিক তত্ত্বাবধানে থাকবেন ক্বারী ইবরাহিম (রা.) তিন পুত্র মাওলানা আশেক এলাহী, ফজলে এলাহী এবং মাহবুব এলাহী। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ১ম দিনে সকাল ১০টায় মাহফিলের কার্যক্রম শুরু হয়ে তা রাত ১২ টা পর্যন্ত দেশ বিদেশের প্রখ্যাত আলেমগন বয়ান করবেন ।

Model Hospital

উজানির মাহফিলে আগত মুসল্লিরা স্থানীয়দের কাছে অনেক সম্মানী। এলাকাবাসী মনে করেন এসব মেহমান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের জন্য নেয়ামত। মাহফিলে আগত ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের পার্শ্ববর্তী গ্রামের মানুষ জন মাহফিল শেষে রাতে বাড়ি নিয়ে বিশেষ সমাদর ও আপ্যায়ন করে থাকেন।

উল্লেখ্য, ঐতিহাসিক উজানী মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা করেন ক্বারী ইব্রাহিম (রা.) সৌদি আরবের ইলমে ক্বেরাতের বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান মাদ্রাসা সওলতিয়ায় কুরআন তেলাওয়াতের উচ্চতর জ্ঞান অর্জন করেন। তৎকালীন সময়ে তিনি আন্তজার্তিক ক্বেরাত প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেন। তিনি ভারতের গাংগুহে ফকিহে মিল্লাত আল্লামা রশীদ আহমেদ গাংগুহী রাহমাতুল্লাহি আলাইহির তত্ত্বাধানে আধ্যাতিক জ্ঞান অর্জন করেন। অতপরঃ ১৯০১ সালে দ্বীন ইসলাম ও ইলমে কেরাতের প্রচারের কচুয়া উপজেলার উজানীতে এসে জামিয়া ইসলামিয়া ইব্রাহীমিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন।

কচুয়ার ইতিহাসের সাথে মিশে আছে যেসব ঐতিহ্য তন্মধ্যে উজানী গ্রামে প্রাচীনতম এক গম্বুজ বিশিষ্ট শাহী মসজিদ ও হযরত শাহ নেয়ামত শাহ (রহ.) এর মাজার। ব্র্যান্ডিং জেলা চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় রয়েছে ঐতিহাসিক বখতিয়ার খাঁ মসজিদ, বেহুলার পাটা এবং শাহ নেয়ামত শাহ্ (রাঃ) এর দরগা।

কচুয়া উপজেলা সদর থেকে ৫ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে উজানী গ্রাম। বর্তমানে রয়েছে ঐতিহাসিক জামিয়া ইসলামিয়া ইব্রাহীমিয়া মাদরাসা।

১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

দীর্ঘ ১২৯ বছরের জীবনের অবসান। পৃথিবীর আলো-বাতাসে এক শতাব্দীরও বেশি সময় কাটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মুদাফর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি বারেক বেপারী। স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১২৯ বছর। তাঁর দীর্ঘায়ু নিয়ে এলাকায় রয়েছে নানা আলোচনা ও কৌতূহল।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীতে মেয়ের বাসায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বারেক বেপারী মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মুদাফর গ্রামের মৃত লতিফ বেপারীর ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রোববার বাদ আসর মুদাফর ঈদগাহ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তাঁর দৌহিত্র হাফেজ মো. হাফিজ উদ্দিন।

Model Hospital

১২৯ বছরের জীবন, স্থানীয়দের মুখে দীর্ঘায়ুর গল্প

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বারেক বেপারী প্রায় ১২৯ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। তাঁদের দাবি, এত দীর্ঘ জীবন পাওয়ায় তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তিদের একজন। তবে তাঁর বয়সের পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও যাচাইকৃত কোনো নথির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ১২৯ বছর বয়সের বিষয়টি স্থানীয়দের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মানবজীবনে শতবর্ষ পেরিয়ে বেঁচে থাকা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের জ্যাঁ লুইস কালমঁ ১২২ বছর ১৬৪ দিন বেঁচে ছিলেন, যা কোনো মানুষের সর্বোচ্চ যাচাইকৃত আয়ু হিসেবে স্বীকৃত।

বারেক বেপারীর জীবনও স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘায়ুর এক বিস্ময়কর গল্প হয়ে থাকবে। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের জীবনের অবসান ঘটিয়ে তিনি চলে গেলেন চিরবিদায়ের পথে। রেখে গেলেন অসংখ্য স্মৃতি, স্বজনদের ভালোবাসা আর দীর্ঘ জীবনের নানা গল্প।

দীর্ঘ জীবনের পথচলা থেমে গেল, কিন্তু স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন বারেক বেপারী।

তাঁর মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে প্রশস্ত করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।