বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

কচুয়ায় চালককে খুন করে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনায় ৭ জন গ্রেফতার

মাসুদ হোসেন প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ৮:২০ পিএম
কচুয়ায় চালককে খুন করে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনায় ৭ জন গ্রেফতার

চাঁদপুরের কচুয়ায় অটোরিকশা চালক মো. সাব্বির হোসেন (১৮) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন ও ঘটনায় জড়িত ৭জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছুরি, লুন্ঠিত অটোরিকশা ও চালকের ব্যবহত মোবাইল ফোন।

বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চাঁদপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বিপিএম (বার)।

গ্রেফতার আসামীরা হলেন- চাঁদপুর সদরের তরপুরচন্ডী এলাকার মৃত ছালামত ছৈয়ালের ছেলে মো. জহির বাবলা (৪৫), মতলব দক্ষিন উপজেলার ঘোড়াধারী এলাকার শাহ আলমের ছেলে মো. আনিছুর রহমান (২৫), একই এলাকার মৃত ওয়াসিম বেপারীর ছেলে মো. রাজু বেপারী (২৫), মৃত শুক্কুর বেপারীর ছেলে মো. রাকিব (২৩) ও মৃত তবদিল হোসেনের ছেলে মো. আমির হোসেন হানজালা (২৫), নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলার চরসিন্দুরের মৃত তাজুল ইসলামের ছেলে কবির হোসেন (৩৫) এবং দিনাজপুর জেলার কোতয়াালী থানার মতুল্লাপুর এলাকার মকবুল হোসেনের ছেলে হামিদুর রহমান (৪১)।

পুলিশ সুপার জানান, কচুয়া পালাখাল ইউনিয়নের ভুঁইয়ারা গ্রামের অটোরিকশা চালক মো. সাব্বির হোসেন গত ২৪ জানুয়ারি বিকেলে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ী থেকে বের হন। এরপর রাতে বাড়ীতে ফিরেননি। পরদিন ২৫ জানুয়ারি তার মা জাহানারা বেগম থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। ওই দিন বিকেলে উপজেলার পালাখাল বাজার হতে নন্দনপুর গামী পাকা রাস্তার দক্ষিণ পাশে সেঙ্গুয়া এলাকার খলিল খন্দকারের কৃষি জমির পাশে কচুরিপানা ভর্তি সরকারী খালের পাড়ে রশি দ্বারা হাত পা বাঁধা এবং সুয়েটার দ্বারা মুখমন্ডল বাঁধা একটি মৃতদেহ পাওয়ার সংবাদে কচুয়া থানা পুলিশ সাব্বিরের পরিবারসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে মৃতদেহটি নিখোঁজ অটোরিক্সা চালক সাব্বির হোসেন এর মর্মে সনাক্ত হয়। পুলিশ হাত-পা ও মুখ বাঁধা এবং ধারালো অস্ত্রের জখম প্রাপ্ত মৃতদেহটি উদ্ধার পূর্বক সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে ময়না তদন্তের জন্য প্রেরণ করে। এই ঘটনায় চালকের মা জাহানারা বেগম পরদিন ২৬ জানুয়ারি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

