শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

জিলানী চিশতী কলেজে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ১০:০৬ পিএম
জিলানী চিশতী কলেজে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত

চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ঐতিহ্যবাহী শাহ্তলী জিলানী চিশতী কলেজের আয়োজনে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

১৫ ফেব্রুয়ারী (বৃহস্পতিবার) সকাল সাড়ে ১০টায় জিলানী চিশতী কলেজ মিলনায়তনে কলেজ অধ্যক্ষ মো: হারুন-অর রশিদ এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, কলেজ গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান এবং দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী।

প্রধান অতিথি কলেজ গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান এবং দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী বক্তব্যে বলেন, প্রতিবছর আমরা এ অভিভাবক সমাবেশটি করে থাকি, যাতে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার মান উন্নয়ন হয়। শিক্ষক ,অভিভাবক, শিক্ষার্থীদের সমন্বয়েই শিক্ষা কার্যক্রম। সামনে তোমাদের কলেজে নির্বাচনী পরীক্ষা এবং এর পরেই এইচএসসি নির্বাচনী পরীক্ষা। এ পরীক্ষায় সকলকে অংশগ্রহন করতে হবে। এ সময়ে নিয়মিত ক্লাস নিশ্চিত করতে হবে ।

এইচএসসি পরীক্ষা তোমাদের লাইফের জন্য গুরুত্বপূর্ন ধাপ। এ ধাপ পেরুলেই একজন শিক্ষার্থীর ঝড়ে পড়ার সম্ভাবনা কমে যায়। উচ্চ শিক্ষার জন্য প্রস্তুত হওয়ার ধাপ। পড়ালেখার ক্ষেত্রে অভিভাবকদের ভূমিকাই মুখ্য। যারা নির্বাচনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবে না, তাদের বোর্ডের নীতিমালা অনুযায়ী এইচএসসি বোর্ড পরীক্ষায় অংশগ্রহনের জন্য ফরম পূরন করার সুযোগ থাকবে না । পরীক্ষার আগ পর্যন্ত ফেসবুক থেকে দূরে থাকতে হবে ।

Model Hospital

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে ইউনিফর্ম। তোমাদের কলেজ ড্রেস পড়ে কলেজে আসতে হবে। ভালো ফলাফলের জন্য আপনারা আমাদের সু-পরামর্শ দিবেন। যাতে আমরা শিক্ষার্থীদের সে ভাবে তৈরি করতে পারি। সবসময় শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নিবেন। এ কলেজে সকল বিষয়ে মেধাবী শিক্ষক রয়েছে। গত বছর এইচএসসি পরীক্ষায় ৭জন জিপিএ-৫সহ সাফল্যজনক ফলাফল অর্জন করেছে। এ ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে। আপনারা আপনাদের সন্তানদের নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহন নিশ্চিত করতে হবে। আমরা সবসময় শিক্ষার্থীদের পাশে আছি। এ কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করে, বর্তমানে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উচ্চ শিক্ষা গ্রহন করছে। তোমরাও চেষ্টা করলে পারবে, তাই তোমাদের ভালো ফলাফল করার চেষ্টা করতে হবে।

২৯নং উত্তর শাহতলী যোবাইদা বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও গভনির্ং বডির সদস্য মো: আবুল কালাম আজাদ ও কলেজের প্রভাষক মো: জহিরুল ইসলাম খান মুরাদ এর যৌথ পরিচালনায় আরো বক্তব্য রাখেন, কলেজের সহকারি অধ্যাপক মো: গোলাম সারওয়ার, সহকারি অধ্যাপক মো: কামরুল হাসান, সহকারি অধ্যাপক ফারজানা আক্তার, সহকারি অধ্যাপক মো: জিয়াউর রহমান, সহকারি অধ্যাপক মো: হানিফ মিয়া, প্রভাষক মো: মানিক মিয়া, সিনিয়র প্রভাষক ও গভনির্ং বডির শিক্ষক প্রতিনিধি মিসেস নুরুন্নাহার বেগম মুক্তা, প্রদর্শক ও গভনির্ং বডির শিক্ষক প্রতিনিধি মো: মুঞ্জুর হোসেন পাটওয়ারী ।

অভিভাবকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, অভিভাবক হাছিনা বেগম, অভিভাবক মো: মোস্তাফিজুর রহমান, অভিভাবক রোকসানা বেগম।

এসময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, কলেজের প্রভাষক মো: মো: হাবিবুর রহমান, প্রভাষক মো: শাহাদাৎ হোসেন, প্রভাষক মো: মাহবুবুর রহমান, প্রভাষক মোসা: মনোয়ারা খাতুন, প্রভাষক ফরিদা ইয়াছমিন, সহকারি শিক্ষক নাছরীন আক্তার, সহকারি শিক্ষক ও গভনির্ং বডির শিক্ষক প্রতিনিধি হালিমা আক্তার, কলেজ অফিস ইনচার্জ মো: রানা সরকার, হিসাব সহকারি মো: মেহেদী হাসান ।

উল্লেখ্যযোগ্য অভিভাবকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অভিভাবক মো: অলি আহমেদ মিজি, অভিভাবক খদেজা বেগম, অভিভাবক জাহানারা বেগম, অভিভাবক মো: জাহাঙ্গীর বেপারী, অভিভাবক মো: জাকির মিজি, অভিভাবক রাবেয়া বেগম, অভিভাবক মো: জহির ইসলাম, অভিভাবক রেহানা বেগম, অভিভাবক সালেহা বেগম, অভিভাবক হাসিম গাজী, অভিভাবক মো: দুলাল খান, অভিভাবক মো: খলিলুর রহমান, অভিভাবক মো: ইয়াছিন খান, অভিভাবক ফিরোজা আক্তার, অভিভাবক মো: জাহাঙ্গীর আলমসহ অভিভাবক ও শিক্ষকবৃন্দ। সমাবেশে প্রায় ৮০জন অভিভাবক উপস্থিত ছিলেন ।

সমাবেশে কলেজের ২০২৪ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রাক নির্বাচনী পরীক্ষার ফলাফল আনুষ্ঠানিক ভাবে ফলাফল শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করেন কলেজ গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান এবং দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী ও অধ্যক্ষ মো: হারুন-অর রশিদ।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য রাখেন কলেজ অধ্যক্ষ মো: হারুন-অর রশিদ। তিনি বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষনা করেন। শুরুতেই পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন কলেজের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক মাও. ছোহাইল আহমাদ চিশতী।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’