Model Hospital

মামলাটি গ্রহনের পর কচুয়া থানা পুলিশের একটি চৌকস দল গঠন করে তদন্ত শুরু করে। তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. দেলোয়ার হোসেন রাজিবসহ দলটি তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রথমে আসামী হানজালাকে গ্রেফতার করেন। তার তথ্যের ভিত্তিতে ১২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা পর্যন্ত চাঁদপুর ও নারায়নগঞ্জে অভিযান চালিয়ে বাকী আসামীদের গ্রেফতার করেন। পুলিশ সুপার আরও বলেন, অটোরিকশা চালক সাব্বির হত্যায় জড়িত ছিলেন ৯জন। এর মধ্যে ৭ জন গ্রেফতার হয়েছে। বাকীদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। তারা অন্য কোন অপরাধে জড়িত আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আসামীদেরকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আসামীরা আন্তঃজেলা অটোরিক্সা ছিনতাই চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা নারায়নগঞ্জ, চাঁদপুর, কুমিল্লা ও নরসিংদী জেলার বিভিন্ন স্থানে অটোরিক্সা ছিনতাই এর সাথে জড়িত। পূর্ব পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত ২৩ জানুয়ারি নারায়নগঞ্জ জেলা হতে এই চক্রের ৮ জন সদস্য গ্রেফতারকৃত আসামী হানজালা সহ চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার পালাখাল বাজার হতে নন্দনপুর গামী পাকা রাস্তার মাঝামাঝি ব্রিজে অটোরিক্সা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে অবস্থান নেয়। কিন্তু তারা ঐদিন কোন ঘটনা সংঘটনের সুযোগ না পেয়ে মতলব দক্ষিণের একটি আবাসিক হোটেলে রাত্রীযাপন করে।
পরদিন ২৪ জানুয়ারি পুনরায় একই উদ্দেশ্যে বের হয়ে একই জায়গায় অবস্থান নেয়। এক পর্যায়ে তারা ৩টি গ্রুপে বিভক্ত হয় এবং গ্রেফতারকৃত আসামী হানজালা, রাকিব ও অপর একজনসহ অটোরিক্সা ভাড়া করার জন্য পালাখাল বাজারে গিয়ে জাহাঙ্গীর আলম এর ভ্যারাইটিস স্টোর থেকে ১০ টাকার রশি কিনে নন্দনপুর যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাজারে যাত্রীর জন্য অপেক্ষমান সাব্বিরের অটোরিক্সাটি ভাড়া করে। ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলের দুই পাশে রাস্তার উপর গ্রেফতারকৃত আনিছ ও রাজু পাহাড়ায় দাঁড়ায় এবং গ্রেফতারকৃত বাবলা ও কবিরের নেতৃত্বে অপর ২ সহযোগী পালাখাল বাজার হতে ভাড়া করা অটোরিক্সাটি লুণ্ঠনের উদ্দেশ্যে ওৎ পেতে থাকে। পরিকল্পনা অনুসারে ভাড়া করা অটোরিক্সাটি আনুমানিক ৭টার মধ্যে মূল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে আসামী বাবলা ও কবিরের নেতৃত্বে অটোরিক্সাটি থামিয়ে অন্যান্য সহযোগী আসামীগনসহ ভিকটিম সাব্বির হোসেনকে অটোরিক্সা হতে টানা হেচড়া করে রাস্তার ঢালে নিয়ে পালাখাল বাজার হতে ক্রয়কৃত রশি দ্বারা তার হাত-পা ও সুয়েটার দ্বারা মুখমন্ডল বেঁধে ছুরিকাঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়। এরমধ্যে গ্রেফতারকৃত আসামী রাকিব ভিকটিম সাব্বির হোসেন এর ছিনতাইকৃত অটোরিক্সাটি চালিয়ে হানজালাসহ গৌরিপুর গিয়ে সকল আসামীগণ পুনরায় একত্রিত হয় এবং অটোরিক্সাটি নিয়ে নারায়নগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলাধীন ঝালকুড়িতে নিয়ে যায়। হত্যাকান্ডের ঘটনাটি জানাজানি হলে ২ দিন পর আসামীরা অটোরিক্সার ব্যাটারী, বডি ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ খুলে সর্বমোট ৪৫ হাজার টাকায় বিক্রয় করে নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেয়।

অভিযানের বিভিন্ন পর্যায়ে গ্রেফতারকৃত আসামী রাজু বেপারীর স্বীকারোক্তি মতে নারায়নগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন ঝালকুড়িস্থ তার বসত ঘর হতে ভিকটিম সাব্বির হোসেন এর লুন্ঠিত মোবাইল ফোন, উল্লিখিত ধৃত আসামীদের স্বীকারোক্তি ও দেখানো মতে নারায়নগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন মিজমিজি গ্রামস্থ ধৃত আসামী ভাঙ্গারী দোকানদার হামিদুর রহমান এর ভাড়া ঘর হতে লুন্ঠিত ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সার ৩টি চাকা, ১টি ডিফারেনন্সিয়াল, ২টি ইন্ডিকেটর লাইটযুক্ত ১টি হেড লাইট সেট এবং একই পাড়ার জনৈক মোঃ জাহিদুল ইসলাম এর অটোরিক্সা গ্যারেজ হতে আসামী হামিদুর রহমান এর দেখানো ও উপস্থাপন মতে লুন্ঠিত ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সার ১২০০ ওয়াটের ১টি বৈদ্যুতিক মটর ও ১টি বৈদ্যুতিক কন্ট্রোল প্যানেল বক্স ধৃত আসামী জহির প্রকাশ বাবলা (৪৫) এর স্বীকারোক্তি ও দেখানো মতে এবং ধৃত আসামী রাকিবের সনাক্ত মতে চাঁদপুরের কচুয়া থানাধীন সংঘটিত হত্যাকান্ডের ঘটনাস্থল হতে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ১টি ৮ ইঞ্চি লম্বা প্লাষ্টিকের বাটযুক্ত ধারালো ছোরা উদ্ধার পূর্বক জব্দ করা হয়।

প্রেস ব্রিফিংকালে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাশেদুল হক চৌধুরী, সহকারী পুলিশ সুপার (কচুয়া সার্কেল) মো. রিজওয়ান সাঈদ জিকু, কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমের বিভিন্ন পর্যায়ের সাংবাদিকগণ।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাছুয়াখাল জমাদার বাড়িতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করেছেন ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তিনি। এসময় তিনি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করেন। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদেরও সমন্বয় করা উচিত। যে কোনো দুর্যোগে খাদেরগাঁও ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকার জন্য আমি প্রস্তুত আছি।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Model Hospital

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।